দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া সূক্ষ্ম লিঙ্গবৈষম্য (Subtle Sexism) অনেক সময়ই তুচ্ছ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এসব আপাতদৃষ্টিতে ছোট ঘটনা দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর মানসিক ও স্নায়ুবৈকল্যজনিত প্রভাব ফেলতে পারে—এমনকি মস্তিষ্কের কিছু অংশের গঠনগত পরিবর্তনের সঙ্গেও এর সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের বেলায় রাস্তায় হাঁটার সময় অযাচিত মন্তব্য বা দৃষ্টি নারীদের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপের জন্ম দেয়। এমন পরিস্থিতিতে শরীর স্বাভাবিকভাবেই আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়ায় চলে যায়—হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, শরীর কেঁপে ওঠে এবং ব্যক্তি নিজেকে ভীত ও অসহায় অনুভব করেন।
অনেক নারীই নিরাপত্তার জন্য অন্ধকারে হাঁটার সময় হাতে চাবি শক্ত করে ধরেন কিংবা আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ নেন। এসব আচরণ প্রমাণ করে, দৈনন্দিন লিঙ্গবৈষম্য নারীদের জীবনে কতটা গভীরভাবে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।
যেসব ক্ষেত্রে অযাচিত যৌন মনোযোগ তাৎক্ষণিক বিপজ্জনক মনে হয় না, সেসব ঘটনা প্রায়ই গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া হয়। তবে গবেষণা বলছে, এমন অভিজ্ঞতা বারবার ঘটলে তা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এই মানসিক চাপ উদ্বেগ, অনিদ্রা, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি এবং দীর্ঘমেয়াদে স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গবেষকদের মতে, সূক্ষ্ম লিঙ্গবৈষম্যের মূল উৎস নারী ও পুরুষের মধ্যে ক্ষমতা, সামাজিক মর্যাদা ও সম্পদের অসম বণ্টন। এ বিষয়ে গবেষক প্যাট্রিসিয়া হোম্যান বলেন,
“এটি মূলত নারী ও পুরুষের মধ্যে ক্ষমতা, অবস্থান এবং সম্পদের ভারসাম্যহীনতার প্রতিফলন।”
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সূক্ষ্ম লিঙ্গবৈষম্যকে শুধু সামাজিক সমস্যা হিসেবে নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক স্বাস্থ্য ইস্যু হিসেবে দেখা জরুরি। এসব আচরণকে স্বাভাবিক বা তুচ্ছ ভাবা হলে এর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি আরও গভীর হয়।
সূত্র: বিবিসি নিউজ
প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। মনেরখবর-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য মনেরখবর কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।
সিরিয়ালের জন্য ভিজিট করুন- এপোয়েন্টমেন্ট
আরও দেখুন-


