দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, নানা দায়িত্ব ও চিন্তার চাপে কোনো একটি কাজে দীর্ঘসময় মনোযোগ ধরে রাখা অনেকের কাছেই কঠিন হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের কাজ ও চারপাশের মানুষের সঙ্গে উপস্থিত থেকেও মানসিকভাবে অন্যদিকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
এই সমস্যাকে কেন্দ্র করেই নতুন ধরনের পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটলাস’। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ‘অ্যাটলাস ১.০’ এমন একটি ছোট সেন্সর, যা কানের পেছনে ত্বকের সঙ্গে লাগিয়ে ব্যবহার করা যায়। ডিভাইসটির লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীর মনোযোগ, মানসিক চাপ এবং নির্দিষ্ট সময়ে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্সরটি কানের পেছনে বিশেষ আঠালো প্যাডের মাধ্যমে স্থির থাকে। এটি মস্তিষ্কের তরঙ্গের পাশাপাশি ত্বকের ইলেকট্রোডার্মাল কার্যকলাপ, শরীরের নড়াচড়া এবং কণ্ঠস্বরের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য থেকে তথ্য সংগ্রহ করে।
সংগৃহীত তথ্য পরে অ্যাটলাসের নিজস্ব অ্যালগরিদম বিশ্লেষণ করে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কতটা মনোযোগী ছিলেন, মানসিক চাপের মধ্যে কীভাবে কাজ করছিলেন এবং চাপের পরিস্থিতির সঙ্গে কত দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছিলেন—এসব বিষয়ে একটি ধারণা পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, আপনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, কিন্তু একই সময়ে অন্য কোনো চিন্তা বা উদ্বেগে মানসিকভাবে ব্যস্ত রয়েছেন কি না, সেটিও শনাক্ত করার চেষ্টা করবে প্রযুক্তিটি।
বর্তমানে অ্যাটলাসের অ্যাপটি শুধু আইওএস ডিভাইসে ব্যবহার করা যায়। অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা দিনের বিভিন্ন সময়ে তাদের মনোযোগ ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। পাশাপাশি কোন সময়ে বা কোন ধরনের পরিবেশে নিজের কর্মক্ষমতা ভালো থাকে, সেটিও ধীরে ধীরে শনাক্ত করার সুযোগ থাকবে।
অ্যাটলাসের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কোন পরিবেশ, অভ্যাস বা পরিস্থিতি তাদের মনোযোগ ও কর্মক্ষমতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে তা চিহ্নিত করা। এসব তথ্য পরবর্তীতে নিজের কাজের ধরন ও দৈনন্দিন রুটিন আরও কার্যকরভাবে সাজাতে কাজে লাগতে পারে।

ডিভাইসটিতে কণ্ঠস্বরের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের ব্যবস্থা থাকায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে কোম্পানির দাবি, অ্যাটলাস ১.০ ব্যবহারকারীর কথোপকথনের অডিও সংরক্ষণ করে না। বরং কথা বলার সময়কার সক্রিয়তা ও কণ্ঠস্বরের ধরন বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থার কিছু বৈশিষ্ট্য বোঝার চেষ্টা করে।
প্রযুক্তিটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি মানুষের লক্ষ্য অর্জন বা জীবনযাত্রার উন্নতিতে ঠিক কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
তবে ব্যক্তিগত কর্মক্ষমতা ও দৈনন্দিন অভ্যাসের ছোটখাটো পরিবর্তনেও যারা নজর দিতে চান, তাদের লক্ষ্য করে ডিভাইসটির প্রি-অর্ডার নেওয়া শুরু করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
অ্যাটলাস ১.০ কিনতে প্রাথমিকভাবে খরচ হবে ৫০০ মার্কিন ডলার। পাশাপাশি সেন্সর ও প্রয়োজনীয় আঠালো প্যাড ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে ৩০ ডলার সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে।


