একটি শিশু জন্মের পর পরিবারই তার সকল চাহিদা মেটানোর উৎসে পরিণত হয়। একজন বাড়ন্ত শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য যা যা দরকার প্যারেন্টসদের সেদিকে লক্ষ রাখা প্রয়োজন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সেসব চাহিদা পূরণ করা বাঞ্ছনীয়। শিশুর মৌলিক চাহিদার (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা) পাশাপাশি ধীরে ধীরে যুক্ত হতে থাকে আরও কিছু নতুন বায়না। বাচ্চাদের আবদারের কোনো শেষ নেই এবং নিত্য নতুন জিনিসের প্রতি তাদের আগ্রহের যেন কোনো কমতি নেই। চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রত্যেক বাবা-মায়ের তাদের সন্তানদের শেখানো দরকার কোনটা প্রয়োজন আর কোনটা তাদের খেয়াল বা ইচ্ছা। যদি সবসময় শিশুর আবদারের সাথে সম্মতি প্রদান করা হয় তাহলে দিন দিন তাদের চাহিদা বাড়তে থাকবে। একই সাথে যদি শিশুর সবকিছুতে ‘না’ বলা হয় তখন তাদের মাঝে নেতিবাচকতা দেখা দিতে পারে যা তার বিকাশের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি বাবা-মা বা কেয়ারগিভারদের সাথে দূরত্বও তৈরি হতে পারে। এক্ষেত্রে কিছু উপায় বা কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে যেমন-শিশুর সব কাজে ভেটো না দিয়ে বরং তাকে শেখানো যেতে পারে সে কী করবে এবং কী করবে না যা একটি শিশুর সুস্থ সুন্দরভাবে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে প্রয়োজন।
প্রয়োজন এবং চাহিদার মধ্যে পার্থক্য বোঝানো
শিশুকে তার কোন জিনিসটি প্রয়োজন এবং কোনটি তার চাহিদা দুটোর মধ্যে সূক্ষ্ম যে পার্থক্য রয়েছে সেটা বোঝাতে হবে। সবসময় সকল আবদার যে রক্ষা করা সম্ভব না সে ব্যাপারে তাদের লেসন দিতে হবে নয়ত ধৈর্যের মতো বিশেষ গুণ এবং কঠোর পরিশ্রম তারা শিখবে না। চাওয়া মাত্রই যদি তারা সব পেয়ে যায় তাহলে কোনো কিছু পেতে হলে বা অর্জন করতে হলে যে কঠোর পরিশ্রম ও একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাওয়া দরকার সেটা তারা উপলব্ধি করতে পারবে না।
বাস্তব জগতের মাঝে সুখ অনুসন্ধান
শিশুদের বস্তুবাদী জগতের চেয়ে বাস্তব জগতের সাথে সম্পর্কযুক্ত কাজে জড়িত করার চেষ্টা করুন। কেননা শিশুরা যদি বস্তুবাদী জিনিসে আনন্দ খোঁজা শুরু করে তাহলে তারা বাস্তব জগতের প্রকৃত চিত্র এবং মূল্যবোধগুলো ভুলে যেতে পারে যা পরবর্তিতে তাদের বাস্তব জগতের সাথে খাপ খাওয়াতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন…
ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ
প্রত্যেক পিতামাতাই চান তার সন্তান সবকিছু পারফেক্টলি করুক এবং যদি কোনো ভুল হয়ে যায় তখন তারা সেটার জন্য নিজেদের দায়ী করেন। এটা না করে বাবা-মায়ের তাদের সন্তানদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য উৎসাহ দেয়া উচিত এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা উচিত। যদি পিতমাতা নিজেরা সব করে দেন তাহলে শিশুরা আত্মনির্ভরশীল হতে শিখবে না।
মানসিক পরিপক্বতা অর্জনে কাজ করা
পিতামাতার উচিত সন্তানের আবেগ নিয়ে কাজ করা এবং ইতিবাচক ও নেতিবাচক জিনিসগুলোর মধ্যে পার্থক্য তৈরিতে সহায়তা করা। যখন একজন সন্তানের আবেগ নিয়ে কাজ করা হবে তখন খুব সহজে তারা তাদের প্রয়োজন এবং চাহিদার মধ্যে পার্থক্যটা বুঝতে সক্ষম হবে। যত দ্রুত শিশুর আবেগ নিয়ে কাজ করা হবে তত দ্রুত তাদের মধ্যে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ বিকাশ লাভ করবে। ফলশ্রুতিতে, তাদের মধ্যে অন্য দক্ষতাগুলোও বিকশিত হওয়ার পথ তৈরি হবে।
- রওশন আরা পারভেজ
- প্রভাষক, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং সাইকোলজিক্যাল ফার্স্ট এইড বিষয়ক মাস্টার ট্রেইনার।



