রং হলো আনন্দের সংকেত : মুস্তাফা খালিদ পলাশ

[int-intro]তারকা স্থপতি, চিত্রকর ও সঙ্গীতশিল্পী তিনি। চিত্রশিল্পী হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তৈরি করেছেন বসুন্ধরা সিটি, বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার, হোটেল ওয়েস্টইন, হোটেল রাডিসন বে ভিউ, ল্যাব এইড কার্ডিয়াক, গ্রামীণ ফোন হেডকোয়ার্টার, বাংলা লিংক হেড কোয়ার্টারসহ অসংখ্য স্থাপনা। প্রকাশ করেছেন রবীন্দ্রসঙ্গীতে বেশ কয়েকটি এ্যালবাম। তিনি মুস্তাফা খালিদ পলাশ। মনের খবর পাঠকের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানাচ্ছেন তাঁর মনের কথা, স্থাপনার কথা, ছবি আঁকার কথা, জীবনবোধের কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মদ মামুন। [/int-intro]
[int-qs]আপনার কাছে স্থাপত্যের সংজ্ঞা কী?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]স্থাপত্য হলো এক প্রকার ব্যবহারিক শিল্প। এটি এমন একটি শিল্প যার ভেতরে আমরা প্রবেশ করতে পারি এবং যার ভেতরে আমরা বসবাস করতে পারি।[/int-ans]
[int-qs]স্থাপত্য, চিত্রকলা ও সঙ্গীত এই তিনের সাথে কোন সম্পর্ক আছে কি?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]সব শিল্পের সাথেই সব শিল্পের সম্পর্ক থাকে। চিত্রকলার সাথে স্থাপত্যের সম্পর্ক আরও নিবিড়। স্থাপত্যবিদ্যায় ভর্তি হতে যে পরীক্ষা নেয়া হয় সেখানেও ছবি আঁকার হাত কেমন সেটিকে আগে গুরুত্ব দেয়া হয়। স্থাপত্যের সাথে ছবি আঁকার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে মাধ্যমে একটা স্থাপত্য তৈরি হয় সে মাধ্যমটা হলো ছবি।[/int-ans]
[int-qs]আর সঙ্গীতের সাথে?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]স্থাপত্যকে বলা হয় ‘ফ্রোজেন মিউজিক’। সঙ্গীত যেমন তাল, লয়, ছন্দ এসব নিয়ে তৈরি হয়, স্থাপত্যের ব্যাপারটিও তেমন, তারও নিজস্ব কিছু তাল, লয়, ছন্দ আছে। সে ছন্দগুলোকে আপাতভাবে আমরা হয়তো দেখতে পাই না কিন্তু আমাদের স্থপতিদের সে তাল লয় ছন্দ মেনেই কাজ করতে হয়।[/int-ans]
[int-quote]আমাদের আর্কিটেকচার আসলেই ভালো। বিশ্বমানের কাজ হয় আমাদের এখানে। আমাদের স্থপতিরা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় পুরষ্কার পায়। আমরা বাঁশ বেত দিয়েও কাজ করি, মাটি দিয়েও কাজ করি, ইট দিয়ে কাজ করি, স্টিল দিয়ে কাজ করি, কংক্রিট দিয়েও কাজ করি। আমরা যে মানের কংক্রিটের কাজ করি একমাত্র জাপান ছাড়া এই মানের কাজ বিশ্বের আর কোথাও নেই। এমনকি পাশের দেশ ভারতেও নেই। আমাদের কনস্ট্রাকশন কোয়ালিটিও অনেক ভালো। সব মিলিয়ে আমি আমার জাতিকে নিয়ে গর্বিত এবং গর্ব করার মতই জাতি আমরা।[/int-quote]
[int-qs]স্থাপত্য, চিত্রকলা, গান, মিউজিক এর মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে আপনার প্রিয় মাধ্যম কোনটি?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]প্রিয় মাধ্যম হলো ছবি আঁকা।[/int-ans]
[int-qs]কেন?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]ছবি আঁকাটা সম্পূর্ণ স্বাধীন। ছবিতে আপনি আপনার মনের ভাব ইচ্ছা সব স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারেন। ছবি আঁকার ক্ষেত্রে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এদিক থেকে বিল্ডিং-এর কাজ করতে গেলে অনেক চাহিদার দিকে লক্ষ্য রাখতে হয়। সে চাহিদা হতে পারে সামাজিক চাহিদা, পারিবারিক চাহিদা, ব্যক্তিগত চাহিদা। নিজের মনের মাপে নয় বরং আরেকজনের শরীরের মাপে জামা বানানোর মত। যার কারণে এই কাজগুলো করতে গিয়ে মনে হয় পরাধীনের মত কাজ করছি।[/int-ans]
[int-qs]সঙ্গীতের ব্যাপারটাও তো অনেকটা পরাধীনই বলা চলে?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]হ্যাঁ, সঙ্গীত হলো অনেকটা আরেকজনের সৃষ্টির উপর ভর করে চলা। আমরা চাইলেই সঙ্গীতের একটি সুরকে পাল্টাতে পারি না। কিন্তু সে সৃষ্টি যে এমন সৃষ্টি হয় যা নিজেকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে বা নিয়ে যেতে পারে নিজের অনেক গভীরে তাহলে সেটি আরেক ধরণের আবেদন তৈরি করে।[/int-ans]
[int-qs]সঙ্গীতে আগ্রহী হলে কীভাবে?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের সাথে আমার যোগাযোগ। ছায়ানটে পাঁচ বছর সেতার শিখেছি। তারপর উস্তাদ আবিদ হোসেন খান, উস্তাদ খুরশিদ খানের কাছে তালিম নিয়েছি সেতারে। অনেক যন্ত্রই বাজাই আর তার সাথে গানও করছি। গান করছি অবশ্য অন্য কারণে, গান গাই রবীন্দ্রনাথের জন্য। রবীন্দ্রনাথের গানগুলো আমার মনে দোলা দেয়, যেন আমি কোথাও হারিয়ে যেতে পারি। নিজের ভেতরের নিজেকে খুঁজে ফেরা।[/int-ans]
[int-qs]অর্থাৎ নিজের ভেতরের মানুষটিকে স্পর্শ করা?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]প্রত্যেক মানুষের ভেতরেই একটি অন্বেষা থাকে। সবচেয়ে বড় অচেনা মানুষটি তো নিজের ভেতরেই বাস করে। নিজেকে চেনার এই প্রক্রিয়া আমাদের অবচেতনে থেকেই যায়। এই অবচেতন মনের বিষয়টি সবসময়ই জটিল এবং ব্যাখ্যা পাওয়াটাও মুশকিল। এই ব্যাখ্যাহীন জায়গায় নিজেকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা প্রত্যেকটা মানুষেরই থাকে।[/int-ans]
[int-qs]বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব অনেক। এর কারণটা কী হতে পারে বলে মনে করেন?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]পজিটিভ অর্থেই বলছি কিন্তু কথাগুলো নেগেটিভ শোনাবে। রবীন্দ্রনাথ অসম্ভব করম বাজার মার্কেটিজম বা বাজার অর্থনীতি বুঝতেন বা বুঝতে হয় অনেক সময়। রবীন্দ্রনাথ নিজেকে ব্র্যান্ডিং করেছেন। তাঁর সৃষ্টির দীর্ঘকালীন স্থায়ীত্ব নিশ্চিত করেছেন।। তাঁর সৃষ্টির পাশাপাশি তিনি একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। সে প্রতিষ্ঠানে তিনি অনেক শিষ্য তৈরি করেছেন যাঁরা তাঁর গান, কবিতা, নাটক, উপন্যাস সব তুলে ধরেছেন এবং খুব শক্তভাবে পঞ্চাশ বছর সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন। এছাড়া রবীন্দ্রনাথের কর্মক্ষমতাও ছিল অবিশ্বাস্য রকমের বেশি। ৭১ বছর বয়সে ছবি আঁকা শুরু করেছেন এবং ৮/৯ বছরের মধ্যেই তিনি চার হাজার ছবি এঁকেছেন। তিনি খুব বুঝেশুনে পদক্ষেপ নিতেন। এ অঞ্চলে আর কেউ যে কাজ করেনি তেমনটাও নয়। অনেকেই অনেক ভালো ভালো কাজ করেছেন কিন্তু তার পরিমাণ কম দেখে সেভাবে তাঁদের পাচ্ছিনা আমরা। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাজগুলোকে খুব সুন্দরভাবে সবার মাঝে স্থাপন করে গেছেন।[/int-ans]
[int-qs]স্থাপত্যেও আমরা যুগে যুগে বিভিন্ন সৃষ্টিশীলতা ও নান্দনিকতা দেখতে পাই?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]সত্যিকারের নান্দনিকতা আমাদের প্রকৃতি দিতে পারে। প্রকৃতির নান্দনিকতা তৈরি হয় ভারসাম্যের উপর। ফুল সুন্দর, ফুলের গন্ধ সুন্দর এর সাথে জড়িত প্রজনন ভারসাম্যের। গাছ তার শেকড় দিয়ে বা শাখা বিস্তার করে নিজের ভারসাম্য রাখছে এবং জৈবিক ক্রিয়া চালাচ্ছে। মনুষ্যসৃষ্ট কোনকিছুতে যখন ভারসাম্য থাকে তখন সেটি নান্দনিক হয়। শুধু স্থাপনা নয় একটি গাড়ি যেটি রাস্তায় চলার জন্য ব্যবহৃত হয় সেটিতেও আমরা নান্দনিকতা দেখতে পাই। নান্দনিকতা থাকবেই। সৃষ্টিশীলতার ক্ষেত্রেও একই কথা। এবং এর মাঝে স্থাপত্য হলো অনেক পেছনের সারির একটা ব্যাপার। আবার এটাও সত্য স্থাপত্য কখনও কখনও কবিতার থেকেও সুন্দর হয়ে উঠে। যেমন, আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন যে মাত্রার শিল্প তা স্থাপত্যকে ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু এমন কাজ করার সুযোগ সব সময় থাকে না। আমরা যেটা করি সেটা ইউটিলিটিয়ান আর্কিটেকচার, কিন্তু সংসদ ভবনের মত স্থাপনা ইউটিলিটিয়ান না, এটা শুধুই আর্কিটেকচার। এমন কাজ হয়তো লাখে একটা পাওয়া যেতে পারে।[/int-ans]
[int-qs]ছবি আঁকার ক্ষেত্রে কোন ধারাটি আপনার পছন্দ?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]দু’ধরনের ধারা রয়েছে। একদিকে আমরা ইজম যেটাকে বলি। যেমন পয়েন্টালিজম, এক্সপ্রেশনলিজম, ইমপ্রেশনলিজম, কিউবিজম ইত্যাদি। আবার অঞ্চল ভিত্তিক যেমন অরিয়েন্টাল আর্ট বা ইন্ডিয়ান আর্ট। আবার অঞ্চলভিত্তিক আর্টগুলোতেই ইজমটা কাজ করতে পারে। ইজমটা মূলত সময়ের সাথে সাথে আন্দোলনের মতো আসে। এখন যেমন হিউম্যানিজম নিয়ে প্রচুর কাজ হচ্ছে। সুররিয়ালিজম নিয়েও কাজ হচ্ছে কিন্তু কম। তুলনামূলক অ্যাবস্ট্রাক্ট বা বিমূর্ত মাধ্যমে কাজ করতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি এবং এটাতেই বেশি কাজ করি।[/int-ans]
[int-qs]ছবি আঁকার ক্ষেত্রে কোন ধারাটি আপনার পছন্দ?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]দু’ধরণের ধারা রয়েছে। একদিকে আমরা ইজম যেটাকে বলি। যেমন পয়েন্টালিজম, এক্সপ্রেশনলিজম, ইমপ্রেশনলিজম, কিউবিজম ইত্যাদি। আবার অঞ্চল ভিত্তিক যেমন অরিয়েন্টাল আর্ট বা ইন্ডিয়ান আর্ট। আবার অঞ্চলভিত্তিক আর্টগুলোতেই ইজমটা কাজ করতে পারে। ইজমটা মূলত সময়ের সাথে সাথে আন্দোলনের মতো আসে। এখন যেমন হিউম্যানিজম নিয়ে প্রচুর কাজ হচ্ছে। সুররিয়ালিজম নিয়েও কাজ হচ্ছে কিন্তু কম। তুলনামূলক অ্যাবস্ট্রাক্ট বা বিমূর্ত মাধ্যমে কাজ করতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি এবং এটাতেই বেশি কাজ করি।[/int-ans]
[int-qs]প্রিয় চিত্রশিল্পী কে?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]আলাদাভাবে বলার মত পছন্দের কেউ নেই। সবারই কিছু কাজ ভালো লাগে আবার কিছু কাজ ভালো লাগে না। একজন চিত্রশিল্পীর পরিচয় শুধু চিত্রকলা দিয়ে নয়, তার সার্বিক জীবন যাপন দিয়েই তাঁর পরিচয়। ভ্যানগক শুধু চিত্রকলা দিয়েই ভ্যানগক নয়। আলাদাভাবে প্রিয় চিত্রশিল্পী হিসেবে ভিঞ্চিকে আমার অত্যন্ত পছন্দের। শুধু একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে তিনি আমার পছন্দের তেমনটি নয়। একজন বহুমুখী চিন্তার অধিকারী হিসেবে ভিঞ্চিকে আমার ভালো লাগে। [/int-ans]
[int-qs]এদেশের শিল্পীদের মধ্যে?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]এদেশেও অনেক প্রিয় শিল্পী আছেন, বিশেষ কারো কারো নাম বলা মুশকিল। এদেশের শিল্পীদের নিয়ে আমি গর্ববোধ করি। তৃতীয় বিশ্বের তলানির দিকের দেশ হয়েও শিল্প সাহিত্য বা স্থাপত্যে আমাদের অবস্থান এই উপমহাদেশের অনেক ওপরের দিকে অবস্থান করছে।  [/int-ans]
[int-qs]এই উপমহাদেশের বাইরেও বাংলাদেশের স্থাপত্যের উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা হয়? [/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]আমাদের আর্কিটেকচার আসলেই ভালো। বিশ্বমানের কাজ হয় আমাদের এখানে। আমাদের স্থপতিরা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় পুরষ্কার পায়। আমরা বাঁশ বেত দিয়েও কাজ করি, মাটি দিয়েও কাজ করি, ইট দিয়ে কাজ করি, স্টিল দিয়ে কাজ করি, কংক্রিট দিয়েও কাজ করি। আমরা যে মানের কংক্রিটের কাজ করি একমাত্র জাপান ছাড়া এই মানের কাজ বিশ্বের আর কোথাও নেই। এমনকি পাশের দেশ ভারতেও নেই। আমাদের কনস্ট্রাকশন কোয়ালিটিও অনেক ভালো। সব মিলিয়ে আমি আমার জাতিকে নিয়ে গর্বিত এবং গর্ব করার মতই জাতি আমরা।[/int-ans]
[int-qs]স্থপতিদের এত প্রশংসার ভীড়ে আমাদের শহরের চিত্রগুলো ম্লান কেন?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]অনেকগুলো কারণ আছে। আমাদের পর্যাপ্ত ল্যান্ডস্কেপ নেই, মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে গেছে। নব্বইয়ের দশকে এই ঢাকা শহরে যে পরিমাণ মানুষ বাস করতো এখন সেটা তিন থেকে চার গুণ বেড়ে গেছে। এই যে এতগুলো লোক বেড়ে গেলো তাদের বসবাসের জন্য উপযুক্ত আইন এবং পরিকল্পনা করা হয়নি। শেষে এসে ২০০৭/৮ এর দিকে সরকার একটা আইন করলো যেখানে অর্ধেক জায়গা খালি রাখা এবং বাচ্চাদের খেলার মাঠ তৈরির কথা বলা হলো।[/int-ans]
[int-qs]কিন্তু শহরে পর্যাপ্ত মাঠ আমরা এখনও পাচ্ছি না। যে মাঠগুলো ছিলো সেগুলোও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]এগুলো দেখার দায়িত্ব সরকারের, এমনকি খেলার মাঠ রাখার দায়িত্বও সরকারের। কিন্তু আমরা কী দেখছি- খেলার মাঠ বন্ধ করে সেখানে হাইরাইজ বিল্ডিং হচ্ছে। আমরা যখন স্কুলে পড়েছি তখন মাঠ ছাড়া স্কুল কল্পনাও করা যেতো না। কিন্তু এখন দেখছি একটা বাসা ভাড়া নিয়েই কেউ স্কুল বানিয়ে দিলো। সরকার কেন এগুলোর অনুমোদন দিচ্ছে? সরকার এক সময় এগুলোকে এত পরিমাণ অনুমোদন করেছে যে এখন সেটি পয়েন্ট অব নো রিটার্নের জায়গায় চলে গেছে। গলির মোড়ে একটা বিল্ডিং তার নিচে নানা ধরণের দোকান সেখানে আপনি একটা ইউনিভার্সিটি এলাউ করা হলো। কেন? যদিও এখন সরকার একটা নিয়ম করেছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নুন্যতম পাঁচ বিঘা জমি লাগবে। কিন্তু এটাও তো অনেক কম, আর যদিও নিয়ম করা হলো সেটা আগেই করার দরকার ছিলো।[/int-ans]
[int-img name=””]https://monerkhabor.com/wp-content/uploads/2017/08/mkp-2.jpg[/int-img]
[int-qs]ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে আসি। মনের অবস্থা আপনার কাজকে কীভাবে প্রভাবিত করে? [/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]কাজ করতে হলে আমার মন ভালো থাকতে হয়, মন খারাপ হলে আমি কিছু করতে পারি না। তাই মন খারাপের ব্যাপারটা আমি এড়িয়ে চলি। মন খারাপ হলে সবচাইতে বেশি যে সমস্যাটি হয় ছবি আঁকাটা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়। প্রতিটা রং হলো আনন্দের সংকেত।  [/int-ans]
[int-qs]রাগ হয়?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]আগে অল্পতেই উত্তেজিত হতাম। এখন আর রাগ করিনা।  [/int-ans]
[int-qs]রাগ নিয়ন্ত্রণ করেন কীভাবে?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য আমি ডুডলিং করি। ডুডল আর্টের উপর আমার একটি বইও বেরিয়েছে। [/int-ans]
[int-qs]আপনার কাছে ব্যক্তি মুস্তাফা খালিদ পলাশ কেমন?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]বন্ধু সুলভ, ব্যক্তিত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করে। তাঁর কাজ সে নিজে করে। রিলেশনশিপটা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।[/int-ans]
[int-qs]মানসিক রোগ আক্রান্ত হয়েছেন কখনও?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]হ্যাঁ, বছর খানেক ডিপ্রেশনের ভুগেছি।[/int-ans]
[int-qs]ব্যক্তি জীবনে চাওয়া পাওয়ার দূরত্ব কতটুকু?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]অপ্রাপ্তি আমার জীবনে খুব একটা নেই। আমার জীবনের বড় অপ্রাপ্তি হলো আমার সবচাইতে বড় বন্ধু অর্থাৎ আমার বাবাকে অসময়ে হারানো। কাপড় সেলাই করা থেকে ছবি আঁকা সবকিছু বাবা হাত ধরে আমায় শিখিয়েছেন। আমার এ অবস্থানে আসতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। আজকে বাবা বেঁচে থাকলে সবচাইতে বেশি খুশি হতেন। [/int-ans]
[int-qs]অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ব্যস্ততার মাঝে মনেরখবর পাঠকদের সময় দেয়ার জন্য?[/int-qs]
[int-ans name=”মুস্তাফা খালিদ পলাশ”]ধন্যবাদ মনের খবরকেও।[/int-ans]

Previous articleতরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশের লক্ষ্যে প্রচারাভিযান
Next articleআপনি সোশ্যাল ফোবিয়া এবং এভয়ডেন্ট পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার নামক দু'টি রোগে ভুগছেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here