মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা মনের খবরের মৌলিক এজেন্ডা। মনের খবর চায় সব মানুষ তার নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকুক। এজন্য সাধারণ মানুষের মাঝে আদৌ মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে কিনা সেটা জানতে মনের খবর প্রায়ই একেবারে প্রান্তিক মানুষের মুখোমুখি হয়। এবার আমরা একজন বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্টের মুখোমুখি হয়েছিলাম। তার নাম আব্দুর রহমত মোল্যা। তার কাছে জানতে চেয়েছি মানসিক স্বাস্থ্যের খুঁটিনাটি নানা বিষয়। তার সাথে কথা বলেছেন, মনের খবরের প্রতিবেদক মো. আবদুর রহমান।
মনের খবর: আসসালামু আলাইকুম।
আব্দুর রহমত মোল্যা: ওয়ালাইকুম আসসালাম।
মনের খবর: কেমন আছেন?
আব্দুর রহমত মোল্যা: এইতো আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
মনের খবর: আপনার কাজ ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমরা কিছু বিষয় জানতে চাচ্ছিলাম।
আব্দুর রহমত মোল্যা: জি বলেন। আমি আমার সাধ্যমতো তথ্য দিয়ে সহায়তা করবো।
মনের খবর: একজন বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট হিসেবে আপনার কাজের কোন দিকটি মানসিকভাবে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং?
আব্দুর রহমত মোল্যা: আমার কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় হলো বিভিন্ন মানুষের প্রত্যাশা বোঝা এবং একই সঙ্গে ব্যবসার লক্ষ্য পূরণ করা। অনেক সময় চেষ্টা করেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না। তখন ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আবার নতুনভাবে কাজ করতে হয়।
আরও দেখুন…
মনের খবর: আপনার পেশাগত জীবনে কখনো অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা বার্নআউট অনুভব করেছেন? করলে কীভাবে সামলেছেন?
আব্দুর রহমত মোল্যা: হ্যাঁ, কাজের চাপ বেশি হলে মানসিকভাবে কিছুটা ক্লান্তি অনুভব করেছি। তখন কাজগুলো অগ্রাধিকার অনুযায়ী ভাগ করেছি, প্রয়োজন হলে বিরতি নিয়েছি এবং নিজের সময়টাকে একটু গুছিয়ে নিয়েছি। এতে আবার মনোযোগ দিয়ে কাজে ফিরতে পেরেছি।
মনের খবর: কাজের চাপ আপনার ঘুম, ব্যক্তিগত জীবন বা সম্পর্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে?
আব্দুর রহমত মোল্যা: অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যক্তিগত সময় কিছুটা কমে যায় এবং বিশ্রামেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই আমি চেষ্টা করি কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে একটি ভারসাম্য রাখতে এবং কাজের বিষয়গুলো সবসময় ব্যক্তিগত জীবনে নিয়ে না যেতে।
মনের খবর: বারবার প্রত্যাখ্যান বা ব্যবসায়িক ব্যর্থতা একজন কনসালট্যান্টের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক অবস্থাকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
আব্দুর রহমত মোল্যা: বারবার প্রত্যাখ্যান অবশ্যই আত্মবিশ্বাসে সাময়িকভাবে প্রভাব ফেলে। তবে আমি এটাকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখি। কোথায় ভুল হয়েছে সেটা বুঝে পরবর্তিতে আরও ভালোভাবে চেষ্টা করি।
মনের খবর: মানসিক চাপ কমাতে আপনি ব্যক্তিগতভাবে কোন অভ্যাসগুলো অনুসরণ করেন?
আব্দুর রহমত মোল্যা: আমি কাজগুলো পরিকল্পনা করে করার চেষ্টা করি, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিই এবং কাজের বাইরে পরিবার ও কাছের মানুষের সঙ্গে সময় কাটাই। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে কিছু সময় নিজের জন্য রাখি।
মনের খবর: কাজের চাপের সময়ে কোন বিষয়গুলো আপনাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে?
আব্দুর রহমত মোল্যা: পরিকল্পনা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং সহকর্মীদের সহযোগিতা আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। পাশাপাশি সমস্যাকে একসঙ্গে না দেখে ধাপে ধাপে সমাধান করার চেষ্টা করি।
মনের খবর: পেশাগত জীবনে মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
আব্দুর রহমত মোল্যা: ঘুম, বিশ্রাম, সময় ব্যবস্থাপনা, পরিবার ও সামাজিক সম্পর্ক এবং নিজের মানসিক অবস্থার প্রতি সচেতন থাকা—এসবকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখা উচিত।
মনের খবর: কোম্পানিগুলো কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বাস্তবে কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে?
আব্দুর রহমত মোল্যা: কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ তৈরি করা, কাজের চাপ বাস্তবসম্মত রাখা, পর্যাপ্ত ছুটি ও বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কর্মীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা।
মনের খবর: আপনার ক্যারিয়ারে এমন কোনো ঘটনা আছে কি, যা মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছে?
আব্দুর রহমত মোল্যা: কাজের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আমি বুঝেছি, বাইরে থেকে একজন মানুষকে যতটা স্বাভাবিক মনে হয়, ভেতরে সে ততটাই চাপের মধ্যে থাকতে পারে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে বুঝিয়েছে যে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং বোঝা খুব প্রয়োজন।
মনের খবর: সাফল্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যের কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি উপেক্ষা করে?
আব্দুর রহমত মোল্যা: অনেকেই নিজের বিশ্রাম, ঘুম, পরিবার ও মানসিক অবস্থাকে উপেক্ষা করে শুধু সাফল্যের দিকে ছুটতে থাকে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে হলে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতাকেও গুরুত্ব দিতে হয়।
মনের খবর: একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী পেশাজীবী কীভাবে ক্যারিয়ার গ্রোথ ও মানসিক সুস্থতার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারেন?
আব্দুর রহমত মোল্যা: লক্ষ্য থাকা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিজের সুস্থতাকে বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়। বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ, সময়ের সঠিক ব্যবহার, বিশ্রাম এবং ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সময় রাখা—এসবের মাধ্যমে ভারসাম্য রাখা সম্ভব।
মনের খবর: আপনার তরুণ বয়সের নিজেকে যদি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একটি পরামর্শ দিতে পারতেন, কী বলতেন?
আব্দুর রহমত মোল্যা: আমি বলতাম—সবকিছু একসঙ্গে ঠিক করতে হবে এমন চাপ নিও না। নিজের প্রতি ধৈর্য রাখো, ব্যর্থতাকে শেখার অংশ হিসেবে নাও এবং প্রয়োজন হলে অন্যের সাহায্য চাইতে দ্বিধা করো না।
মনের খবর: আমাদের দর্শকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি কী?
আব্দুর রহমত মোল্যা: আমার বার্তা হলো—মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করবেন না। মন খারাপ, অতিরিক্ত চাপ বা মানসিক সমস্যাকে লুকিয়ে না রেখে বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে কথা বলুন এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নিন। মানসিকভাবে ভালো থাকা জীবনের সফলতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মনের খবর: আমাদেরকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য আপনাকে আসংখ্য ধন্যবাদ।
আব্দুর রহমত মোল্যা: ঠিক আছে আপনাকেও ধন্যবাদ।


