সন্তান বিদেশ পাঠানোর প্রবনতা বন্ধে বিএসএমএমইউ উপাচার্যের আহ্বান

সন্তান বিদেশ পাঠানোর প্রবনতা বন্ধে বিএসএমএমইউ উপাচার্যের আহ্বান
বিএসএমএমইউ উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ

উচ্চশিক্ষা বা জীবন-যাপনের জন্য সন্তানদেরকে বিদেশে পাঠানোর প্রবনতা থেকে অভিভাবকদের সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

আজ সোমবার বিএসএমএমইউ এর ‘শহীদ ডা. মিলন হলে’ আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ আহ্বান জানান।

মনোরোগবিদ্যা বিভাগের ‘সুইসাইড প্রিভেনশন ক্লিনিক’ এর উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনার সোমবার সকাল ১০টায় শুরু হয়। আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘সুইসাইড প্রিভেনশন ক্লিনিক’ সেমিনার, কুইজ, প্রশ্নোত্তরসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজন করেছে।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কানাডা আমেরিকায় সন্তান পাঠিয়ে দুইজন ঘরে পরে থাকবে এমনকি একজন পরে থাকবে। ঘরে দরজা ভেঙে লাশ বের করতে হবে। এটা হচ্ছে আমাদের দেশে। সব ছেলে মেয়েকে বিদেশে পাঠানো যাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে এটাও একটা কারণ হয়ে দাঁড়াবে আত্মহত্যা প্রবনতা বাড়ানোর।’

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, ‘আমার কাছে একটা রোগী এসে বারবার চোখ দেখায়। বলে আমার মাথা ব্যাথা। প্রত্যেক মাসে তিনি আসেন। দেখি কোনো পরিবর্তন নাই। একদিন জিজ্ঞেস করলাম এতো কেন আসেন। বললেন, আমার বাড়িতে কেউ নাই। দশমিনিট আপনার সাথে কথা বলার সুযোগ আর আপনাকে এক হাজার টাকা দিয়ে যাওয়া; এটাই হলো আমার কাজ।’

ডা. শারফুদ্দিন আরো বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া বা ফেসবুক এগুলো আত্মহত্যা প্রবনতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই আত্মহত্যার ঘটনাগুলো প্রচার হচ্ছে। এতে কেউ কেউ ভাবতে পারে আমি বেঁচে থেকে কী করবো। মরে যাই তার মতো। এরকম হতে পারে।

১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের ইগো বেশি। নিজের মতের বিপরীত হলে তারা পছন্দ করতে চায় না। শুধুমাত্র এই কারণেও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। এই সময়টাতে আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে সময় দিতে হবে। ওরা কোথায় যাচ্ছে কী করছে এসবের খোঁজ খবর রাখতে হবে। এটা বাবা-মার দায়িত্ব। এই সময় ছেলে-মেয়েরা নেশাগ্রস্থ হয়ে যায়, প্রেম-ভালোবাসায় ঝুঁকে যায়। এসময় বাবা-মা ও স্কুল টিচারদের সতর্ক থাকতে হবে।

  • ডাক্তারদের প্রতি রোগীর সাথে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকে কথা বলতে চান না। রোগীর সঙ্গে কথা বলতে হবে। রোগীর কথা শুনতে হবে। রোগীকে সময় দিতে হবে।

মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোর্শেদ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ডা. গোলাম রব্বানী, প্রফেসর ডা. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী, প্রফেসর ডা. ঝুনু শামসুন্নাহার, প্রফেসর ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, ‘সুইসাইড প্রিভেনশন ক্লিনিক’ এর চিফ কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ডা. মহসিন আলী শাহ। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সিফাত-ই সাঈদ।

দিনব্যাপী আয়োজনের প্রথম সেশনে ‘আত্মহত্যার ঝুঁকি ও জীবন বাঁচানোর কৌশল’ শিরোনামে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন, সাইকিয়াট্রি বিভাগের রেসিডেন্ট (এমডি) ডা. ফাতেমাতুয জোহরা জ্যোতি।

প্রেজেন্টেশনের ওপর আলোচনা ও দর্শকদের প্রশ্নের উত্তর দেন বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এসময় বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর ডা. এমএসআই মল্লিক, প্রফেসর ডা. হাসান জাহিদুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. কামরুল হাসান, প্রফেসর সুরাইয়া বেগম, প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব প্রমুখ।

আত্মহত্যা প্রতিরোধ সচেতনতায় বিএসএমএমইউতে নানা আয়োজন

দ্বিতীয় সেশনে ‘আত্মহত্যা থেকে বেঁচে ফেরাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের কৌশল’ নিয়ে প্রেজেন্টশন উপস্থান করেন, সাইকিয়াট্রি বিভাগের রেসিডেন্ট (এমডি) ডা. নূর ই আলম।

এই পর্বে বিশেষজ্ঞ প্যানেলে আলোচনা করেন, প্রফেসর ডা. মোহিত কামাল, প্রফেসর ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাত, প্রফেসর এ.কে কামরুল হুদা, প্রফেসর ডা. সুলতানা আলগীন, ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

আলোচনা শেষে কুইজ বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here