মৃগী রোগীরা কী করতে পারবে, আর কী করতে পারবে না?

মৃগী রোগীরা কী করতে পারবে, আর কী করতে পারবে না?

মৃগীরোগ (Epilepsy) একধরনের মস্তিষ্কের রোগ; চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘নিউরোলোজিক্যাল ডিজিজ’ বা স্নায়ুবিক রোগ। মানব মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালীতে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে এই রোগ দেখা দেয়। মস্তিষ্কের সেরেব্রাল কর্টেক্সের স্নায়ুকোষ সমূহের অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক ক্রিয়ার ফলে রোগী বার বার ফিট হয়ে যায় অর্থাৎ হঠাৎ খিচুনি শুরু হয় বা অজ্ঞান হয়ে যায়।

যখন একজন ব্যক্তির চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বা ততোধিক খিঁচুনি হয় যা স্ট্রোক, মস্তিষ্কে আঘাত, সংক্রমণ, জ্বর বা রক্তে শর্করার তারতম্যের কারণে ব্যাখ্যা করা যায় না, তখন তা মৃগীরোগ বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির মৃগীরোগ তখনই নির্ণয় করা যেতে পারে যদি দেখা যায় যে কোনো শারীরিক রোগের প্রভাব ছাড়াই চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে তার দুই বা ততোধিকবার খিঁচুনি হয় এবং ভবিষ্যতে খিঁচুনি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সাধারণ কিছু কারন যেমন- নিয়মিত ওষুধ না খাওয়া, মানসিক চাপ, খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম, মদ্যপান, অনিদ্রা, অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো, জোরে আওয়াজ ইত্যাদি খিঁচুনি সৃষ্টি করে। এজন্য মৃগী রোগীকে খিঁচুনি বা মৃগীরোগ শুরুর কারণ খুঁজে বের করে কিছু বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

আসুন জেনে নেই মৃগী রোগীরা কি করতে পারবে এবং কী করতে পারবে না :

  • নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। ডাক্তারের অনুমতি ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
  • খাওয়াদাওয়া সঠিকভাবে ও সময়মতো করতে হবে।
  • ঘুমানোর জন্য তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ার চেষ্টা করা। অর্থাৎ সময়মতো পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করা দরকার।
  • শ্বাসের হালকা ব্যায়াম করতে পারেন।
  • বাড়িতে একা থাকলে গোসল না করাই ভালো। আর কেউ থাকলে তাকে দরজার বাইরে অপেক্ষা করতে বলুন, যাতে আপনার খিঁচুনি হলে তারা শুনতে পারে।
  • গোসল করার সময় গোসলঘরের দরজা বন্ধ করা যাবে না।
  • বাথটাবে গোসল করার বদলে শাওয়ার ব্যবহার করতে হবে। এতে খিঁচুনি শুরু হলে বাথটাবে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।
  • পানিতে না নামাই ভাল আর নামলে সাঁতার কাটার সময় এমন সঙ্গী সঙ্গে রাখতে হবে যেনো খিঁচুনি শুরু হলে উদ্ধার করতে পারেন।
  • বাড়ির আসবাবপত্রগুলোর কোণ মসৃণ রাখার ব্যবস্থা করা। ঘরের বাইরে খেলাধুলার সময় মাথায় হেলমেট ব্যবহার করতে হবে।
  • দুর্ঘটনা এড়াতে যেকোন ধরনের উত্তেজনা এড়িয়ে চলতে হবে।
  • নেশাজাতীয় ওষুধ সেবন করা যাবে না। মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তা পরিহার করতে হবে।
  • খিঁচুনি খুব ঘন ঘন হলে গাড়ি চালানো, গাছে উঠা, সাঁতার কাটা এবং রান্না করা যাবে না। কারণ, এগুলো করার সময় খিঁচুনি হলে তা খুবই ক্ষতিকারক হবে।
  • খিঁচুনির মাত্রা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত আগুনের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • সাধারণত খিঁচুনি শুরু হওয়ার পর নিজ থেকেই থেমে যায়। খিঁচুনি থামানোর জন্য শক্তি প্রয়োগ রোগীর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। অধিকাংশ খিঁচুনি কিছু সময়ের জন্য থাকে; তাই এসময় রোগীকে শান্ত থাকতে হবে।
  • রোগীকে সব সময় সাবধান থাকতে হবে, যেন মৃগীতে আক্রান্ত হলে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। এ জন্য রোগীকে সব সময় নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর সংবলিত পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে এবং যানবাহনে কিংবা রাস্তাঘাটে চলাচলে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

খিঁচুনির নিয়ন্ত্রণ জরুরি কারণ এটি বিপজ্জনক এবং জটিল সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। মৃগীরোগ এমন একটি রোগ, যা হঠাৎ করে যে কোনো পরিস্থিতিতে রোগীকে আক্রমণ করতে পারে। যার ফলে এই রোগে আক্রান্তদের জীবনের ঝুঁকি অনেক বেশি। আর এ ঝুঁকি কমাতেই উপরোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখে রোগীর জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন আনা এবং সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক।

লেখক : মাহজাবীন আরা 
এসিস্ট্যান্ট কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট 

সূত্র : মাসিক মনের খবর জুলাই ২২’ সংখ্যা। 

লেখকের অন্যান্য লেখা পড়তে ক্লিক করুন : মাহজাবীন

  • মাসিক মনের খবর প্রিন্ট ম্যাগাজিন সংগ্রহ করতে চাইলে কল করুন : 01797296216 এই নাম্বারে। অথবা মেসেজ করুন পেজের ইনবক্সে। মনের খবর অনলাইনে লেখা পাঠাতে পারেন monerkhaboronline@gmail.com এই ঠিকানায় অথবা হোয়াটসঅ্যাপ  01844618497 নাম্বারে।

/এসএস/মনেরখবর?

শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here