মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা মনের খবরের মৌলিক এজেন্ডা। মনের খবর চায় সব মানুষ তার নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকুক। এজন্য সাধারণ মানুষের মাঝে আদৌ মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে কিনা সেটা জানতে মনের খবর প্রায়ই একেবারে প্রান্তিক মানুষের মুখোমুখি হয়। এবার আমরা একজন একাউন্ট্যান্ট অফিসারের মুখোমুখি হয়েছিলাম। তার নাম সাদ্দাম হোসেন। তার কাছে জানতে চেয়েছি মানসিক স্বাস্থ্যের খুঁটিনাটি নানা বিষয়। তার সাথে কথা বলেছেন, মনের খবরের প্রতিবেদক।
মনের খবরঃ আসসালামু আলাইকুক ।
উত্তরঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম।
মনের খবরঃ আপনি কেমন আছেন?
উত্তরঃ আলহামদুলিল্লাহ ভাই।
মনের খবরঃ আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন?
উত্তরঃ মিন ম্যাক্স বিজনেজ লিমিটেড।
মনের খবরঃ আপনার কাজ ও ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু জানতে চাচ্ছিলাম?
উত্তরঃ জ্বি, অবশ্যই।
মনের খবরঃ একজন একাউন্ট্যান্টের পেশায় কি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের ঝুঁকি রয়েছে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, একজন একাউন্ট্যান্টের পেশায় দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের ঝুঁকি রয়েছে। নিয়মিত হিসাবের নির্ভুলতা বজায় রাখা, আর্থিক দায়িত্ব, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা, অডিট ও ভুলের দায়ভার—এসব কারণে দীর্ঘদিন মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অনিদ্রা তৈরি হতে পারে। তবে সঠিক কর্মপরিবেশ ও কাজের ভারসাম্য বজায় রাখলে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
মনের খবরঃ আর্থিক অনিয়ম বা হিসাবের ভুলের দায়ভার কি মানসিক চাপ বাড়ায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, আর্থিক অনিয়ম বা হিসাবের ভুলের দায়ভার থেকে অপরাধবোধ, উদ্বেগ ও চাকরি হারানোর ভয় তৈরি হতে পারে, যা মানসিক চাপ বাড়ায়।
ভুল হলে দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে, হিসাব স্বচ্ছ রাখতে হবে, প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিতে হবে এবং মানসিক চাপ বেশি হলে কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নিতে হবে।
মনের খবরঃ একজন একাউন্ট্যান্টকে প্রতিদিন নানা ধরনের হিসাব ও আর্থিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই দায়িত্ব কি মানসিক চাপ তৈরি করে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, অবশ্যই। একজন একাউন্ট্যান্টকে প্রতিদিন আর্থিক হিসাবের নির্ভুলতা, সময়সীমা, লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায়বদ্ধতা সামলাতে হয়। সামান্য ভুলের জন্যও জবাবদিহি করতে হতে পারে—এই ভয় থেকে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চাপ চলতে থাকলে ঘুমের সমস্যা, বিরক্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও মানসিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। তাই কাজের সুষ্ঠু পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সহকর্মীদের সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
মনের খবরঃ মানসিক চাপ কি একজন একাউন্ট্যান্টের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ একজন একাউন্ট্যান্টের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। দীর্ঘসময় চাপের মধ্যে কাজ করলে হিসাবের ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখতে অসুবিধা হয় এবং সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই কাজের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত বিরতি এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
মনের খবরঃ প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ কীভাবে একাউন্ট্যান্টদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরি করতে পারে?
উত্তরঃ প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ একাউন্ট্যান্টদের জন্য কাজের সুষ্ঠু পরিকল্পনা, দায়িত্বের ভারসাম্য, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করে মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি কাজের ভুল নিয়ে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে সহযোগিতামূলক মনোভাব, নিয়মিত মতবিনিময় এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। এতে কর্মীদের মানসিক চাপ কমবে এবং কাজের দক্ষতা ও মনোযোগ বাড়বে।
মনের খবরঃ মানসিক চাপ কমাতে অবসর সময়ে কী ধরনের কাজ করেন?
উত্তরঃ মানসিক চাপ কমাতে অবসর সময়ে আমি সাধারণত বই পড়ি, গান শুনি, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাই এবং হাঁটাহাঁটি করি। পাশাপাশি পছন্দের কোনো কাজ বা শখের চর্চা করি। এসব কাজ মনকে প্রশান্ত রাখে, দুশ্চিন্তা কমায় এবং নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে সাহায্য করে।
মনে খবরঃ আপনার সময় ও সহযোগিতার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
উত্তরঃ আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ ।

