২৫ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর “এবিসি আর্লি লার্নিং ডে কেয়ার সেন্টার”-এ অনুষ্ঠিত হলো একদিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মশালা “Early Childhood Development” One Day Certificate Course। কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন রাজধানীর বিভিন্ন ডে-কেয়ার সেন্টারের মালিক, স্কুলশিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ। শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে সঠিক দিকনির্দেশনা ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এবারের আয়োজন করা হয় এই কর্মশালাটি।
কর্মশালাটি পরিচালনা ও আয়োজনে ছিলেন শিশু বিকাশ ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং এবিসি আর্লি লার্নিং ডে কেয়ার সেন্টারের পরিচালক সোনিয়া আকরাম, শিশু মনোবিজ্ঞানী ও সোনারতরী প্রতিষ্ঠাতা ফারজানা ফাতেমা রুমী, এবং প্রাক-শৈশব শিক্ষক ও এবিসি সেন্টারের সুপারভাইজর ফাইজা ফাইরূজ খান। সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন কো-অর্ডিনেটর জাকিয়া ইয়াসমিন লিনা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা জিনাত আফরিন।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় শিশু বিকাশের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। সোনিয়া আকরাম বলেন, “Early childhood is not just about preparing a child for school—it’s about preparing them for life.” তিনি শিশু বিকাশের পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র—শারীরিক, জ্ঞানগত, সামাজিক-আবেগীয়, ভাষাগত এবং নৈতিক বিকাশ—নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁর মতে, শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছরই মস্তিষ্ক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়; এই সময়ের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের আচরণ ও শেখার ভিত্তি গড়ে দেয়।
অন্যদিকে ফারজানা ফাতেমা রুমী প্রাক-শৈশবকালীন খেলা, খেলনার বৈশিষ্ট্য, শিশুর জীবনে খেলার গুরুত্ব এবং play-based learning-এর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “শিশুরা অনুকরণ করে শেখে; তাই খেলতে খেলতে শেখা শিশুর সার্বিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।” বাস্তব উদাহরণ ও রোল-প্লের মাধ্যমে তিনি প্রারম্ভিক বিকাশ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করেন।
ফাইজা ফাইরূজ খান শিশু বিকাশের তত্ত্ব এবং বিভিন্ন কেস স্টাডির মাধ্যমে এর বাস্তব প্রয়োগ উপস্থাপন করেন। অংশগ্রহণকারীরা গ্রুপ ওয়ার্ক, ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে কর্মশালাটিকে করে তোলেন আরও প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক।
অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান, এই প্রশিক্ষণ তাদের শিশুর আচরণ ব্যবস্থাপনা, প্রাক-শিক্ষা কৌশল ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। তাদের মতে, এই ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ শিশু বিকাশের মানোন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
তবে অংশগ্রহণকারীরা আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়মিত আয়োজন করা হলে বেশি সংখ্যক শিক্ষক ও অভিভাবক উপকৃত হতে পারবেন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের অভাবকেও তারা একটি সীমাবদ্ধতা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবিসি আর্লি লার্নিং ডে কেয়ার সেন্টার ভবিষ্যতে আচরণ ব্যবস্থাপনা, প্রাক-শিক্ষা ক্লাসরুম ম্যানেজমেন্ট এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ইনক্লুসিভ পরিবেশ সৃষ্টির ওপর আরও প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে।
শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশে সঠিক দিকনির্দেশনা ও সমন্বিত উদ্যোগের এই প্রয়াসের মাধ্যমে এবিসি আর্লি লার্নিং সেন্টার একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে—“শিশুর সঠিক বিকাশই ভবিষ্যতের সুস্থ সমাজ গঠনের ভিত্তি।”
আরও পড়ুন-






