সারা বিশ্বে যেখানে গড়ে ৮ শতাংশ মানুষ ADHD (Attention Deficit Hyperactivity Disorder)-এ আক্রান্ত, সেখানে বাংলাদেশে এই হার উদ্বেগজনকভাবে প্রায় ৩৭ শতাংশ। এই বাস্তবতায় ADHD বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সোমবার, ২৭ অক্টোবর, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ADHD ক্লিনিক এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট মেন্টাল হেলথ (BACAMH) – এর যৌথ উদ্যাগে এক বৈজ্ঞানিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন্নাহার, অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবীন মোরশেদ, বিএমইউ ইনস্টিটিউট ফর পেডিয়াট্রিক নিউরোডিসঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দা তাবাসসুম আলম, ডা. সাইফুন্নাহার সুমি, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট সেলিনা ফাতেমা বিনতে শহীদ, ডা. মো. রাহানুল ইসলাম, ডা. সিফাত ই সাইদ সহ আরো অন্যান্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও বিএমইউ এর মনোরোগবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউ মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ও BACAMH সভাপতি অধ্যাপক ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমিউ এর মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. ডা. নাহিদ মাহজাবীন মোরশেদ। তিনি জানান, ADHD নিয়ে বাংলাদেশের এক মানসিক স্বাস্থ্যের পরিসংখ্যানে দেখা যায় শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্ত বয়স্কদের ADHD তে আক্রান্তের হার প্রায় ২.৫%। তিনি আরও বলেন, এটা একটি নিউরো ডেভোলাপমেন্ট ডিসর্ডার। কিন্তু রোগীরা উপসর্গ দেখার সাথে সাথে সাইকিয়াট্রিস্টসদের কাছে আসেনা, আর যখন আসে তখন অনেক দেরী হয়ে যায়।
অনুষ্ঠানে ADHD সচেতনতা ও এর বিস্তার নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু ও কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হুমায়রা শাহজাহান হৃদি ও ডা. ফাতেমা জোহরা জ্যোতি। তাদের প্রবন্ধে উঠে আসে ADHD নিয়ে মানুষের মনে প্রতিবন্ধকতার কথা ও এই বিষয়ে ভূল তথ্য ছড়ানোর ফলে চিকিৎসা সেবা নিতে মানুষের অনীহার কথা। আমাদের দেশের ADHD-এর ওষুধের ঘাটতি আছে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন্নাহার বলেন, আমাদের দেশে ADHD এর ওষুধের অনেক ঘাটতি আছে, তা পূরন করতে হবে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ADHD ক্লিনিকের সাথে কোনো সহযোগিতার সুযোগ থাকলে তা নিয়ে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেছেন বিএমইউ ইনস্টিটিউট ফর পেডিয়াট্রিক নিউরোডিসঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দা তাবাসসুম আলম।
ADHD এর বিষয়ে আরো সচেতনতা বাড়াতে হবে উল্লেখ করে বিএমইউ মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ও BACAMH সভাপতি অধ্যাপক ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যর বিষয়ে সচেতনতার অভাবে অনেকে চিকিৎসা নিতে আসেনা। আমাদের চিকিৎসকের ঘাটতির থেকে সচেতনতার ঘাটতিটাই মূল সমস্যা। তিনি আর জানান, BACAMH বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে। যেকোনো বিষয়ে সাপোর্টের জন্য BACAMH সবসময় প্রস্তুত আছে।
অনুষ্ঠানের আলোচনায় বক্তারা আরও জানান, ADHD আক্রান্ত শিশুদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা ও সময়মতো চিকিৎসা প্রদান অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে ADHD বিষয়ে চিকিৎসক ও অভিভাবকদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, এটি শিশু-কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে স্কুল, অভিভাবক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সম্পৃক্ত করে ADHD সচেতনতায় একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ দেশে ADHD আক্রান্ত শিশুদের প্রতি সহমর্মিতা, গ্রহণযোগ্যতা ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন-

