মানসিক স্বাস্থ্য সামগ্রিক সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, বিশেষত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য। মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তারা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে যেমন গুরুতর অসুস্থতার সাথে লড়াই করা, প্রিয়জনকে হারানো বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতার অভিজ্ঞতা অর্জন করা।প্রবীণদের জন্য একাকীত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা খুবই ঝুকিপূর্ণ।
২০২০সালে ১বিলিয়ন জনসংখ্যা ছিল ৬০বছর এর ওপরে।২০৩০সালে এই সংখ্যাটি হবে ১’৪বিলিয়ন।২০৫০সালে হবে ২’১বিলিয়ন।এই বিপুল জনসংখ্যা সমাজ এবং পরিবার গঠনে এবং গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালনে অংশগ্রহণ করে।প্রবীণ জনগোষ্ঠী যেমন শারীরিক সমস্যায় থাকেন,তেমনি একটা বড় অংশ মানসিক অস্থিরতার ঝুঁকির সম্মুখীন থাকেন।
অনেকে মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, দুর্বলতা, ডিমেনশিয়া বা অন্যান্য সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে পরেন, যার জন্য তাদের দীর্ঘমেয়াদী যত্ন প্রয়োজন। মানুষের বয়স হিসাবে, তারা একই সাথে বেশ কয়েকটি রোগে ভুগার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রায় ১৪% মানসিক রোগে ভোগেন।গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস (জিএইচই) 2019 অনুসারে, এই সমস্যাগুলো বয়স্ক প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মোট অক্ষমতার (অক্ষমতা অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ার্সে, ডিএএলওয়াই) ১০.৬% এর জন্য দায়ী। বয়স্কদের জন্য সবচেয়ে বেশী মানসিক সমস্যা হ’ল হতাশা এবং উদ্বেগ। জিএইচই ২০১৯ দেখায় যে বিশ্বব্যাপী, আত্মহত্যার কারণে মৃত্যুর প্রায় এক চতুর্থাংশ (২৭.২%) ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে রয়েছে।
বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থাগুলি প্রায়শই অবহেলিত এবং চিকিত্সা করা হয় এবং এই অবস্থার চারপাশের কলঙ্ক মানুষকে সাহায্য চাইতে অনিচ্ছুক করে তুলতে পারে।
এখানে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্য এবং অস্থিরতা সম্পর্কে কিছু মূল বিষয় রয়েছে:
সাধারণ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
- -বিষন্নতা: এটি প্রবীণদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ মানসিক ব্যাধি এবং এটি সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে হতে পারে বা স্মৃতিভ্রংশের লক্ষণ হতে পারে।
- – উদ্বেগজনিত ব্যাধি: বয়স্ক প্রাপ্তবয়স্করা জীবনের বিভিন্ন পরিবর্তন এবং সমস্যার কারণে উদ্বেগ অনুভব করতে পারে।
- -বাইপোলার ডিসঅর্ডার: ডিমেনশিয়ার সাথে মিলের কারণে দেরীতে শুরু হওয়া বাইপোলার ডিসঅর্ডার নির্ণয় করা কঠিন হতে পারে।
- – সিজোফ্রেনিয়া: যদিও কম সাধারণ, দেরীতে শুরু হওয়া সিজোফ্রেনিয়া 45 বছরের বেশি বয়স্কদের মধ্যে দেখা দিতে পারে।
মানসিক অস্থিরতার ঝুঁকির কারণসমূহ–
- সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং একাকীত্ব: এগুলো পরবর্তী জীবনে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মূল ঝুঁকির কারণ।
- শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যা: দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হওয়ার জন্য অবদান রাখতে পারে।
- জীবন পরিবর্তন: শোক, অবসর গ্রহণ বা আয় কমে যাওয়ার মতো ব্যাপারগুলো মানসিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্ব
মানসিক রোগের লক্ষণগুলি সনাক্ত করা এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। থেরাপি এবং ওষুধের মতো কার্যকর চিকিৎসা মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে এবং বয়স্কদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়তা করে। কেউ যদি মানসিক সমস্যায় ভোগেন তবে তাকে সাহায্যের হাত বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ এবং সহায়তার জন্য চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সচেতনতামূলক প্রচারণাএবং প্রতিরোধ
প্রবীণদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা করতে হবেএবং প্রতিরোধের কৌশলগুলি হেলদি এজিং[বার্ধক্য] এর দিকে গুরুত্ব বাড়ায়। এর অর্থ হ’ল উপযুক্ত শারীরিক ও সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা যা সুস্বাস্থ্য এর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে এবং সক্ষমতা কমে যাওয়া সত্ত্বেও প্রবীণদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করার সক্ষমতা বাড়ায়।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং প্রতিরোধের কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- -আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা ও আয় বৈষম্য কমানোর ব্যবস্থা;
- -নিরাপদ আবাসন, সরকারি ভবন ও পরিবহন নিশ্চিত করার কর্মসূচি;
- -বয়স্কদের এবং তাদের কেয়ারগিভারদের জন্য সামাজিক সহায়তা;
- -স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থা, বিশেষত সুষম খাদ্য গ্রহণ, শারীরিকভাবে সক্রিয় হওয়া, তামাক থেকে বিরত থাকা এবং মাদক গ্রহন বন্ধ করা; এবং
- -স্বাস্থ্যমূলক এবং সামাজিক প্রোগ্রামগুলি দুর্বল গোষ্ঠীগুলিকে লক্ষ্য করে যেমন যারা একা বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাস করে এবং যারা দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যের ঝুকির মধ্যে বসবাস করে।
- -বয়স্কদের জন্য, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং একাকীত্বের মতো ঝুঁকির কারণগুলি হ্রাস করতে সামাজিক যোগাযোগ বিশেষত গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. মোছা. আরেফিন জান্নাত সম্পা
এমডি(ফেইজ বি )রেসিডেন্ট
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। মনেরখবর-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য মনেরখবর কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।
আরও দেখুন-



