প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, ক্যান্সার ইত্যাদি দীর্ঘমেয়াদি রোগ জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সমীক্ষা অনুযায়ী ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ৮০ শতাংশ ব্যক্তি অন্ততপক্ষে একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অক্ষমতার কারণে অনেক বয়স্ক ব্যক্তি দৈনন্দিন জীবনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। রোগ ও রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থার জটিলতায় শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। সেক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা এই প্রবীণদের জীবনে উল্লেখযোগ্য, ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের দীর্ঘমেয়াদি রোগে পরিবারের যা যা করণীয় তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
রোগ সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করুন
পরিবারের সদস্যরা যদি প্রবীণ ব্যক্তির রোগের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত উপসর্গগুলি চিনতে ও বুঝতে পারেন, তাহলে রোগটি মোকাবেলা করা সহজ হয়ে যায়। প্রয়োজনে চিকিৎসককে রোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করে বা ইন্টারনেটে পড়াশোনা করে রোগ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করুন, যাতে রোগীকে নির্ধারিত চিকিৎসা মেনে চলতে সাহায্য করতে পারেন।
রোগীর পুষ্টি বজায় রাখতে সাহায্য করুন
দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত প্রবীণরা স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি খুবই কম গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। খাবারের পুষ্টি বজায় রাখতে না পারলে বিদ্যমান সমস্যা আরো খারাপ হতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদের রোগীর পুষ্টি পর্যাপ্ত হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
নিয়মিত ব্যায়াম করতে উৎসাহিত করুন
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগজাতীয় বহু দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই রোগীর পরিবারের সদস্যদের উচিত ব্যায়াম করতে উদ্বুদ্ধ করা।
রোগী যাতে আঘাত না পায় সেদিকে লক্ষ রাখুন
প্রবীণ রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ নির্ণয়ের পরপরই পড়ে যেয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কতটুকু তা নির্ণয় করা জরুরি। রোগীর থাকার জায়গা কতটুকু বিপজ্জনক তা যাচাই করুন। ওয়াশরুম সবসময় পরিষ্কার ও আলোকিত রাখুন, প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে গিয়ে যাতে পড়ে না যায়।
পরিবার ও বন্ধুদের থেকে সাহায্য নিন
দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুক্তভোগি বাবা বা মায়ের যত্ন সন্তানের পক্ষে একা নেয়া খুবই কঠিন। প্রয়োজনে অন্যান্য বয়স্ক বক্তির যত্ন নিতে পারেন। বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের সাহায্য নিন।
নার্স বা পরিচর্যাকারী নিয়োগ দিন
নার্স বা পরিচর্যাকারী নিয়োগের মাধ্যমে কিছু সময়ের জন্য অসুস্থ বাবা বা মায়ের যত্ন নেয়া থেকে বিরতি নিয়ে নিজেকে রিফ্রেশ করুন। এতে করে নিজের প্রতি ক্লান্তি এবং বিরক্তবোধ আসবে না। উপযুক্ত সেবাযত্ন নিয়মিত করতে পারবেন।
দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুক্তভোগী প্রবীণ ব্যক্তিদের পক্ষে পরিবারের সদস্যদের সাহায্যের মাধ্যমে স্বাধীন ও মানসম্পন্ন জীবনযাপন সম্ভব। এজন্য পরিবারের সকল সদস্যকেই বয়স্ক অসুস্থ ব্যক্তির প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে
পরিবারের সব সদস্য যদি বয়স্কদের যত্নের প্রতি খেয়াল রাখে তাহলেই কেবল অসুস্থ ব্যক্তি পরিপূর্ণ সেবা এবং সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন জীবনযাপন করতে পারবে।
- ডা. সুমাইয়া নওশীন আহমেদ
- সহকারী অধ্যাপক, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ,
- ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।

