প্রশ্ন: আমার বয়স ১৯ বছর। সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। পড়তে বসলেই ভয় লাগে। মনে হয় আমি কিছুই পারব না। পরীক্ষার কথা ভাবলেই বুক ধড়ফড় করে, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায় এবং মাথা কাজ করে না। বাসায় সবাই অনেক আশা করে, তাই আরও বেশি চাপ লাগে। আগে আমি ভালো ছাত্র ছিলাম, কিন্তু এখন পড়াশোনায় মনোযোগই দিতে পারছি না। এই অবস্থায় আমি কীভাবে নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পারি?
মো: মিলন হোসেন
পরামর্শ: ধন্যবাদ আপনাকে প্রশ্ন করার জন্য। প্রথম কথা হলো, যেকোনো এংজাইটি (Anxiety) বা স্ট্রেস বা মন খারাপ বা চাপ—এগুলোর জন্য কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট কারণ থাকে। প্রথম কথা হলো যেকোনো কাজে মানুষের কনফিডেন্স কম থাকলে, মানুষের প্রিপারেশন কম থাকলে, দুশ্চিন্তা বেশি হয়। মানুষের যদি দুর্বলতা থাকে তাহলে স্ট্রেস ফিল হয়, এটা স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে তুমি যদি মনে করো যে তোমার প্রিপারেশন আসলে অন্য কোনো কারণে কম হয়েছে, তাহলে কিন্তু এংজাইটি হবে।
এখন অন্য কোনো কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিয়ে, শুধুই পড়াশোনার দিকে দেওয়া উচিত। সেটা আড্ডা হোক, ঘুরতে যাওয়া হোক বা অন্য যত কাজ আছে সেগুলো বাদ দিয়ে শুধুমাত্র দিনে-রাতে যেখানেই তুমি থাকো (ঘুমাতে হবে, খাইতে হবে, রেস্ট নিতে হবে—সেটা ঠিক আছে), কিন্তু দিনে-রাতে যেখানে তুমি থাকো পড়াশোনাটায় ফোকাস করা যে আমাকে এটাই করতে হবে, অন্য ইনভলভমেন্ট আমি যতটুকু কমাতে পারি সেটাই ভালো। এটা হলো একটা।
দুই নম্বর হলো, অন্য অনেক কারণে মানুষের স্ট্রেস হয়—ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক—বিভিন্ন স্ট্রেসের কারণেও কিন্তু মানুষের মনোযোগের সমস্যা হতে পারে। সেগুলো তুমি যদি নিজে কন্ট্রোল করতে পারো ভালো, না করতে পারলে বিশেষজ্ঞ যারা আছে (মানে যারা এই ব্যাপারে সাপোর্ট দেয়) তাদের সাহায্য নিতে পারো অথবা বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সাপোর্টও নিতে পারো। আর এরপরও যদি ডিপ্রেশন বা এংজাইটি থাকে, অন্য কোনো রোগ থাকে, তাহলে আমার মনে হয় যে তুমি কাছাকাছি কোনো একজন ডাক্তার বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করো, তাহলেই তোমার এই সমস্যাটা কমে যাবে। তুমি যদি এখন প্রিপারেশন ঠিক মতো না নিতে পারো, তাহলে কিন্তু তোমার এংজাইটি আরও বাড়বে। সুতরাং, দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করো। আপাতত একটা ওষুধ খেতে পারো। তবে এটাই যথেষ্ট না । এটা তোমার সমস্যা কমাতে কিছুটা সাহায্য করবে। ওষুধটা হলো—ক্যাপসুল Prolert ২০ মিলিগ্রাম, সকালে একটা করে নাস্তার পর। আর পরবর্তিতে যদি মনে করো আরও কোনো প্রশ্ন করতে চাও, জানতে চাও, আমাদেরকে জানাতে পারো। ধন্যবাদ।
পরামর্শ দিয়েছেন
- অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব
- অধ্যাপক, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ,
- বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

