হত্যা বা আত্মহত্যা, দুটোই মানুষ মানসিক বৈকল্য বা বিকারগ্রস্ততা থেকে ঘটিয়ে থাকে। তবে শিশুহত্যা বা অন্য যেকোনো হত্যা বা নির্যাতনের ঘটনার পেছনে মানসিক বিকারগ্রস্ততা ছাড়াও অনেকগুলো কারণ রয়েছে, যার মধ্যে বিচারহীনতা অন্যতম। বিচারহীনতা মানুষের অপরাধ প্রবণতাকে উস্কে দেয়। হত্যার বিচার হয়-মানুষের মধ্যে এই ধারণা থাকলে যেকেনো প্রকার হত্যার প্রবণতা কমে যেত। আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে আরব দেশগুলোতে শিশুহত্যা বা অন্যান্য অপরাধ বেশি হতো। সেখানে ইসলামী বিপ্লবের পর যখন হাত কেটে ফেলা বা মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি কঠোরভাবে দেওয়া শুরু হলো, তখন কিন্তু অপরাধ কমতে শুরু করল। এই উদাহরণটি আমি দিলাম এই কারণে যে, যদি শাসন বা বিচার ব্যবস্থা সঠিকভাবে পালন করা হয় তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বা প্রশমন করা সহজ হয়ে যায়। তবে সব থেকে জরুরি মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন। মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় ভীতি কমছে, যার কারণে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগের কারণেও মানুষ অপরাধ সংঘটন করতে পারে। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আমাদের দেশে সচেতনতা না থাকায় কেউ হয়ত তার মানসিক সমস্যার কথা জানেই না। আবার বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অস্থিরতার কারণেও মানুষ আত্মনিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আমরা যদি এসব কারণ চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি তাহলে এইসব অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
- অধ্যাপক ডা. শফিউল হাসান
- মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, ইউএসটিসি, চট্টগ্রাম।


