বাস্তব চিন্তা করতে পারি না

0
47
বাড়ির মেয়েরা মাথায় কাপড় না দিলে গালিগালাজ করে
শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

সমস্যাঃ আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম ফারজানা (ছদ্মনাম)। বয়স ২১ বছর। আমি আমার সমস্যাটি বলতে চাচ্ছি। আমার সমস্যা হলো আমার বাস্তববোধ শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি বাস্তব চিন্তা করতে পারি না। সব সময় অবাস্তব চিন্তা করি। আমি নিজের ভেতর আলাদা একটা জগৎ তৈরি করেছি সেখানে আমি নিজেকে নানা জিনিস ভাবি, কখনো ফিল্মস্টার, কখনো নায়িকা, কখনো যাদুকর। আমি আরো ক্যারেক্টার তৈরি করে তাদের সাথে কথা বলি। বাস্তব কোনো চিন্তা বা অনুভূতি আমার মাঝে আসে না। মনে নিজেকে নানা জিনিস হিসেবে চিন্তা করি এবং মনের ভেতর তৈরি অন্য ক্যারেক্টারগুলোর সাথে কথা বলে আমার সারাদিন কেটে যায়। আমি ডাক্তার দেখিয়েছে, তারা আমাকে ডিপ্রেশনের ওষুধ দিয়েছে কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এর জন্য আমার পড়াশুনা এবং পারিবারিক জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দয়া করে কোনো উপায় বলুন।

 

ডা. পঞ্চানন আচার্য্য: ধন্যবাদ, আপনার প্রশ্নের জন্য। আপনার লেখা পড়ে প্রথমেই মনে আসল অর্থহীন’র সেই গানটার কথা। গানটির কথাগুলোই হয়ত আপনার বর্তমান অবস্থার সারাংশ হিসেবে বলা যাবে। গানটির লাইনগুলো হয়ত আপনিও জানেন-‘এই যে এখন যাচ্ছে সময়, বিরক্তি আর অবহেলায়, মনটা ছেড়ে অস্থিরতা পড়ছে ঢুকে গানের খাতায়… স্বপ্নপুরীর স্বপ্ন আমায়, জবাকুসুম ভাবতে শেখায়, কল্পলোকের কল্পনাতে বাস্তবতা দৌড়ে পালায়।’ বাস্তবতাকে তাড়িয়ে দিয়ে কল্পনাতেই এখন আপনার বাড়ি, কল্পনাতেই সুখ। যাই হোক, সমস্যা হয়ত বোঝা গেল। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এমন হয়? উত্তরে অনেক কিছুই আসতে পারে। গানটির প্রথম অংশেই তার কিছুটা আভাস দেয়া আছে। হতে পারে কোনো কারণে আপনি একঘেয়েমিতে আক্রান্ত বা বিরক্ত, জীবন নিয়ে হতাশাগ্রস্ত বা যেকোনো কারণে অস্থিরতায় ভুগছেন। এইসব কারণে বাস্তবতাকে মোকাবেলা করতে চাইছেন না বা করতে ভয় পাচ্ছেন। অথবা করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন। আর তাই, বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে কল্পনাতে ডুবে থাকেন বা থাকার চেষ্টা করেন- যাতে বাস্তবতা আপনাকে কষ্ট না দিতে পারে। বলতে পারেন এক ধরনের পলায়নপর মনোভাব নিয়ে আগাচ্ছেন। সমস্যা হচ্ছে আপনি নিজেও হয়ত বুঝতে পারছেন ব্যাপারটা কিন্তু স্বীকার করতে বা মেনে নিতে পারছেন না। কারণ, তা করতে গেলে আত্মসম্মানে লাগে। আর তাই আরো কল্পনাতে ডুবে থেকে সব ভুলে থাকতে চান। এটা এক ধরনের মনের প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হতে পারে, ইংরেজিতে যাকে বলে (Defense Mechanism)। আবার এটাও হতে পারে, আপনি একটু বেশি কল্পনাপ্রবণ, আপনার ব্যক্তিত্বের ধরনই এমন। এর বাইরেও আরো কিছু থাকলেও থাকতে পারে। কী করণীয়? যদি এই অতিরিক্ত কল্পনার অভ্যাস আপনার জীবনের বিভিন্ন  ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে তবে প্রথম করণীয় নিকটস্থ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদ এর পরামর্শ নেয়া। উনি সার্বিক দিক বিবেচনা করে আপনার ঠিক কী কারণে এই সমস্যা সেটা বুঝতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন। তবে যে কারণেই হোক তা যদি মৃদু থেকে মাঝারি হয় তবে বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা নিলেই সমাধান আসবে আশা করা যায়। আর মাত্রা তীব্র হলে কিছু ওষুধেরও প্রয়োজন হতে পারে। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পরামর্শ দিয়েছেন

ডা. পঞ্চানন আচার্য্য

সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান,

মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।

সূত্রঃ মনের খবর মাসিক ম্যাগাজিন, ৪র্থ বর্ষ, ৮ম সংখ্যায় প্রকাশিত।

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে  

“মনের খবর” ম্যাগাজিন পেতে কল করুন ০১৮ ৬৫ ৪৬ ৬৫ ৯৪
more

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here