সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের আওতায় পরিচালিত ‘অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র, বরিশাল’-এ আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু, তাদের অভিভাবক এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জনাব মো. লিটন। তিনি তার বক্তব্যে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
বিশেষজ্ঞ প্যানেলে উপস্থিত থেকে অটিজম ও স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যার আধুনিক চিকিৎসা ও থেরাপি নিয়ে আলোচনা করেন কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা। এতে উপস্থিত ছিলেন স্মৃতি আক্তার, কনসালট্যান্ট সাইকোলজিস্ট; ডা. তৌহিদুজ্জামান, কনসালট্যান্ট মেডিসিন; ইমরুল কায়েস নেভিল, কনসালট্যান্ট অকুপেশনাল থেরাপিস্ট; জনাব সুলাইমান, কনসালট্যান্ট স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট; ডা. সাইফুল ইসলাম সালুকি, কনসালট্যান্ট ফিজিওথেরাপি।
অনুষ্ঠানে কনসালট্যান্ট সাইকোলজিস্ট স্মৃতি আক্তার অটিজম আক্রান্ত শিশুদের মানসিক বিকাশ এবং অভিভাবকদের কাউন্সিলিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অটিজম কোনো রোগ নয়, বরং একটি বিশেষ অবস্থা। সঠিক সাইকোলজিক্যাল সাপোর্ট এবং থেরাপির মাধ্যমে এই শিশুদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা সম্ভব।”
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. তৌহিদুজ্জামান শিশুদের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করার বিষয়ে পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, অকুপেশনাল, স্পিচ এবং ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞরা অটিজম আক্রান্ত শিশুদের দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের কারিগরি দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
বক্তারা সম্মিলিতভাবে জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই সেবাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে অটিজম ও এনডিডি আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিয়মিতভাবে বিশেষজ্ঞ সেবা পাচ্ছেন। এই সেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও ছড়িয়ে দিতে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত শিশুদের মাঝে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আরও পড়ুন-

