উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা বেশি মানসিক চাপে থাকে: গবেষণা

উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা বেশি মানসিক চাপে থাকে: গবেষণা

মধ্যবিত্ত পরিবারে আর্থিক টানাটানির মাঝে সন্তানদের ওপরও নানা বিষয়ে চাপ কিছুটা কম থাকে। কিন্তু ধনী পরিবারের সন্তানদের ওপর নানা বিষয়ে সাফল্যের জন্য মাত্রাতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যানে এমনটাই দেখা যাচ্ছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
আর্থিক সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর পড়াশোনাসহ নানা বিষয়ে বাড়তি চাপ এসে পড়ে। আর এতে ধনী সন্তানদের মানসিক চাপ ছাড়াও নানা মানসিক সমস্যা ও আত্মহত্যা প্রবণতা দেখা যায়।
সম্প্রতি আটলান্টিকের প্রচ্ছদ নিবন্ধে হান্না রোসিন এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন ধনী সন্তাদের সুন্দর গাড়ি, সুন্দর পোশাক, ভালো গ্রেড, সহজেই চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া ও দারুণ উন্নতির বন্দোবস্ত রয়েছে। কিন্তু তাদের অনেকেই সন্তানকে সঠিকভাবে এদিকে চালাতে পারেন না।
ধনীদের সন্তানদের মাঝে যারা মাধ্যমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে তাদের মাঝে অ্যালকোহল ও নেশা করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এছাড়া ধনীদের সন্তানরা গরিব সন্তানদের তুলনায় বা জাতীয় গড়া মাত্রার তুলনায় বেশি হারে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ ও অস্বাভাবিক আচরণ করে। এটি গড় মাত্রার তুলনায় কয়েক গুণ পর্যন্ত বেশি হয়।
এর কারণ বিশ্লেষণ করেছেন রোসিন। তিনি জানান, মূল বিষয় হলো, ধনীদের সন্তানেরা একটি বাড়তি চাপের মাঝে থাকে। আর এ চাপ আসে তাদের পিতা-মাতা, শিক্ষক এমনকি নিজেদের কাছ থেকেও। এটি শুধু স্কুলেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়। তারা এসব চাপের কারণে ক্লান্ত ও একাকি হয়ে পড়ে। নিয়মিত মাত্রায় এসব চাপের কারণে তারা বিপথগামীও হয়ে পড়ে। তাদের অনেকেই মিথ্যা বলা, প্রতারণা ও চুরি করতে আগ্রহী হয়।
সন্তানদের মানসিক এ চাপ কমানোর জন্য প্রথমে পিতা-মাতাকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে সবার আগে তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়া সন্তানকে বাড়তি চাপ দেওয়ার বদলে সীমিত মাত্রায় স্বাধীনতা দেওয়া যেতে পারে। তবে তা যেন নিয়ন্ত্রণের মাঝে থাকে, এ বিষয়টিও লক্ষ্য রাখতে হবে।

শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here