অটিজম সচেতনতা নিয়ে বিএসএমএইউ মনোরোগবিদ্যা বিভাগের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

0
56

অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালন করা হয়েছে অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২২ইং। দিবসটি উপলক্ষ্যে এক গোলটেবিল বৈঠক করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএইউ) মনোরোগবিদ্যা বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) সকাল এগারোটায় বিএসএমএইউ’র মিল্টন হলে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস (বিএপি) এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী। এছাড়া গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয়ের নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম রাব্বানী।

বৈঠকটির সভাপতিত্ব করেছেন বিএসএমএইউ মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোরশেদ। মডারেটর হিসেবে ভুমিকা পালন করেছেন বিএপি’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দীন কাউসার বিপ্লব।

বৈঠকে প্রেজেন্টেশেন দিয়েছেন বিএসএমএইউ মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সিফাত-ই-সাঈদ ও সুইড বাংলাদেশের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান।

এছাড়া গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ এস. আই. মল্লিক, অধ্যাপক ঝুনু শামসুন্নাহার, অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল, বিগ্রে. জে. অধ্যাপক ডা. আজিজুল ইসলাম, অধ্যাপক বিগ্রে. জে. ডা. কামরুল হাসান, ডা. আলিয়া নাহিদ, ডা, সাকি খন্দকার, অধ্যাপক ডা. গোপেন কুমার কুণ্ডু, ডা. মাজহারুল মান্নান, ড. নাজমুল হক, ডা. মো. তরিকুল আলম, ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ খান, ডা. হেলাল উদ্দীন আহমেদ, অধ্যাপক ড. মেহজাবিন হক, অধ্যাপক সুলতানা আলগিন, ও ডা, হাফিুজর রহমান চৌধুরী।

বৈঠকে এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা মোশারফ করিম, অভিনেত্রী রোবেনা রেজা জুঁই, কথাসাহিত্যিক অনিসুল হক ও বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের যগ্মসচিব ডা. পারভেজ রহিম।

প্রেজেন্টেশেন শেষে বিএপি’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দীন কাউসার বিপ্লব বলেন, ‘অটিজমের বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশে একাডেমিকভাবে আমরা অনেকদিন যাবৎ কাজ করছি। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরি করার জন্য আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ব্যাক্তিগত উদ্ধোগে নিজেকে যুক্ত করেছেন। সচেতনতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাইন্টিফিক সেমিনার করে ইনফরমেশন দেয়া। সেটারই একটা অংশ হিসেবে আমরা এখানে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেমন- আমাদের চাইল্ড সাইক্রিয়াস্টিস্ট কম রয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকেবেলায় আমাদের মাননীয় ভিসি স্যার আমাদেরকে কয়েকদিন আগে আশস্ত করেছেন তিনি সাইকিয়াস্ট্রির সংখ্যা দ্বিগুন করে দিবেন।’

বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএমএইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অটিজমের সাথে আমি বহুদিন ধরে জড়িত। ২০১০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যখন প্রধানমন্ত্রী কনা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল প্রথম বক্তব্য রাখেন সে সময়টায় সেখানে আমার থাকার সুযোগ হয়েছিল। আজকে আমরা বাংলাদেশ অনেক কিছুতেই এগিয়েছি। একদিনে এককোটি বিশ লাখ ভ্যাকসিন দেই। সেই সঙ্গে অটিজম নিয়ে সারা বিশ্বে আমরা সামনের দিকে আছি। অর্থাৎ স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অনেককিছুই আমরা করছি যেটার প্রচার নেই। এটা একটা জিনিস যেটা অনেকে জানেইনা যে, আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোরোগবিদ্যা বিভাগসহ ইটনাতে কী কী করেছি। গত ৫ বছরে আমরা পাঁচহাজারেরও বেশি রোগী দেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘কারা অটিজিম পেশেন্ট তা অনেকের বাড়ির লোকেরাও জানেন না। তারা এখনও মনে করে জ্বীনে ধরেছে, ভুতে ধরেছে। এর কারণে ঝাড়ফুঁক দেয়া, পানি পড়া খাওয়ানো, লাল সূতা বেঁধে দেয়া এসব প্রচলিত আছে। এমনকি চোখের চিকিৎসাতে গোলাপ জল দেয়া, শামুকের পানি দেয়ার কথাও শোনা যায়। আর সেই দেশেই আমরা বসবাস করি। সুতারং আমাদের সবাইকে সচেতন করার জন্যই এই ধরনের আয়োজন করা দরকার। আশা করি এক্ষেত্রে আমরা অনেকখানি সচেতন করতে সফল হবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মুক্তা পানির কথা জানি। তাদেরকে সহোযোগিতা করতে হবে। ওরা যেনো না ভাবে আমরা তাদের শুধুমাত্র দয়া করছি, দান করছি। আমাদের উচিত তারা নিজেরা যেনো সেল্ফ ডিপেন্ডেড হতে পারে যে অনুযায়ী তাদের সাহায্য করা।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অটিজমের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি দশহাজারে ১৭ জন তাও আরবান এলাকাগুলোতে। যা আমাদের জন্য এলার্মিংও বটে। এটার কারণ হয়তো- দেরীতে বিয়ে হচ্ছে, অথবা সাইকোলজিক্যালি কেউ ডিফেক্টিভ, এনভায়রমেন্টাল কোনো বিষয় থাকতে পারে, কিংবা খাবারের সমস্যা, বৈদ্যুতিক সমস্যা এবং দূষণ এর কারণে এ সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো অটিজমসহ সকল বিষয়ে সচেতনাতায় গবেষণা করি এবং ভবিষৎে যাতে সমস্যাগুলো নিয়ে জনগনকে সচেতনতায় আনা যায়।’

বৈঠকে অভিনেতা মোশারফ করিম বলেন, ‘এই দেশে একসময় জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কর্মীদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। কিন্তু প্রচার করতে করতে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এখন সবাইই গ্রহন করছেন। আমি মনে করি, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মত করে অটিজম সচেতনতা নিয়ে প্রচার করা প্রয়োজন।’

বৈঠকে বিএপি’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে অটিজমের হার ক্রমশই বাড়ছে । নানা কারণে শহরাঞ্চলে একটু বেশি দেখা যাচ্ছে। কেননা শহরাঞ্চলে এ ধরণের চিকিৎসা ব্যাবস্থা প্রসারিত তাই অনেকে চিকিৎসা করাতে আসছে। কিন্তু গ্রামে যে অটিজম নেই এ কেথো ভুলে গেলে চলবে না । আমাদের জনসংখ্যার বেশিরভাগ অংশই গ্রামে বাস করছে। তাই গ্রামাঞ্চলে অটিজমের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।’

তিনি বলেন, ‘যে কোনো নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর‌র্ডার বা বিকারজনিত সমস্যায় কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যা অনেকটাই মানসিক সমস্যার মত। তখন সাধারণ মানুষের কাছে এই ধারণা হয়, এটি জ্বীন-ভুতের আচরণ, এটি ঝাড়ফুঁকের কারণ, তাবিজের কারণ। এছাড়া আমাদের সামাজিক যে অন্ধবিশ্বাস তা এটিকে আর প্রকোপ করে তোলে। সুতারং সব মিলিয়ে অটিজম বৈশিষ্ট্য শিশুদের কিছু কিছু বিষয় মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মত হয়। ফলে এরা সমাজ থেকে আলাদা হয়ে যায়। এদের অভিভাবকগণ লোক লজ্জার ভয়ে চিকিৎসার জন্য আসতে চান না। এসব কারণসহ চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়ায় সচেতনতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজেটসহ শুরু করে সবকিছুতেই সচেতনদা বাড়াতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোরশেদ বলেন, ‘সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, অটিজম কিংবা মেন্টাল হেলথ যাই হোক না কেনো এসব ক্ষেত্রে মাল্টি ডিসিপ্লিনারি অতি জরুরি। এবং নানা একটিভিটিজ এর মাধ্যমে কার্যকর করতে হবে। আর এই একটিভিটিজকে যদি আমরা কোলোবেরশন করে এসাইনমেন্ট হিসেবে করি তাহলে সফলতা আসবেই।’

এর আগে গত ২ এপ্রিল সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পালন করা হয়েছে হবে ১৫তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হয়।

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে 

“মনের খবর” ম্যাগাজিন পেতে কল করুন ০১৮ ৬৫ ৪৬ ৬৫ ৯৪

শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।
       
 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here