মৈনাক ভৌমিকের “আমি আর আমার গার্লফ্রেন্ডস” চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য দিয়ে শুরু করছি। আগ্রহী পাঠকেরা চাইলে দৃশ্যটি ইউটিউবে দেখে নিতে পারেন। দৃশ্যটিতে দেখা যায় অভিনেতা নীল মুখার্জি ইরেক্টাইল ডিজফাংশনে ভুগছেন এবং চিকিৎসা নেয়ার জন্য একজন যৌনরোগ বিশেষজ্ঞের চেম্বারে বসে আছেন। ডাক্তার সাহেব তাকে জিজ্ঞেস করলেন, -আপনার প্রবলেমটা কী?
নীল মুখার্জি তোতলাতে শুরু করলেন লজ্জায়। তারপর আমতা আমতা করে বলতে শুরু করলেন, -ঘাড়… না ঘাড় নয় তার নীচে কোমর…বললেন কিন্তু শেষ করতে পারলেন না। বিব্রত একটা ভঙ্গি নিয়ে ডা. ঘোষের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। ডাক্তার সাহেব যখন বললেন,-আচ্ছা আপনি না বললে আমি কী করে বুঝব!
তখন নীল মুখার্জি ডাক্তার সাহেবের চেম্বারে নোট নিতে থাকা সিস্টারকে দেখিয়ে বললেন,-ওনাকে একটু বাইরে পাঠালে ভালো হয়। সিনেমার ঐ দৃশ্যে মূলত সেক্সচুয়াল হিস্ট্রি নেয়ার সময় প্রাইভেসির বিষয়টাকেই তুলে ধরা হয়েছে। রোগীর এই অধিকার অনস্বীকার্য। এই অধিকারকে উপেক্ষা করার কোনো উপায় নেই। বিশেষ করে সেক্সচুয়াল বিষয়ে। এমনিতেই রোগীর সকল তথ্য গোপন রাখা চিকিৎসকের দায়িত্ব। তার উপর সেক্স তো আরো গোপনীয় বিষয়। তাই এই ক্ষেত্রে প্রাইভেসি এবং শিফিডেনশিয়ালিটি দুটোই রক্ষা করতে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা মতে, প্রাইভেসি হলো রোগীর অধিকার। তার তথ্য প্রকাশের বিষয়ে তার ক্ষমতা। যে অধিকারের কারণে সিনেমাতে নীল মুখার্জি বলতে পারলেন নোট নিতে থাকা নার্সকে রুমের বাইরে থাকার জন্য। এই প্রাইভেসি আবার দুই রকমের। ভিজ্যুয়াল প্রাইভেসি এবং অডিটরি প্রাইভেসি।
ভিজ্যুয়াল বলতে আমরা দেখার বিষয়টা বোঝাই। চিকিৎসক চিকিৎসা কাজের জন্য রোগীর শরীরের যতটুকু জায়গা উন্মুক্ত করা প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই উন্মুক্ত করতে পারবেন রোগীর অনুমতি সাপেক্ষে। এ সময়ে অন্য কেউ অবস্থান করতে চাইলে রোগীর অনুমতি লাগবে। আর অডিটরি হলো শ্রবণ সংক্রান্ত। রোগীর কথা শোনা যায় এমন জায়গায় বসে রোগীর তথ্য নেয়া যাবে না। পরিবেশ সন্তোষজনক না হলে রোগী ডাক্তারকে অবগত করবেন।
আর কনফিডেনশিয়ালিটি হলো চিকিৎসকের দায়িত্ব রোগীর তথ্য গোপন রাখার। এই দায়িত্বে অবহেলা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রোগীর তথ্য গোপন রাখতে যেয়ে একজন চিকিৎসককে যদি জীবন দিতে হয় তো জীবন দিতে হবে।
সেক্সচুয়াল বিষয়ে কথা বলতে গেলে শুধু যৌন সমস্যা নয় জীবনের আরো অনেক গোপনীয় বিষয় চলে আসে-যেমন যৌন আচরণ, সম্পর্কের অবস্থা, পেশাগত বিষয়, ঝুঁকিপূর্ণ যৌনবাহিত রোগ ইত্যাদি। এসব বিষয়ে একজন চিকিৎসক নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও গোপনীয়তা রক্ষা করবেন। খোলামেলা তথ্য দিতে হলে একজন রোগীকে এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে হয়। সেক্সচুয়াল বিষয়ে চিকিৎসা নেয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়ে অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। তা না হলে আপনার গোপনীয়তা প্রকাশ পাওয়ার জন্য আপনাকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে।
- ডা. এস এম আতিকুর রহমান
- মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ,
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

