একবিংশ শতাব্দীর প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজের পেশাগত অবস্থানকে শক্তিশালী করা সহজ নয়। প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত শ্রমবাজার, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা আমাদের পেশাগত জীবনে স্থিতি রক্ষা করতে এবং উন্নতি করতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করছে। এই পরিস্থিতিতে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্পষ্ট ও সুপরিকল্পিত লক্ষ্য নির্ধারণ অপরিহার্য।
◆ লক্ষ্য নির্ধারণ কী?
লক্ষ্য নির্ধারণ বলতে বোঝায় নিজের ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করা এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজানো। লক্ষ্য হতে পারে স্বল্পমেয়াদি (Short term) বা দীর্ঘমেয়াদি (Long term)। উদাহরণস্বরূপ, কোনো শিক্ষার্থী দুই বছরের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সার্টিফিকেট অর্জন করতে চায়- এটি স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য। আবার কোনো চাকরিজীবী আগামী দশ বছরে সিনিয়র ম্যানেজার পদে যেতে চায়-এটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
লক্ষ্য নির্ধারণের উপকারিতা
দিকনির্দেশনা প্রদান:
লক্ষ্য আমাদের দিক ঠিক করে দেয়। লক্ষ্যহীন মানুষ নদীর স্রোতে ভাসমান শুকনো পাতার মতো-যেখানে স্রোত নেবে সেখানেই গিয়ে থামবে। লক্ষ্য থাকলে সেই স্রোতের বিপরীতে গিয়েও গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
সময় ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার:
যখন আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট থাকে, তখন আমরা অপ্রয়োজনীয় কাজ ও সময়ের অপচয় এড়িয়ে চলতে পারি। গুরুত্বপূর্ণ কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারি।
কর্মজীবনে স্থিতি ও আত্মবিশ্বাস:
লক্ষ্য পূরণের প্রতিটি ধাপ আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। এতে মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং হতাশা দূর হয়।
দক্ষতা বৃদ্ধি:
পেশাগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত হয়। যেমন, কেউ যদি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে চায়, তাহলে তাকে বিদেশি ভাষা শিখতে হতে পারে।
আরও দেখুন…
◆ অগ্রগতি যাচাই:
সুস্পষ্ট লক্ষ্য থাকলে মাঝপথে নিজের অবস্থান যাচাই করা সহজ হয়। কোথায় ঘাটতি, কীভাবে তা পূরণ করা যায়-এসব নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
◆ কীভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন?
◆ SMART পদ্ধতি:
লক্ষ্য নির্ধারণে ‘SMART’ পদ্ধতি খুবই কার্যকর।
◆ S: Specific (নির্দিষ্ট)
◆M: Measurable (পরিমাপযোগ্য)
◆ A: Achievable (অর্জনযোগ্য)
◆ R: Relevant (প্রাসঙ্গিক)
◆T: Time-bound (সময় নির্ধারিত)
উদাহরণ: “আমি আগামী এক বছরের মধ্যে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে IELTS পরীক্ষা দিয়ে ৭+ ব্যান্ড স্কোর অর্জন করবো।”-এটি একটি SMART লক্ষ্য।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন:
লক্ষ্য নির্ধারণের পরই দায়িত্ব শেষ নয়। তাকে ভাগ করতে হবে ছোটো ছোটো ধাপে। প্রতিটি ধাপের জন্য আলাদা সময়সীমা ও কাজ নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে বা প্রতি মাসে সেই অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে হবে।
◆ পরামর্শ ও মেন্টরিং:
প্রয়োজনে অভিজ্ঞ মেন্টরের সাহায্য নিন। তারা সঠিক পরামর্শ দিয়ে পথ চলা সহজ করে দিতে পার
পেশাগত জীবনে সফলতা কোনো দৈব ঘটনা নয়-এটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টার ফল। আর সেই প্রচেষ্টার পেছনে থাকে সুস্পষ্ট লক্ষ্য। তাই জীবনের যেকোনো পর্যায়ে, বিশেষ করে পেশাগত অগ্রগতিতে, লক্ষ্য নির্ধারণ করা একান্ত প্রয়োজন। মনে রাখবেন-সঠিক পথে হাঁটলেই সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব।
- ডা. অনন্যা কর
- এমবিবিএস, এমডি (সাইকিয়াট্রি), বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।



