মানসিক স্বাস্থ্য : আমরা কতোটা সচেতন?

মানসিক স্বাস্থ্য : আমরা কতোটা সচেতন?

মনের খবর ডেস্ক : একজন মানুষের পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য শরীর-মন দুটোরই সুস্থতার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু, শারীরিক সুস্থতাকে আমরা যতটা গুরুত্ব দেই, মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক ততটাই অবহেলা করি। বস্তুত আমরা মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অনেকেই জানি না। রাখিনা কোনো খোঁজ খবর।

কেউ সামান্য জানলেও সুস্থ থাকতে মানসিক স্বাস্থ্য কতোটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আমরা মনে রাখি না। মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হয়।

করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বেড়েছে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। করোনায় আক্রান্তরাই শুধু নন, ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হননি এমন মানুষের মাঝেও বাড়ছে মানসিক নানা সমস্যা। তাই স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রায় নেই বললেই চলে। দেশের মানুষ এখনও নিজের মানসিক সমস্যার কথা বলতে সংকোচবোধ করে।

কিন্ত, অন্য শারীরিক রোগের মতোই মানসিক রোগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ দেশে মানসিক রোগীদের ‘পাগল’ বলে হেয় করার মানসিকতা রয়েছে। এ কারণে অনেকেই নিজের মানসিক সমস্যা চেপে রাখেন ও কষ্ট পান। এভাবে ছোটখাটো কোনো মানসিক সমস্যাও জটিল রূপ নিতে পারে।

এটাও পড়ুন…
মানসিক স্বাস্থ্য কী?
পরিবারে কম সন্তান শিশুর মানসিক সমস্যা তৈরী করে : গবেষণা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিষণ্ণতা বিশ্বের প্রধান রোগ হয়ে উঠবে। আমাদের দেশে বিষণ্ণতাকে প্রাণঘাতী সমস্যা মনে করা না হলেও এটি মানুষের চিন্তা ও কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। এছাড়া কর্মক্ষমতা নষ্ট করতে পারে দুশ্চিন্তা, সিজোফ্রেনিয়া, অ্যাসপারগারস সিন্ড্রোম, আলঝেইমারসহ নানা ধরনের মানসিক রোগ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করেন। বিশেষ করে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে আত্মহত্যা প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতি বছর ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন এদেশে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পুরুষদের আত্মহত্যার পরিমাণ বেশি হলেও বাংলাদেশে এর চিত্র উল্টো।

সবসময় আত্মহত্যার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক না থাকলেও মানসিক সমস্যাই এর অন্যতম কারণ। তবে সবসময় এমনটা মনে করা উচিত না যে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলেই ব্যক্তির মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা থাকবে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। গত বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আত্মহত্যা প্রতিরোধে চারটি নির্দেশনা দিয়েছিল। সেগুলো হচ্ছে- আত্মহত্যার পদ্ধতি বা মাধ্যমের সহজলভ্যতা কমিয়ে আনা। সংবাদমাধ্যমকর্মীদের আত্মহত্যার খবর প্রকাশে কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলা। তরুণ–তরুণীদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, খাপ খাইয়ে নেওয়ার দক্ষতা ও জীবন দক্ষতা বৃদ্ধি করা। যারা আত্মহত্যার ঝুঁকিতে আছে, তাদের আগে থেকেই চিহ্নিত করা।

এক দিনেই মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি করা যাবে না। তবে মানসিক সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলা শুরু করা উচিত। তাহলে যারা মানসিক সমস্যায় ভুগছে, তারা নিজেদের সমস্যার কথা বলতে আর সংকোচবোধ করবে না। এভাবেই মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।

আরো পড়ুন…
ওসিডি হলে করণীয় কী? : (চতুর্থ ও শেষ পর্ব)
মানসিক স্বাস্থ্য স্বীকৃতি ও সেবা প্রসারে ডব্লিউএইচও’র ভূমিকা

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে 

“মনের খবর” ম্যাগাজিন পেতে কল করুন ০১৮ ৬৫ ৪৬ ৬৫ ৯৪

/এসএস

শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here