আমি বাইপোলার ডিজঅর্ডার রোগে আক্রান্ত। বিয়ে করেছি ৪ বছর। স্ত্রী আমার ভীষণ দুর্বলতা। আমি বউ ছাড়া চলতে পারি না। কয়েক মাস (প্রায় তিনমাস) হলো আমার স্ত্রী বাপের বাড়ি থেকে আসতে চায় না। কিন্তু আমার কোনো মেয়ে বন্ধু নাই। থাকলে হয়ত কিছু আলাপ বা মনের কষ্ট করো সাথে শেয়ার করলে কিছুটা হালকা বোধ করতাম। মনে হচ্ছে আমার অতি আবেগের ফলস্বরূপ বেশি ভালোবাসার কারণে কষ্ট পেতে হচ্ছে। সম্পর্ক এখন এক তালাক পর্যন্ত পৌঁছেছে। ডাক্তার দেখিয়েছিলাম। ডা. আব্দুল্লাহ সায়ীদ স্যার দেখেছিলেন। লোপেজ ৫মি.গ্রাম০+০+১ (২৩/০৮/২২, লিথোসান ৪০০মি.গ্রাম০+০+১ (২৩/০৮/২২), এরিপেস্ক ২মি.গ্রাম ১+০+১ (০৮/৯/২২), ওপসোনিল ৫০মি.গ্রাম০+০+১ (১৪/৯/২২), এই ঔষধগুলো চলছে। কিন্তু আমার ইদানীং আত্মহত্যা করতে মন চায়। বউ-বাচ্চাকে কাছে না পাওয়ার যন্ত্রণায় বাঁচতে ইচ্ছে করে না। পকেট শূন্য। জায়গা আছে কিছু কিন্তু বিক্রয় করতে পারছি না। কেউ সামান্য সাহায্যও করে না। কাজ করি পার্টটাইম ফুডপান্ডায়। কিন্তু পরিশ্রম বেশি মনে হয়। টাকা অল্প পাই। হতাশা কাটে প্রিয়জন যদি পাশে থাকে। কিন্তু পরিবার ও বউ কেউই আমার পাশে নেই। একবার চাই একা একা ঘুরে দাঁড়াবো কিন্তু যৌনতার কাছে হেরে যাই। আমি এখন কী করতে পারি? পরামর্শ দিবেন।
-সামাদ আহমেদ চৌধুরী
অধ্যাপক ডা. আজিজুল ইসলাম: আপনার প্রশ্নের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার লিখাটা আমি বেশে কয়েকবার পড়েছি। বাইপোলার ডিজঅর্ডার একটা আবেগজনিত রোগ। এই আবেগের দুটি প্রান্ত আছে। ডিপ্রেশন ও ম্যানিয়া। এই রোগে দুইটা বিষয়ই ঘুরেঘুরে আসে। কখনো খুব ডিপ্রেশন আবার কখনো ম্যানিয়া তথা চরম উত্তেজনা, রাগ, অস্থিরতা ভাব দেখা দেয়। আপনার প্রেসক্রিপশনে দেখছি আপনি লিখোসান ৪০০ মি.গ্রা. খাচ্ছেন। আমার মনে হয় এটাকে যদি ডোজ বাড়ানো হয়, অর্থাৎ আপনি যদি এটা দুইটা করে খান তাহলে এই আবডাউন সমস্যাটা হবে না। এটা আবেগের রোগ। আপনার আবেগ একটু বেশি আছে। এটা হবেই। আবার কিছু কিছু জায়গায় আপনার ডিপ্রেশনও দেখেছি। আপনার বউ বাচ্চার কথা বারবার বলছেন। যদি সম্ভব হয় আপনার স্ত্রীকে নিয়ে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে পারেন তাহলে কিছু উপকার পেতে পারেন। বিশেষজ্ঞ আপনার স্ত্রীকে কিছুটা বুঝিয়ে বলতে পারেন আপনার সমসট্যা। আপনাকেও কাউন্সেলিং করতে পারে। তাহলে এই সমস্যা থেকে পরিবর্তন সম্ভব। আপনার যে, আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে হয় এটা খুবই সাংঘাতিক চিন্তার বিষয়। এটা পরিহার করতে হবে। মনের যে কষ্ট বা আবেগ সেটার জন্য দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সুতরাং আপনাকে দ্রুত চিকিৎসা করাতে হবে। ভালো চিকিৎসা করাতে হবে। আপনার মন খারাপ, অসুবিধা আছে সত্য; কিন্তু চিকিৎসা যদি না করেন তাহলে এই বিষণ্ণতায় বিপদ ঘটে যেতে পারে। পরিশ্রম তো হবেই। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে পরিশ্রম করা লাগবেই। পরিশ্রমের বিকল্প নেই। ভালোবাসা থাকুক সেটা ভালো কিন্তু অতি ভালোবাসা যেটা আপনার জীবনে বিপন্ন করে ফেলে সেই অতি আবেগ কিন্তু কাম্য নয়। এইটুকু ব্যাপারও আপনার রোগের কারণেই হচ্ছে। আপনি ধৈর্য ধরার চেষ্টা করুন। একজন মনোচিকিৎসকের নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসা নিন। আশা করি ভালো থাকতে পারবেন। ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
পরামর্শ দিয়েছেন
- বি. জে. (অব.) অধ্যাপক ডা. আজিজুল ইসলাম
- সভাপতি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস (বিএপি)

