একজন মানুষ, সে যে বয়সেই হোক না কেন অনেক সময় জীবনে কোনো ভালো কিংবা খারাপ স্মৃতি সে বয়ে বেড়ায়। বুলিং এমন একটি নীরব ঘাতক যা আপনার সন্তানের মনের ভিতরে ক্ষতের সৃষ্টি করে এবং সেই আঘাত থেকে সে জীবনের স্বাভাবিক গতি ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে। ইউনিসেফের তথ্য মতে, প্রায় ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বর্তমানে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। বুলিং নানাভাবে হতে পারে যেমন: ভার্বাল বুলিং, সামাজিক বুলিং, শারীরিক বুলিং এবং সাইবার বুলিং এখন অনেক বেশি আমরা দেখতে পাই।
পারিবারিক ভূমিকা
বুলিং ভিকটিমের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নে সর্বপ্রথম পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে, আপনার সন্তানের সবচেয়ে খারাপ সময়টাতে আপনার সবচেয়ে বেশি আন্তরিকতা এবং সাহায্য প্রয়োজন। সন্তানের সাথে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করা, তার জন্য প্রতিদিন একটা সময় বের করে মনের কথাগুলো শুনা খুব জরুরি এবং সন্তানের মধ্যে যেকোনো কাজে কোনো অস্বাভাবিকতা যেমন-দীর্ঘক্ষণ মন খারাপ থাকা, খাওয়া ছেড়ে দেয়া, ক্লাসে না যেতে চাওয়া, হঠাৎ কথা বলা বন্ধ করে দেয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে নিকটস্থ একজন মনরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
সামাজিক দায়িত্ব
বুলিং নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধি, মাসে অন্তত একবার টিম বন্ডিং সেমিনার করা যেতে পারে। এতে করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষকের সাথে দূরত্ব কমে আসবে, ফলে যেকোনো বুলিং কিংবা হেনস্থা তারা সহজেই যেমন বুঝে উঠতে পারবে, তেমনিভাবে কোনো সমস্যা হলে সেটা নিয়ে আলোচনা করতেও সাহস পাবে।
সার্বিক দায়িত্ব
সব সময় বুলিংয়ের শিকার হলে যে কেউ হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারে এবং নিজেকে সব কিছু থেকে গুটিয়ে নিতে থাকে। আমাদের নিজস্ব দায়িত্বের জায়গা থেকেও আমরা যে কারো মধ্যে আচরণগত অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করলে অতিসত্বর নিকটস্থ অভিভাবককে জানানো উচিত। বুলিং ভিক্টিমের মানসিক স্বাস্থ্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাই যেকোনো বয়সের ক্ষেত্রেই এসব রোগীদের চিকিৎসায় অনেক বেশি সহানুভূতিশীল হতে হয় এবং তাকে সাহস দিতে হয়। সন্তানের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনের মাধ্যমে তার দৈনন্দিন রুটিন, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংসহ ইত্যাদি প্রতিদিনের বিষয়গুলোর উপরে নজর রাখা যেমন অভিভাবকের দায়িত্ব, তেমনিভাবে সামাজিকভাবেও আমাদের যেকোনো বিষয়ে কাউকে ছোটো করে কথা বলা বা কারো সীমাবদ্ধতা নিয়ে খোঁটা দেয়ার যে প্রবণতা সেটা বন্ধ করা জরুরি।
• ডা. টুম্পা ইন্দ্রাণী ঘোষ
• এম.বি.বি.এস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এম.ডি (বিএমইউ)
• সহকারী অধ্যাপক, শিশু-কিশোর ও পারিবারিক মনোরোগ বিভাগ
• ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

