নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য বিশ্বজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেখানে এন্ডোমেট্রিয়াল, জরায়ু এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারসহ এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো সমস্যাগুলো উচ্চ মৃত্যুহার ও দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মেজাজের দ্রুত এবং তীব্র পরিবর্তন বা ‘মুড সুইং’ (Mood Swing)-এর সাথে এই গাইনোকোলজিক্যাল রোগগুলোর একটি গভীর সম্পর্ক থাকতে পারে। মেজাজের অস্থিরতা কীভাবে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীদের শারীরিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে, তা বুঝতে ‘মেন্ডেলিয়ান র্যান্ডমাইজেশন’ (MR) নামক একটি জেনেটিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণার ফলাফল ও বিশ্লেষণ:
মেন্ডেলিয়ান র্যান্ডমাইজেশন বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষকরা ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত বিশাল এক জনগোষ্ঠীর জেনেটিক তথ্য পর্যালোচনা করেছেন। গবেষণায় মেজাজের পরিবর্তনের সাথে প্রধান তিনটি গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যার সরাসরি এবং ইতিবাচক যোগসূত্র পাওয়া গেছে:
১। এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার: মেজাজের অস্থিরতা এই ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।
২। জরায়ু মুখ বা সার্ভিকাল ক্যান্সার: মুড সুইং বা মানসিক চাপের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে, যা এইচপিভি (HPV) সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তিতে ক্যান্সারে রূপ নেয়।
৩। এন্ডোমেট্রিওসিস: এই ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাজনিত সমস্যার সাথেও মেজাজের অস্থিরতার জেনেটিক সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তবে মজার বিষয় হলো, ডিম্বাশয় বা ওভারিয়ান ক্যান্সারের সাথে মেজাজের পরিবর্তনের কোনো সরাসরি জেনেটিক সম্পর্ক এই গবেষণায় পাওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, ওভারিয়ান ক্যান্সারের ক্ষেত্রে জেনেটিক মিউটেশন (যেমন-BRCA1 ও BRCA2) এবং পরিবেশগত কারণগুলো মেজাজের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
এই গবেষণার ফলাফল চিকিৎসকদের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এটি প্রমাণ করে যে, গাইনোকোলজিক্যাল রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কেবল শারীরিক উপসর্গ নয়, বরং তাদের মানসিক স্বাস্থ্য বা মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনে মিউজিক থেরাপির রোগীর অবস্থার আরও উন্নতি সম্ভব। পরিশেষে, মেজাজের পরিবর্তনকে অবহেলা না করে একে গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যার অন্যতম ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কার্যকর চিকিৎসা প্রদান সহজতর হবে।
রেফারেন্স:
https://www.tandfonline.com/doi/full/10.2147/IJWH.S468624
· ডা. অনন্যা ভট্টাচার্য্য
· ফেইজ বি রেসিডেন্ট, এমডি (সাইকিয়াট্রি),
· বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

