Close Menu
    What's Hot

    জীবন সঙ্গীর মৃত্যু

    আমাদের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দিচ্ছে চীন-পাকিস্তান।

    মানসিক স্বাস্থ্যে সচেতনতা এবং সেবায় সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

    কাজে মন নেই, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, মাঝে মাঝে আত্মহত্যার চিন্তা—কী করব?

    গেমিং ও টিভি সিরিয়ালের আসক্তির লক্ষণ।

    Facebook X (Twitter) Instagram
    Saturday, November 7
    Facebook X (Twitter) Instagram
    মনের খবরমনের খবর
    ENGLISH
    • মূল পাতা
    • কার্যক্রম
      1. জাতীয়
      2. আন্তর্জাতিক
      Featured
      জাতীয় November 5, 2026

      আমাদের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দিচ্ছে চীন-পাকিস্তান।

      Recent

      আমাদের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দিচ্ছে চীন-পাকিস্তান।

      মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বানঃ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী

      মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় জনসচেতনতা ও গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    • প্রতিদিনের চিঠি
    • মানসিক স্বাস্থ্য
      1. মাদকাসক্তি
      2. মানসিক স্বাস্থ্য সেবা তথ্য
      3. যৌন স্বাস্থ্য
      4. শিশু কিশোর
      Featured
      ফিচার November 4, 2026

      শিশুর অবাধ্যতা: আজকের ছোটো সমস্যা, নাকি আগামী দিনের বড়ো সংকেত?

      Recent

      শিশুর অবাধ্যতা: আজকের ছোটো সমস্যা, নাকি আগামী দিনের বড়ো সংকেত?

      মাইগ্রেন অন্যান্য মানসিক রোগের জন্য ক্ষতিকর

      শিশুর মোবাইল-টিভি আসক্তি কীভাবে বুঝবেন

    • ফিচার
    • প্রশ্ন-উত্তর
      1. বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
      2. মাদকাসক্তি
      3. মানসিক স্বাস্থ্য
      4. যৌন স্বাস্থ্য
      Featured
      প্রশ্ন-উত্তর November 5, 2026

      কাজে মন নেই, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, মাঝে মাঝে আত্মহত্যার চিন্তা—কী করব?

      Recent

      কাজে মন নেই, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, মাঝে মাঝে আত্মহত্যার চিন্তা—কী করব?

      নিজের সঙ্গে বিড়বিড় করে কথা বলা কি মানসিক রোগের লক্ষণ?

      চার বছর ধরে ঘুমাতে পারি না, দুঃস্বপ্নে চিৎকার করি—সমাধান কী?

    • জীবনাচরণ
      1. অন্যান্য
      2. অপরাধ আচরণ
      3. কুসংস্কার
      4. মতামত
      5. মন ও ক্রীড়া
      6. মন প্রতিদিন
      7. মনোসামাজিক বিশ্লেষণ
      8. সাক্ষাৎকার
      Featured
      সাক্ষাৎকার October 14, 2026

      পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে

      Recent

      পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে

      শুধু কাজ নয়, মনের যত্নও জরুরি: ফ্রিল্যান্সার মারুফের ভাবনা

      শিশুকে আত্মনির্ভরশীল হওয়া শেখাতে সব আবদার রক্ষা করা যাবে না

    • মনস্তত্ত্ব.
      1. তারকার মন
      2. ব্যাক্তিত্ব
      3. মনস্তত্ত্ব
      Featured
      মনস্তত্ত্ব. July 22, 2026

      জিমি কার্টার ও মনস্তত্ত্ব

      Recent

      জিমি কার্টার ও মনস্তত্ত্ব

      জর্জ বার্নাড শ

      মার্টিন কুপার ও মনস্তত্ত্ব

    • করোনায় মনের সুরক্ষা
      1. টিপস্
      2. বিশেষজ্ঞের মতামত
      3. বিশ্ব পরিস্থিতি
      4. সার্বক্ষনিক যোগাযোগ
      Featured
      টিপস্ October 25, 2026

      প্রযুক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল

      Recent

      প্রযুক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল

      দীর্ঘমেয়াদি রোগে ঘরে বাইরে যেভাবে ভালো থাকা যায়

      প্রতিদিনের জীবনে ধৈর্য বাড়ানোর কৌশল

    মনের খবরমনের খবর
    You are at:Home » সাইকোসিস পরিচিতি
    ফিচার

    সাইকোসিস পরিচিতি

    Moner KhaborBy Moner KhaborApril 20, 2026Updated:April 26, 2026No Comments8 Mins Read0 Views
    Facebook Twitter Pinterest Telegram LinkedIn Tumblr Email Reddit
    কবরস্থানের নির্জনতা থেকে শহরের চৌরাস্তার কোলাহল: মানসিক রোগীর রহস্যপূর্ণ আচরণ
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Pinterest WhatsApp Email
    ।প্রথম পর্ব: ইনসাইট/ইনটিউশন।
    সাইকোসিস শব্দটা দিয়ে ঠিক কোনো ডায়াগনোসিস বোঝানো হয় না, যেমন কোনো ডায়াগনোসিস বোঝানো হয় না জ্বর শব্দটা দিয়ে। জ্বর শুধু একটা সিম্পটম, এবং এটা হতে পারে বিভিন্নরকম অসুখে। তেমনই, সাইকোসিস একটা কন্সট্রাক্ট, যা দেখা যেতে পারে বিভিন্নরকম অসুখে। যেসব অসুখে সাইকোসিস হয় তাদের মধ্যে প্রোটোটিপিক্যাল উদাহরণটা হলো সিজোফ্রেনিয়া। তবে সিজোফ্রেনিয়া ছাড়াও অন্যান্য অসুখে সাইকোসিস হয়।
    * * *
    ইনসাইট এবং ইনটিউশন বলতে ঠিক কী বোঝায়? একেকজনের কাছে শব্দ দুইটার অর্থ একেকরকম হবে; কারও কাছে হতে পারে দুইটা শব্দের অর্থ আলাদা, আবার কারও কাছে হতে পারে একই। শব্দ দুইটার সংজ্ঞা দেওয়াও বেশ কঠিন। আমার নিজের থিসিসের বিষয় ছিলো ইনসাইট, তারপরেও আমাকে এটার সংজ্ঞা বলতে বললে এক কথায় বলতে পারব না। যেহেতু বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য রহস্য তৈরির পরিবর্তে রহস্য ক্লিয়ার করা, কাজেই আমরা রহস্যময় সংজ্ঞা না দিয়ে বরং সবচেয়ে ক্লিয়ার বোঝা যায় এমন বিবরণ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি। দুইটা শব্দকে দিয়ে আমরা আলাদা আলাদা জিনিস বোঝাব।
    আমরা যখন কোনো সমস্যার সমাধান নিয়ে ভাবি, তখন সেই সমাধান ভাবার কাজটা বিভিন্নরকম হতে পারে। কিছু সমাধানের চেষ্টা স্টেপ বাই স্টেপ এবং ইলাবোরেট, আবার কিছু সমাধান চটজলদি এবং ঠিক হলে হলো না-হলে নাই ধরনের। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক, যেমন, দাবার পরবর্তী চাল কী হবে?
    ১. আপনি পরবর্তী সকল সম্ভাব্য চাল স্টেপ বাই স্টেপ ভাবতে পারেন, এবং সেসব সম্ভাব্য চালের প্রতিটার জন্য আপনার বিপক্ষ কোন্ চাল দিলে কী হবে সেসবও ভাবতে পারেন, আপনার বিপক্ষ কী চাল দিলে তখন আপনি কী চাল দেবেন সেটাও ভাবতে পারেন, এভাবে আপনি ভবিষ্যৎ চালের কয়েক জেনারেশন পর্যন্ত ভাবতে পারেন। এভাবে প্রতিটা সম্ভাব্য সমাধানের স্টেপ বাই স্টেপ ভাবনাকে বলা হয় সমাধানের এলগরিদম পদ্ধতি। বোঝাই যাচ্ছে, দাবার ক্ষেত্রে শুধু একটা চালের জন্যই এরকম এলগরিদমের স্টেপ হবে অসংখ্য! এই জিনিসটা কম্পিউটারের পক্ষে সম্ভব হলেও মানুষের ক্ষেত্রে প্রায়ই সম্ভব নয়।
    ২. এবার ধরা যাক, এলগরিদম পদ্ধতিতে না গিয়ে আপনি সমাধানের ভাবনাকে অনেক কাটছাঁট করলেন। ভবিষ্যৎ প্রতিটা চাল এবং প্রতিচাল না ভেবে কিছু চাল এবং কিছু প্রতিচালকে মাথায় আনলেন, তাহলে কী? সেইক্ষেত্রে আপনার সমাধান ঠিক হতে পারে আবার না-ও হতে পারে, কতটা ঠিক হবে তা কিছুটা নির্ভর করবে আপনার অতীত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার উপর। অতীতে সিমিলার পরিস্থিতিতে আপনি কীরকম চাল দিয়ে কীরকম অবস্থার মুখোমুখি হয়েছিলেন সেসব অভিজ্ঞতার উপর। সমাধানের কাটছাঁট এই পদ্ধতিকে বলে হিউরিস্টিক পদ্ধতি।
    ৩. এবার ধরা যাক, দাবার চাল দেওয়ার সময় আপনি কোনো ক্যালকুলেশনই করলেন না, আপনার অত সময় নেই। আপনার অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, বা আপনার মন বলছে, এই চাল দিলেই হবে, এবং দিয়ে দিলেন, তাহলে কী? এটাই হলো ইনটিউশন। সমাধানের স্টেপ বাই স্টেপ পদ্ধতিতে না গিয়ে শুধুই অভিজ্ঞতা বা মন নির্দেশিত তাৎক্ষণিক পথই হলো ইনটিউশন। হিউরিস্টিক পদ্ধতিকে যত বেশি কাটছাঁট করে ছোট করবেন, সেটা তত বেশি ইনটিউটিভ হবে।
    * * *
    ইনটিউশন বলতে কী বোঝাতে চাই সেটা বলার পর, এবার আসা যাক ইনসাইট শব্দটা দিয়ে কী বোঝানো হবে সেই বিষয়ে। ইনসাইট শব্দটার সবচেয়ে কাছাকাছি সহজ বাংলা কী হতে পারে এটা নিয়ে আমি ভেবেছি। অন্তর্দৃষ্টি হয়ত চলতে পারে, কিন্তু ইনসাইট শব্দটার যে কগনিটিভ তাৎপর্য সেটা বিবেচনায় নিলে এরচেয়ে বেশি কাছাকাছি শব্দ হতে পারে বিবেক।
    যাত্রাগানের বিবেকের সঙ্গে আমরা পরিচিত, সে সংকটের মুহূর্তে এসে উচিত/অনুচিত কিংবা ঠিক/ভুল-এর গান গেয়ে যায়। সংকটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে পক্ষগুলো, সেসব পক্ষ থেকে এই বিবেক আলাদা তৃতীয় একজন। এই যে তৃতীয় একজন, এই তৃতীয় একজনের চোখে উক্ত সংকটকে কীরকম দেখায় সেটাই হলো বিবেক। এবং বিবদমান পক্ষগুলো এই তৃতীয়জনের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা গ্রহণে সক্ষম তার উপর নির্ভর করবে কোন্ পক্ষের বিবেক কেমন।
    ইনসাইট হলো এই বিবেকের মতোই রিফ্লেকটিভ। অন্যরা আমার সমস্যা সম্পর্কে কী ভাবছে সেটা আমি নিজের চিন্তায় কতটা রিফ্লেক্ট করতে পারি সেটাই হলো ইনসাইট। হতে পারে আমার সমস্যা সম্পর্কে অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি আমি গ্রহণ করি না বা অন্যের মতামত নিইও না, কিন্তু অন্যের বিবেচনায় কীরকম মনে হতে পারে সেটা অন্তত কল্পনা করতে পারি এবং সেই মনে হওয়াটার গুরুত্ব কিংবা গুরুত্বহীনতা বুঝতে পারি। আবার এটা যে সবসময় অন্য একজনই হতে হবে তাও নয়। এটা এমনকি হতে পারে নিজেরই মনের মধ্যে অন্য একটা পক্ষ দাঁড় করানো, হতে পারে নিজেরই মনের অন্য একটা পক্ষের সঙ্গে সংলাপ এবং সেই পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যার পুনর্বিবেচনা।
    * * *
    যদিও আমি ইনসাইট এবং ইনটিউশন দুইটা শব্দ নিয়েই কথা বললাম, সাইকোসিস বোঝার জন্য আসলে প্রাসঙ্গিক শুধু ইনসাইট; দুইটা শব্দ নিয়ে বলেছি স্পষ্টীকরণের স্বার্থে।
    সাইকোসিস একটা কন্সট্রাক্ট, এবং এই কন্সট্রাক্টকে বোঝার জন্য সহজ পদ্ধতি হলো এটাকে একাধিক ডাইমেনশন হিসাবে দেখা। কয়েকটা ডাইমেনশন দিয়ে বিবেচনা করার পর বলা যেতে পারে সাইকোসিস আছে কি না। এর মধ্যে একটা ডাইমেনশন হলো ইনসাইট।
    সাইকোসিসে ইনসাইট বা অন্যের চোখে নিজেকে দেখার সক্ষমতা বা নিজেরই মনের অন্য একটা পক্ষের চোখে নিজেকে বিবেচনার সক্ষমতা নষ্ট হয়। নষ্ট হয় সাধারণত আংশিক, কিন্তু এই আংশিক নষ্ট হবারই ফলাফল হয় ডিভাস্টেটিং। এই ইনসাইটের ঘাটতি হবার কারণে রোগী বুঝতে পারে না তার সমস্যার প্রকৃতি ঠিক কীরকম, সমস্যাটা কেন হয়েছে এবং কী করণীয়।
    একটা উদাহরণ দেওয়া যাক:
    ― আপনি বললেন, আপনার স্ত্রীর সঙ্গে পাড়ার অন্য একজনের সম্পর্ক আছে। ঠিক কীভাবে বুঝলেন যে সম্পর্ক আছে, একটু বলেন তো?
    ― অত কিছু ভাবতে হয় না। ওদের চোখের দিকে তাকালেই আমি বুঝতে পারি। দূর থেকেই যেভাবে ইশারা করে তাতেই সব বোঝা যায়।
    ― দূর থেকে ইশারা করে মানে কীরকম, যখন একজন আরেকজনকে দেখতে পাচ্ছে না তখনও?
    ― হ্যাঁ হ্যাঁ আপনি একদম ঠিক ধরেছেন।
    ― আচ্ছা। কিন্তু তারপরেও আমার মনে একটা খটকা থেকেই যাচ্ছে। আপনার পরিবারের অন্যরা, মানে, আপনার মা, বোন, ভাই, ভাবি, কেউ তো আপনার স্ত্রীকে সন্দেহ করছে না…
    ― ওইগুলার কথা বাদ দেন। শালারা সব আমার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে…
    লক্ষ করুন, স্ত্রীর যে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এই বিষয়ে পরিবারের অন্যরা একমত, কিন্তু অন্যদের এই মতামত রোগী গ্রহণ করতে বা কমপক্ষে অ্যাপ্রিশিয়েট করতে অক্ষম।
    ।দ্বিতীয় পর্ব: রিয়ালিটি টেস্টিং।
    এই পর্বের প্রসঙ্গ সাইকোসিসের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ডাইমেনশন, রিয়ালিটি টেস্টিং। এটা সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডাইমেনশন।
    রিয়ালিটি বলতে কী বোঝায়? আমরা জানি, রিয়ালিটি বা বাস্তবতা দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্পকলা ইত্যাদি বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচিত হয়। রিয়ালিটি শব্দটা ব্যবহৃত হয় মানুষের দৈনন্দিন আলাপেও, যেমন:
    ―ব্যবসার ব-ও বুঝিস না এত বড় কাজে হাত দিয়েছিস। কোনো দেখাশোনাও করিস না আবার ওদিকে বন্ধুবান্ধব নিয়ে টাকা ওড়াচ্ছিস জলের মতো। হাউয়ার পোলা, রিয়ালিটি কী বুঝবি বাবার জমানো টাকা শেষ হলে…
    আমরা রিয়ালিটি শব্দটা ঠিক কী অর্থে ব্যবহার করতে চাইছি?
    * * *
    ফটোগ্রাফিক রিয়ালিটি কথাটা ধরা যাক। শিল্পকর্মের টেকনিক প্রসঙ্গে এই কথাটা আলোচিত হয়। ফটোগ্রাফিক রিয়ালিটি বলতে বোঝায় একটা ক্যামেরায় কোনো দৃশ্য ধারণ করলে যেমন দেখায়, একটা শিল্পকর্ম তেমন বাস্তব। অর্থাৎ, বাস্তব দুনিয়ায় কোনো বস্তু বা ঘটনা দেখতে যেমন হুবহু তেমন হওয়াটা রিয়ালিস্টিক। অন্যদিকে, এর বিপরীত হলো আনরিয়ালিস্টিক যা কেবল কল্পনা বা ফ্যান্টাসিতেই সম্ভব। যেমন, এলিয়েন দিয়ে কারও চিন্তা কন্ট্রোল হচ্ছে এমন ভাবনা। এর মানে, উপরে আমি যে টাকা ওড়ানোর উদাহরণ দিয়েছি সেই অর্থে আমরা রিয়ালিটি শব্দটা ব্যবহার করছি না। আমরা রিয়ালিটি শব্দটা ব্যবহার করছি বাস্তবে কী সম্ভব এবং কী সম্ভব নয় এই অর্থে। অথবা, বাস্তবে আসলে কী হয়েছিল এবং কী হয় নি এই অর্থে।
    * * *
    সাইকোসিসের রোগী রিয়ালিটি এবং আনরিয়ালিটির বাউন্ডারি বুঝতে পারে না। তার চিন্তা ও কাজকর্মের মধ্যে এমন কিছু থাকে যার তাৎপর্য কেবল আনরিয়াল কোনো জগতের সাপেক্ষেই থাকতে পারে। উদাহরণ দেওয়া যাক:
    ১.
    ― আপনি না কি ঘরের চতুর্দিকে টিনের ব্যারিকেড দিতে চাচ্ছেন, ঘটনা কী বলেন তো?
    ― হ্যাঁ, দিতে চাচ্ছি। কারণ হলো, আমার পাশের বাসার লোকরা মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনের সাহায্যে আমার মনের কথা জেনে ফেলছে। এই রেডিয়েশনটা ঠেকানো দরকার।
    বোঝাই যাচ্ছে, ব্যাপারটা আনরিয়াল।
    ২.
    ― আপনি বললেন, আপনার ছোট দুই ভাই আপনার শত্রু। দলিল জাল করে আপনার সম্পত্তি দখল করেছে। ব্যাপারটা কী বলেন তো?
    ― তখন আমি বিদেশে ছিলাম। ছিলাম না বলেই তারা এই কাজ করার সাহস পেয়েছে। আমি তো মামলা করতে চাই, সব অরিজিনাল কাগজপত্র তো আমার কাছে।
    ― কিন্তু আপনার বড় ভাই আর বোন তো বলছে, আপনার বাবা নিজেই ওই দুই ভাইকে তাদের ভাগ লিখে দিয়েছিল ওখানে দোকান বানানোর জন্য…
    ― ঠিক না। আমি খোঁজখবর নিয়েই বলছি।
    এখানে যে ঘটনার কথা প্রস্তাব করা হচ্ছে সেটা বাস্তবে সম্ভব, কিন্তু, বাস্তবে আসলে তেমন ঘটে নি।
    ।তৃতীয় পর্ব: ডিসঅর্গানাইজড ডাইমেনশন।
    মানুষ মনে মনে কী চিন্তা করে তা আমরা শুনতে পাই না। মানুষের ভেতরের চিন্তার সঙ্গে আমাদের পরিচয় মূলত তার মুখের কথা ও আচরণের মাধ্যমে। মানুষের চিন্তার থাকে যৌক্তিক শৃঙ্খলা এবং এই শৃঙ্খলা ফুটে ওঠে তার ব্যবহৃত ভাষার শৃঙ্খলার মধ্যে। আবার ভাষার নিজেরও থাকে যুক্তি ও অর্থের শৃঙ্খলা। যদি মানুষের ভেতরের চিন্তার শৃঙ্খলার কোনো সমস্যা থাকে তাহলে সেটা ফুটে উঠবে তার মুখের ভাষার ব্যবহার ও আচরণের মধ্যে। শৃঙ্খলার এই সমস্যাই সাইকোসিসের ডিসঅর্গানাইজড ডাইমেনশন।
    এই ডিসঅর্গানাইজেশন বিভিন্নরকম হতে পারে, এবং হতে পারে বিভিন্ন মাত্রায়। আমরা এই বিভিন্নরকমের প্রতিটা আলাদা আলাদাভাবে না বলে মোটের উপর কীরকম হতে পারে তা-ই বলব।
    এই ডিসঅর্গানাইজেশন হতে পারে কথার এক অংশের সঙ্গে আরেক অংশের সম্পর্ক না থাকা, এক প্রসঙ্গ থেকে অর্থহীনভাবে আরেক প্রসঙ্গে যাওয়া, প্রশ্নের সঙ্গে উত্তরের সম্পর্ক না থাকা, আজগুবি ও একদম নতুন শব্দের ব্যবহার, ইত্যাদি। কখনও কখনও ভাষার ব্যবহার এমন শৃঙ্খলাহীন হতে পারে যে সাইকোসিসের রোগীর কথার কোনো অর্থই উদ্ধার করা সম্ভব হয় না।
    ডিসঅর্গানাইজেশন বা শৃঙ্খলার এই অভাব হতে পারে রোগীর আচরণেও।
    উদাহরণ দেওয়া যাক:
    ১.
    ― আপনার বাড়ি কোথায় বলেন তো?
    ― বাড়ি? রানীর বন্দর… হানির বন্দর… আমি রাজা তুমি রানী… সাঁই সাঁই সাঁই… ভ্রুম…
    ― সাঁই সাঁই ভ্রুম কী জিনিস বুঝলাম না।
    ― (দুই হাতে মটর সাইকেলের হ্যান্ডেল ধরার মতো করে) সাঁই সাঁই ভ্রুম ভ্রুম…
    ২.
    ― বসেন বসেন।
    ― বসব না।
    ― কেন?
    ―বলা যাবে না।
    ― এভাবে দাঁড়িয়েই কথা বলবেন? ঠিক আছে, তাহলে দুই পায়ে দাঁড়ান। এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে তো কষ্ট হবে।
    ― সমস্যা নাই। আপনি বলেন।
    ।শেষ কথা।
    এই পর্যন্ত আমি সাইকোসিসের তিনটা ডাইমেনশন নিয়ে বললাম। মোটামুটিভাবে, সাইকোসিসের এই তিনটা ডাইমেনশনই প্রধান এবং এগুলো বিশ্লেষণ করে সাইকোসিস চেনা যায়। তবে এগুলোই যে একদম শেষ কথা তা নয়, এর বাইরেও আছে আরও না-না বিষয়, তবে সেগুলো সাধারণ পাঠকদের জন্য অতিরিক্তি হয়ে যেতে পারে।
    ডা. জলধি নাথ রায়
    সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, মানসিক রোগ বিভাগ
    দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ।

    ad


    প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। মনেরখবর-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য মনেরখবর কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

    আরও পড়ুন:

    • মোবাইল ছাড়া শিশুকে খাওয়ানো যাচ্ছে না?

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Reddit WhatsApp Telegram Email
    Previous Articleশিশুদের কার্টুন আসক্তি: স্বভাব ও আচরণে এর নেতিবাচক প্রভাব ও উত্তরণের উপায়
    Next Article শিশু ও কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য সেবার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএমইউতে কর্মশালা
    Moner Khabor

    Related Posts

    জীবন সঙ্গীর মৃত্যু

    November 5, 2026

    মানসিক স্বাস্থ্যে সচেতনতা এবং সেবায় সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

    November 5, 2026

    গেমিং ও টিভি সিরিয়ালের আসক্তির লক্ষণ।

    November 5, 2026
    Leave A Reply Cancel Reply

    Top Posts

    অতিরিক্তি হস্তমৈথুন থেকে মুক্তির উপায়

    July 25, 2021316 Views

    অভিভাবকত্ব শুধুমাত্র লালন-পালনের নাম নয়, এটি একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া

    June 30, 2025300 Views

    বাংলাদেশি মনোরোগ চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

    July 2, 2025209 Views

    পর্নোগ্রাফি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখবেন যেভাবে

    March 13, 2022118 Views
    Don't Miss
    ফিচার November 5, 2026

    জীবন সঙ্গীর মৃত্যু

    স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা। মানুষের যতগুলো স্ট্রেস আছে তাঁর মধ্য সবথেকে…

    আমাদের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দিচ্ছে চীন-পাকিস্তান।

    মানসিক স্বাস্থ্যে সচেতনতা এবং সেবায় সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

    কাজে মন নেই, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, মাঝে মাঝে আত্মহত্যার চিন্তা—কী করব?

    Stay In Touch
    • Facebook
    • Twitter
    • Pinterest
    • Instagram
    • YouTube
    • Vimeo
    আমাদের সম্পর্কে
    আমাদের সম্পর্কে

    প্রকাশক ও সম্পাদক:
    অধ্যাপক ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
    মোবাইল : (+88) 018-65466594, (+88) 014-07497696
    ইমেইল : info@monerkhabor.com

    লিংক
    • মাসিক ম্যাগাজিন প্রাপ্তিস্থান
    • কনফারেন্স-সেমিনার-ওয়ার্কশপ
    • প্রেজেন্টেশন
    • জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট
    রিসোর্স
    • পরিচালনা পর্ষদ
    • মানসিক বিষয়ে সংগঠন
    • বিশেষজ্ঞ লোকবল
    • নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
    সোশ্যাল মিডিয়া
    • Facebook
    • YouTube
    • LinkedIn
    • WhatsApp
    © 2026 মনেরখবর সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
    • আমাদের সম্পর্কে
    • যোগাযোগ
    • গোপনীয়তা নীতি

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    Ad Blocker Enabled!
    Ad Blocker Enabled!
    Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors. Please support us by disabling your Ad Blocker.