প্রশ্ন: দেড় মাস হয়েছে আমি বিয়ে করেছি। সমস্যাটি মূলত আমার স্ত্রীর। তার সমস্যা হলো সে এমন কিছু কাজ করছে যা দেখে সবাই তার ‘ব্রেনে সমস্যা আছে’ এমন মন্তব্য করছে, আমারও মনে হয় তার কিছু সমস্যা আছে। তাই আপনাদের কাছে সাহায্য চাচ্ছি। বাথরুমে গেলে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পার করে দেয়। সপ্তাহ খানেক আগে রাত ১২:০০ টার সময় আমাদের বাড়িতে পোষা কুকুরের গায়ের সাথে তার পায়ের ছোঁয়া লাগে এবং সেজন্য রাত দুপুরে সে গোসল করতে চলে যায়। ঘরের জিনিসপত্র একটি একটি করে সারাদিন ধরে মুছতেই থাকে, গোছাতেই থাকে। আসলে কি তার ব্রেনে কোনো সমস্যা আছে? আর আমি কী করতে পারি এগুলো পরিবর্তন করার জন্য দয়া করে পরামর্শ দেবেন।
অধ্যাপক ডা. আশফাক হোসেন: ধন্যবাদ আপনাকে প্রশ্ন করার জন্য। আপনাদের বিয়ের বয়স দেড় মাস হয়েছে। আপনার স্ত্রী সম্পর্কে আপনি বলেছেন যে, উনি বাথরুমে বেশি সময় নেন, ঘরের জিনিসপত্র সারাদিন গোছাতে এবং মুছতে থাকেন। সপ্তাহখানেক আগে আপনাদের পোষা কুকুরের গায়ের সাথে তার পায়ের ছোঁয়া লাগে এবং রাত দুপুরে সে গোসল করে-এ ধরনের সমস্যা অনেকের মধ্যেই আছে। কিছু মানুষের ব্যক্তিত্বের মধ্যে এক ধরনের গোছানো এবং সবকিছু সঠিক পরিপাটি করে রাখার প্রবণতা আছে। এটা ব্যক্তিত্বের অংশ এবং খুব একটা অসুবিধা হয় না। এরা অনেকেই বেশ ভালো একটা উন্নত স্বার্থক জীবনে পৌঁছতে পারে। এরা তাদের এই স্বভাবকে ভালো দৃষ্টিতে দেখে এবং কোনো অসুবিধা বোধ করে না। আরেক ধরনের মানুষের মধ্যে চিন্তার ব্যাঘাত ঘটে। তারা অতিরিক্ত ধোয়া-মোছা করতে থাকে এই চিন্তা করে যে হয়ত-বা ময়লা লেগে আছে, বারবার ধোয়ার পরে আবার ধুতে হয় এবং নিজেকে তারা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। একটা পর্যায়ে তারা বোঝে যে, কাজটা সঠিক নয় তবুও তারা না করে থাকতে পারে না-এটাকে সমাজে প্রচলিত শুচিবায়ু হিসেবে বলা হয়। এটা এক ধরনের রোগ হিসেবে ধরা যায় যখন এটা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় সাথে সাথে মানসিক অস্থিরতা এবং বিষণ্ণতা যোগ হয়। জীবনের স্বাভাবিক কার্য ব্যাহত হতে পারে। আমরা এ ধরনের রোগকে অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার বলি। তবে আপনার স্ত্রী সম্পর্কে আপনি যে অভ্যাসগুলোর কথা বলেছেন তা নিয়ে তাকে বিরূপভাবে না দেখে তাকে আপনার পর্যবেক্ষণ জানাতে পারেন। তার ভালো লাগা, খারাপ-লাগা সম্পর্কে আপনার সাথে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ দিন এবং তার অভ্যাসগুলোকে দোষ হিসেবে না দেখে ভালো আচরণের মাধ্যমে পরিবর্তনের সুযোগ দিন। তারপরও যদি দেখেন তার অসুবিধাগুলো বাড়ছে এবং উনি নিজেও কষ্ট পাচ্ছেন তাহলে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। আশা করি আপনি উপকৃত হবেন। ধন্যবাদ।
পরামর্শ দিয়েছেন
- অধ্যাপক ডা. আশফাক হোসেন
- মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিভাগীয় প্রধান,
- আর্মড ফোর্সড মেডিক্যাল কলেজ।

