Close Menu
    What's Hot

    মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বানঃ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী

    শিশুর অবাধ্যতা কখন স্বাভাবিক, কখন ওডিডি?

    চার বছর ধরে ঘুমাতে পারি না, দুঃস্বপ্নে চিৎকার করি—সমাধান কী?

    মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ট্রিটমেন্ট গ্যাপ: সমস্যা বাড়াচ্ছে।

    মেজাজের দুই মেরু: বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও লিথিয়াম আবিষ্কারের রোমাঞ্চকর ইতিহাস

    Facebook X (Twitter) Instagram
    Tuesday, November 3
    Facebook X (Twitter) Instagram
    মনের খবরমনের খবর
    ENGLISH
    • মূল পাতা
    • কার্যক্রম
      1. জাতীয়
      2. আন্তর্জাতিক
      Featured
      জাতীয় November 3, 2026

      মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বানঃ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী

      Recent

      মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বানঃ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী

      মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় জনসচেতনতা ও গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

      বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শ্যামলীতে বৈজ্ঞানিক আলোচনা ও বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

    • প্রতিদিনের চিঠি
    • মানসিক স্বাস্থ্য
      1. মাদকাসক্তি
      2. মানসিক স্বাস্থ্য সেবা তথ্য
      3. যৌন স্বাস্থ্য
      4. শিশু কিশোর
      Featured
      ফিচার July 4, 2026

      মাইগ্রেন অন্যান্য মানসিক রোগের জন্য ক্ষতিকর

      Recent

      মাইগ্রেন অন্যান্য মানসিক রোগের জন্য ক্ষতিকর

      শিশুর মোবাইল-টিভি আসক্তি কীভাবে বুঝবেন

      মাদকমুক্তির অন্যতম অন্তরায়-বেকারত্ব

    • ফিচার
    • প্রশ্ন-উত্তর
      1. বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
      2. মাদকাসক্তি
      3. মানসিক স্বাস্থ্য
      4. যৌন স্বাস্থ্য
      Featured
      প্রশ্ন-উত্তর November 3, 2026

      চার বছর ধরে ঘুমাতে পারি না, দুঃস্বপ্নে চিৎকার করি—সমাধান কী?

      Recent

      চার বছর ধরে ঘুমাতে পারি না, দুঃস্বপ্নে চিৎকার করি—সমাধান কী?

      কোন রোগের নাম শুনলে প্রচণ্ড ভয় লাগে কীভাবে এর থেকে মুক্তি পাবো?

      কোনো কথা, ছবি, গান বা ঘটনা একবার মাথায় ঢুকলে সেটা আর বের করতে পারি না।

    • জীবনাচরণ
      1. অন্যান্য
      2. অপরাধ আচরণ
      3. কুসংস্কার
      4. মতামত
      5. মন ও ক্রীড়া
      6. মন প্রতিদিন
      7. মনোসামাজিক বিশ্লেষণ
      8. সাক্ষাৎকার
      Featured
      সাক্ষাৎকার October 14, 2026

      পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে

      Recent

      পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে

      শুধু কাজ নয়, মনের যত্নও জরুরি: ফ্রিল্যান্সার মারুফের ভাবনা

      শিশুকে আত্মনির্ভরশীল হওয়া শেখাতে সব আবদার রক্ষা করা যাবে না

    • মনস্তত্ত্ব.
      1. তারকার মন
      2. ব্যাক্তিত্ব
      3. মনস্তত্ত্ব
      Featured
      মনস্তত্ত্ব. July 22, 2026

      জিমি কার্টার ও মনস্তত্ত্ব

      Recent

      জিমি কার্টার ও মনস্তত্ত্ব

      জর্জ বার্নাড শ

      মার্টিন কুপার ও মনস্তত্ত্ব

    • করোনায় মনের সুরক্ষা
      1. টিপস্
      2. বিশেষজ্ঞের মতামত
      3. বিশ্ব পরিস্থিতি
      4. সার্বক্ষনিক যোগাযোগ
      Featured
      টিপস্ October 25, 2026

      প্রযুক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল

      Recent

      প্রযুক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল

      দীর্ঘমেয়াদি রোগে ঘরে বাইরে যেভাবে ভালো থাকা যায়

      প্রতিদিনের জীবনে ধৈর্য বাড়ানোর কৌশল

    মনের খবরমনের খবর
    You are at:Home » মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে আধুনিক চিকিৎসা
    ফিচার

    মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে আধুনিক চিকিৎসা

    Moner KhaborBy Moner KhaborSeptember 21, 2025No Comments8 Mins Read0 Views
    Facebook Twitter Pinterest Telegram LinkedIn Tumblr Email Reddit
    মাইগ্রেনের সাথে মানসিক চাপের সংযোগ: কীভাবে প্রভাবিত করে মন?
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Pinterest WhatsApp Email

    সারা ১৬ বছর বয়সের এক হাসিখুশিতে কাটানো তরুণী, সে তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করতে চায়। তবে, ইদানীং তাকে প্রতিনিয়ত একটি সমস্যা মোকাবেলা করতে হয় যার নাম মাইগ্রেন।

    গল্পের শুরু:

    সারা সবসময় হাসিখুশি থাকে । বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া,মোবাইলে গেম খেলা,নতুন নতুন বই পড়া, ঘুরতে যাওয়া এবং গান শুনা তার সবচেয়ে প্রিয়। তবে,ইদানীং মাঝে মাঝে মাথা ব্যথার তীব্রতা তার সব আনন্দকে পিছনে ফেলে দেয়। তীব্র মাথা ব্যাথা হলে তার কিছুই আর ভালো লাগে না, সে একটি অন্ধকার ঘরে চলে যায়, যেখানে কোনও আলো, শব্দ বা উদ্দীপনা নেই। কারন এসবে তার মাথা ব্যাথা আরও বেড়ে যায়৷

    প্রথম মাইগ্রেনের আক্রমণ:

    একদিন সারা তার প্রিয় বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে যায়। সেখানে সবাই অনেক খাচ্ছিল, চকোলেট কেক, এবং কোক পান করেছিল। সবকিছুই দারুণ চলছিল, কিন্তু এসব খাওয়ার পরে হঠাৎ তার মাথা একটি অদ্ভুত ভাবে ব্যথা করতে শুরু করে। সে বমি করে ক্লান্ত হয়ে যায়। খুব খারাপ লাগে পরে সে বাসায় চলে আসে সেখনে না থেকে।

    দ্বিতীয় মাইগ্রেনের আক্রমণ :

    সারার সামনে পরীক্ষা তাই মাথায় পরীক্ষা নিয়ে অনেক টেনশন। রাত জেগে সে পড়াশোনা করছে তাই রাতের ঘুম কম হচ্ছে, পড়ালেখার টেনশনে তার ক্ষুধা কমে গেছে,খাওয়া দাওয়া বিশ্রাম ঠিকমতো হচ্ছে না। মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেছে ঠিক সেদিন রাতেই সে আবার আগের মতো তীব্র মাথা ব্যাথা শুরু হলো, চোখ তাকিয়ে থাকতে পারছে না, শুরু হলো বমি তার সাথেই ক্লান্তিভাব।

    দুর্ভোগের দিনগুলো:

    মাইগ্রেনের কারণে তার রাতের ঘুম বিঘ্নিত হতে শুরু করে। ডাক্তারের কাছে যেয়ে ওষুধ শুরু করে। সাথে বিভিন্ন খাবার না খাওয়ার চেষ্টা, ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন করা, এবং খালি হাতে ব্যায়াম করার চেষ্টা করলে আস্তে আস্তে ব্যাথার তীব্রতা কমে আসে কিন্তু পুরোপুরি কমে না।

    এবারের সিদ্ধান্ত:

    এক সন্ধ্যায়, তার মা তাকে বললেন, “সারা, তুমি যদি মাইগ্রেন নিয়ে মোকাবেলা করতে চাও, তাহলে তোমায় কিছু পরিবর্তন করতে হবে।” সারা সিদ্ধান্ত নিলো যে সে তার জীবনশৈলী সঠিকভাবে পরিবর্তন করবে। সে মাইগ্রেন ট্র্যাকার অ্যাপ ব্যবহার করে এবং তার মাথাব্যথার ট্র্যাক রেখেই খাবারের অভ্যাস পরিবর্তন শুরু করে।

    সমাধানের পথে:

    কিছু মাস পর, সারা বুঝতে পারলো যে কিছু খাবার যেমন চকোলেট, ক্যাফেইন এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য তার সমস্যা বাড়ায়। সে এসব খাবারকে না বলে, কার্বোহাইড্রেট এবং প্রাকৃতিক খাবারে ফিরে আসে। ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে।

    নতুন জীবন:

    একদিন সে আবার বন্ধুরা সঙ্গে বাইরে বেরিয়েছিল। তারা মজা করে গান গাাচ্ছিল এবং আড্ডায় মেতে উঠেছিল। সারা তখন অনুভব করছিল যে সে আগের মতোই স্বাভাবিক থাকছে। তার আর কোন মাথাব্যথা হচ্ছিল না! সে হাসতে হাসতে বলল, “আজ রাতে কোনও ব্যথা হবে না, আমি নিশ্চিত!”

    উপসংহার:

    সারার গল্প একটি অনুপ্রেরণার গল্প, যেখানে সে বুঝতে পারে যে জীবনের প্রতিটি সমস্যার জন্য একটি সমাধান আছে। মাইগ্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হলে সচেতনতার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার প্রয়োজন। এখন, সে তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সর্বাধিক উপভোগ করছে, এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সে এখন ভালো আছে। সে বুঝতে পেরেছে এই রোগ সারাজীবনের কিন্তু নিয়ম মেনে চললে এই রোগকে বশে আনা সম্ভব।
    মাইগ্রেন একটি সাধারণ এবং গুরুতর মাথাব্যথার সমস্যা, যা সাধারণত মাথার এক দিকে ঘটে এবং অবস্থার পরিবর্তনের সাথে ভারী চাপ, বমি, বা আলোক/শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা সহ হতে পারে। মাইগ্রেনের ক্ষেত্র ইতিহাস সম্পর্কে কিছু তথ্য নিচে উল্লেখ করা হলো:

    ১. উপসর্গ:
    — তীব্র মাথাব্যথা যা সাধারণত একপাশে হয়
    — সাধারণত কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে
    — মাথাব্যাথার সাথে হধঁংবধ এবং াড়সরঃরহম
    — আলো বা শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা (ঢ়যড়ঃড় ধহফ ঢ়যড়হড়ঢ়যড়নরধ)
    — কিছু ক্ষেত্রে অমুক, অন্ধকার দৃষ্টি, বা অস্বাভাবিক দৃশ্যগ্রহণ (ধঁৎধং) থাকতে পারে।

    ২. প্রকারভেদ:
    — ক্লাসিক মাইগ্রেন (মাইগ্রেন উইথ অ অঁৎধ): সাধারণত ২০—৩০ মিনিট আগে ম্যাজিক অরার শুরু হয়।
    — সাধারণ মাইগ্রেন (মাইগ্রেন উইথআউট অঁৎধ): কোনো অরার ছাড়াই সাধারণত হয়।

    ৩. কারণ:
    মাইগ্রেনের নির্দিষ্ট কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:

    — পরিবেশগত ফ্যাক্টর: বায়ুদূষণ, ধোঁয়া, তাপমাত্রার পরিবর্তন
    যেমন গরম বেশী হলে মাইগ্রেনের ব্যাথা বাড়ে

    খাদ্য: কিছু খাবার যা মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে যেমন :

    ১. শরবত এবং চিনি যুক্ত পানীয়: সোডা, ফলের সরবত ইত্যাদি।
    ২. অ্যালকোহল: বিশেষ করে রেড ওয়াইন।
    ৩. ডেইরি দ্রব্য: কিছু মানুষের জন্য দুধ এবং দই সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
    ৪. নিষিদ্ধ আমিষ: বিশেষত প্রসেস করা খাবার যেমন সালামি, সসেজ।
    ৫. নটস এবং খাদ্য তৈল: কিছু লোকের জন্য বাদাম ও সূর‌্যমুখী তেল সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
    ৬. চকোলেট: কিছু মাইগ্রেন রোগী চকোলেট খাওয়ার পর সমস্যা অনুভব করেন।
    ৭. মশলা এবং উচ্চ সোডিয়াম খাবার: অতিরিক্ত মশলাদার খাবার।
    ৮. ফাস্ট ফুড: যেমন পিজ্জা, বার্গার ইত্যাদি।

    হরমোন পরিবর্তন:

    হরমোনের কারণে মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়তে পারে, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে। বিভিন্ন হরমোনের স্তরের পরিবর্তনের ফলে মাইগ্রেনের আক্রমণ বাড়তে পারে। এখানে কিছু মূল পয়েন্ট উল্লেখ করা হলো:

    ১. মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল:
    — মাসিকের সময় হরমোনের (বিশেষত ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন) স্তর বাড়ে এবং পরে কমে যায়। এই পরিবর্তনগুলি মাথাব্যথার আক্রমণের জন্য একটি ট্রিগার হতে পারে। অনেক মহিলা তাদের মাসিকের কয়েক দিন আগে বা পরে মাইগ্রেনের আক্রমণ অনুভব করেন।

    ২. গর্ভাবস্থা:
    — গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন ঘটে, যা মাইগ্রেনের উপসর্গকে প্রভাবিত করতে পারে। কিছু মহিলা গর্ভাবস্থায় মাইগ্রেনের আক্রমণ কম অনুভব করেন, আবার কিছু মহিলা মাইগ্রেনের আক্রমণ বাড়তে পারেন।

    ৩. মেনোপজ:
    — মেনোপজের সময় হরমোনের স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়। অনেক মহিলা মেনোপজের পরে মাইগ্রেনের সমস্যা অনুভব করে থাকে।

    জেনেটিক ফ্যাক্টর:
    মাইগ্রেনের জেনেটিক (জিনগত) সমস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ গবেষণা দেখিয়েছে যে পরিবারে ইতিহাস থাকলে মাইগ্রেনের উন্নয়নের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এখানে কিছু মূল পয়েন্ট উল্লেখ করা হলো:

    ১. জেনেটিক প্রবণতা:
    — বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে মাইগ্রেনের রোগীদের মাঝে জিনগত প্রবণতা থাকতে পারে। যদি পরিবারের মধ্যে কেউ মাইগ্রেনের শিকার হয়ে থাকেন, তবে সেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

    ২. জিন নির্ধারণ:
    — বেশ কিছু বিশেষ জিন মাইগ্রেনের ঝুঁকি বৃদ্ধির সাথে যুক্ত রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ঈঅঈঘঅ১অ, অঞচ১অ২, এবং ঝঈঘ১অ জিনগুলি মাইগ্রেনের পরিবারের ইতিহাসযুক্ত কিছু প্রকারের জন্য দায়ী হতে পারে। এই জিনগুলি স্নায়ুতন্ত্রের কার‌্যক্রমকে প্রভাবিত করে এবং মাথাব্যথার উপর প্রভাব ফেলে।

    ৩. পারিবারিক মাইগ্রেন:
    — কিছু মামলায়, বিশেষ করে ক্লাসিক মাইগ্রেন যা অরার সহ হয়, তা সাধারণত একাধিক পুরুষ এবং নারী সদস্যকে প্রভাবিত করে এবং এটি একটি পারিবারিক সমস্যা হিসেবে কিভাবে দেখা যায়।

    ৪. জিন—পরিবেশের সংযোগ:
    — যদিও জিনগত কারণ মাইগ্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে পরিবেশগত উপাদান, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাইগ্রেনের উন্নয়ন একটি জিন—পরিবেশীয় সংযোগ যা আলাদা আলাদা রোগীদের মধ্যে ভিন্ন হতে পারে।

    ৫. গবেষণা ও ভবিষ্যৎ আশা:
    — নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণায় জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে মাইগ্রেনের জন্য জিনগত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে, এসব গবেষণা মাইগ্রেনের প্রতিকার এবং চিকিৎসায় নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

    ৬. মাইগ্রেনের বিভিন্ন প্রকার:
    — জিনগত কারণে কিছু বিশেষ ধরনের মাইগ্রেন যেমন মাইগ্রেন উইথ অকুলার অরার বা মাইগ্রেন উইথ মোটর অরার বেশি প্রভাবিত হতে পারে।

    বর্তমানের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কিছু পদ্ধতি এবং চিকিৎসা রয়েছে:

    ১. প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা:
    — ঔষধ: বিভিন্ন ধরণের প্রতিরোধমূলক মেডিকেশন রয়েছে, যেমন:
    — বিটা—ব্লকার (যেমন: প্রপেনলোল)
    — অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট (যেমন: অ্যামিট্রিপটিলিন)
    — অ্যান্টি—সিজিউর মেডিসিন (যেমন: টপিরামেট)
    — ক্লাসিক্যাল ওষুধ (যেমন: ক্লোনিজেপাম)

    ২. উপশমকারী চিকিৎসা:
    — মাইগ্রেনের আক্রমণের সময় ব্যবহারের জন্য দ্রুত কার‌্যকরী ঔষধ যেমন:
    — ট্রিপটেন (যেমন: সেছট্রিপট্যান)
    — ঘঝঅওউং (যেমন: ইবাইনপ্রোফেন)
    — অর্ডারেন্টস (যেমন: উলট্রাসাউন্ড বা অক্সিজেন থেরাপি)

    ৩. লাইফস্টাইল পরিবর্তন:
    — ডায়েট: যেসব খাবার মাইগ্রেন বাড়াতে পারে, সেগুলি সনাক্ত করে এড়ানো।
    — নিয়মিত ঘুম: পর‌্যাপ্ত বিশ্রাম ও স্থির ঘুমের সময়।
    — স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ: যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা অন্যান্য শিথিল পদ্ধতি ব্যবহার করা।

    ৪. এলটারনেটিভ থেরাপি:
    — ফিজিওথেরাপি: পেশী শিথিলকরণ এবং মাথাব্যথা হ্রাসের জন্য।
    — অ্যাকুপাংচার: চাপ কমাতে এবং ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।

    ৫. বহিরাগত চিকিৎসা:
    — কিছু ক্ষেত্রে বোটক্স ইনজেকশনও মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে কার‌্যকর হতে পারে।

    ৬. হর্টিকাল থেরাপি:
    — গবেষণার মাধ্যমে নতুন ওষুধ এবং প্রযুক্তিগুলি পরিচিত হচ্ছে, যেমন ঈএজচ প্রতিআগ্রাসক ওষুধ।

    মাইগ্রেনের চিকিৎসা করতে হলে অবশ্যই সাথে একজন মনরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন মাইগ্রেনে ভুগলে যেমন বিষন্নতা,রাগ, আচরনগত সমস্যা বাড়ে আবার মানসিক রোগ যেমন ঘুমের সমস্যা, দু:চিন্তা রোগ, শুচিবায়ু রোগীদের মধ্যে মাইগ্রেনের প্রবনতা বেশী।
    নিচে কিছু মানসিক চিকিৎসার পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো:

    ১. কগনিটিভ থেরাপি :
    এই থেরাপি মানসিক চাপ কমাতে এবং মাথাব্যথার প্রতি প্রতিক্রিয়া পরিবর্তন করতে সাহায্য করে। সঠিক চিন্তাভাবনা ও আচরণ শিক্ষা দিতেই ঈইঞ সাহায্য করে।

    ২. মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা:
    একজন মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শদাতার সাহায্য নিয়ে আপনার উদ্বেগ এবং চাপ মোকাবেলা করতে পারেন। এটি আপনার অনুভূতি এবং মানসিক অবস্থার উন্নতি করতে সাহায্য করবে।

    ৩. শিকাগো থেরাপি:
    এই থেরাপি শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে। এটি রোগীর অভিজ্ঞতা বা অনুভূতির ওপর গুরুত্ব দেয়।

    ৪. মেডিটেশন এবং ব্যবস্থাপনা কৌশল:
    মাইগ্রেনের সময় এবং তার আগে মেডিটেশন ও শ্বাসপ্রশ্বাসের কৌশলগুলি ব্যবহার করতে পারেন। এটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    ৫. জার্নালিং:
    নিজের অনুভূতি এবং মাথাব্যথার ট্র্যাক রাখতে জার্নালিং করতে পারেন। এটি আপনাকে আপনার সমস্যাগুলি চিনতে এবং সেগুলোর সঙ্গে মোকাবেলার উপায় খুঁজতে সাহায্য করবে।

    ৬. যোগব্যায়াম এবং শারীরিক কার‌্যকলাপ:
    যোগব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে এবং শরীরকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এছাড়া সাধারণ ব্যায়াম আপনার মন ও শরীরের মধ্যে সঠিক সঙ্গতির সৃষ্টি করে।

    ৭. সমর্থন গ্রুপ:
    মাইগ্রেন আক্রান্তদের জন্য সমর্থন গ্রুপে যোগদান করা অনেক সাহায্যকারী হতে পারে। সেখানে একই সমস্যায় ভোগা মানুষের সঙ্গে কথা বলা আপনাকে আরও সান্ত্বনা এবং সাহস দিতে পারে।

    মাইগ্রেনের চিকিৎসায় অবহেলা না করে চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা জরূরী। চিকিৎসককের নির্দেশিত চিকিৎসা পদ্ধতি, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হয়ে প্রয়োজনীয় থেরাপি নিলে মাইগ্রেন থাকলেই স্বাভাবিক আনন্দময় জীবনযাপন করা সম্ভব।

    ডা. চিরঞ্জিব বিশ্বাস
    সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, মনোরোগ বিভাগ
    মেডিকেল কলেজ ফর উইমেন অ্যান্ড হসপিটাল, ঢাকা


    প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। মনেরখবর-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য মনেরখবর কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

    সিরিয়ালের জন্য ভিজিট করুন- এপোয়েন্টমেন্ট

    আরও দেখুন- 

    • পর্নোগ্রাফি স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়

     

     

    মনের খবর
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Reddit WhatsApp Telegram Email
    Previous Articleসব সমস্যার সমাধান আছে, আত্মহত্যা কখনোই সমাধান নয়
    Next Article স্কুল–কলেজ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: দায় কার?
    Moner Khabor

    Related Posts

    শিশুর অবাধ্যতা কখন স্বাভাবিক, কখন ওডিডি?

    November 3, 2026

    মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ট্রিটমেন্ট গ্যাপ: সমস্যা বাড়াচ্ছে।

    November 3, 2026

    মেজাজের দুই মেরু: বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও লিথিয়াম আবিষ্কারের রোমাঞ্চকর ইতিহাস

    November 2, 2026
    Leave A Reply Cancel Reply

    Top Posts

    অতিরিক্তি হস্তমৈথুন থেকে মুক্তির উপায়

    July 25, 2021316 Views

    অভিভাবকত্ব শুধুমাত্র লালন-পালনের নাম নয়, এটি একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া

    June 30, 2025300 Views

    বাংলাদেশি মনোরোগ চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

    July 2, 2025209 Views

    পর্নোগ্রাফি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখবেন যেভাবে

    March 13, 2022118 Views
    Don't Miss
    জাতীয় November 3, 2026

    মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বানঃ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী

    স্বাস্থ্যসেবার  উন্নয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম বিস্তারে  জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বরাদ্দ বৃদ্ধির …

    শিশুর অবাধ্যতা কখন স্বাভাবিক, কখন ওডিডি?

    চার বছর ধরে ঘুমাতে পারি না, দুঃস্বপ্নে চিৎকার করি—সমাধান কী?

    মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ট্রিটমেন্ট গ্যাপ: সমস্যা বাড়াচ্ছে।

    Stay In Touch
    • Facebook
    • Twitter
    • Pinterest
    • Instagram
    • YouTube
    • Vimeo
    আমাদের সম্পর্কে
    আমাদের সম্পর্কে

    প্রকাশক ও সম্পাদক:
    অধ্যাপক ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
    মোবাইল : (+88) 018-65466594, (+88) 014-07497696
    ইমেইল : info@monerkhabor.com

    লিংক
    • মাসিক ম্যাগাজিন প্রাপ্তিস্থান
    • কনফারেন্স-সেমিনার-ওয়ার্কশপ
    • প্রেজেন্টেশন
    • জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট
    রিসোর্স
    • পরিচালনা পর্ষদ
    • মানসিক বিষয়ে সংগঠন
    • বিশেষজ্ঞ লোকবল
    • নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
    সোশ্যাল মিডিয়া
    • Facebook
    • YouTube
    • LinkedIn
    • WhatsApp
    © 2026 মনেরখবর সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
    • আমাদের সম্পর্কে
    • যোগাযোগ
    • গোপনীয়তা নীতি

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    Ad Blocker Enabled!
    Ad Blocker Enabled!
    Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors. Please support us by disabling your Ad Blocker.