জুয়া পৃথিবীর অনেক পুরোনো এবং প্রচলিত একপ্রকার বিনোদনের মাধ্যম। মানুষ কৌতূহল কিংবা বিনোদনের উদ্দেশ্যে জুয়া খেলা শুরু করলেও নেশায় এবং লোভে পড়ে এক পর্যায়ে খোয়ায় লাখ-লাখ টাকা।
তবে, জুয়ার মাধ্যমে যে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে তা নয়, জুয়ায় আসক্তির কারণে অনেকেই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে অশান্তিতে ভুগছেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, জুয়া অনেকটা মাদকাসক্তির মতো, মানুষ যখন জুয়ার তাড়না থেকে কোনোভাবেই নিজেকে দূরে রাখতে পারে না, তখন সেটিকে মানসিক রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ অবস্থায় মানুষ জুয়ার জন্য যদি সে তার সর্বস্ব হারিয়ে ফেলে তাতেও সে জুয়ার নেশা ত্যাগ করতে পারে না, ফলে তা ব্যক্তির জীবনে ধ্বংস ডেকে আনে।
এমনকি জুয়ার আসক্তির ফলে বেড়ে যেতে পারে আত্মহত্যার প্রবণতাও। জুয়ার সাথে আত্মহত্যা প্রবণতার সম্পর্ক খুঁজতে ব্রিটেনে একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়। ২০২১ সালে Lancet জার্নালে প্রকাশিত এ গবেষণায় Cross Sectional পদ্ধতিতে ১৬-২৪ বছর বয়সি ব্যক্তিদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যাদের জুয়ায় আসক্তি নির্ণয় করা হয়েছিল Problem Gambling Severity Index (PGSI) স্কেলটি ব্যবহার করে। গবেষণায় দেখা যায়, পুরুষদের মধ্যে যারা আত্মহত্যার প্রচেষ্টা করেছিলেন, তাদের মধ্যে ৩৭% জুয়ায় অভ্যস্ত ছিলেন। আত্মহত্যা-প্রচেষ্টাকারী নারীদের মধ্যে ১৪.৫% জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। গবেষণায় আরও দেখা যায়, জুয়ায় আসক্তির ফলে আত্মহত্যা-প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে- Anxiety, Impulsivity, Life dissatisfaction এবং Depression জুয়ার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
যদি কেউ জুয়া খেলার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে প্রথমে তার সমস্যাটা ভালো করে বুঝতে হবে এবং তাকে এই নেশা থেকে দূরে সরাতে যথাযথ সাপোর্ট দিতে হবে, প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। নয়তো-বা ঘটে যেতে পারে আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক পরিণতি।
তথ্যসূত্র
https://www.thelancet.com/journals/lanpub/a rticle/PIIS2468-2667(20)30232-2/fulltext
- ডা. ফয়সাল রাহাত
- ফেইজ বি রেসিডেন্ট, এমডি (সাইকিয়াট্রি),
- মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বিএমইউ।

