রাগ মানেই খারাপ অনুভূতি নয়

0
141
ডা. ফাতেমা তুজ জোহরা জ্যোতি
শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

রাগ একটি অনুভূতি। ঠিক যেমন সুখে থাকা, কষ্ট পাওয়া, ক্ষোভ, ভালো লাগা, ভালবাসা এগুলোও অনুভূতি।

আপনি যদি ভাবেন রাগ মানে খারাপ অনুভূতি, এই অনুভূতির আমাদের দরকার নেই, তাহলে আমি বলবো আসলে তা না। কোনো অনুভূতিই খারাপ না। আমাদের সব অনুভূতির প্রয়োজন আছে। কেননা অনুভূতি আছে বলেই আমরা মানুষ। তাহলে এখন প্রশ্ন আসে, ভুলটা কোথায় হচ্ছে?

আপনি ভেবে দেখেন, রেগে গিয়ে আজ পর্যন্ত আপনি যতগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অথবা যতগুলো কাজ করেছেন, তার সবগুলোই ভীষণ রকমের ভুল কাজ অথবা ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো। এর পিছনে একটি বড় কারণ আছে।

আমরা যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেই তখন আমাদের ব্রেনের প্রিফন্টাল কর্টেক্স নামে একটি এরিয়া এই সিদ্ধান্ত নেয়াতে সাহায্য করে। কোনটা ভালো, কোনটা আমাদের জন্যে ঠিক হবে না সেটি খুজে বের করে। কিন্তু আমরা যখন রেগে যাই তখন  আমাদের শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।

আমাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোন বের হয়, যা সমস্ত শরীরের সব জায়গায় কাজ করে স্বাভাবিক ভারসাম্য উলটপালট করে দেয়। আর রেগে থাকা অবস্থায় আমাদের ব্রেনের এমিগডেলা তখন কাজ করে। সেই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্যে প্রিফন্টাল কর্টেক্সকে ইনভলভ না করেই আমাদের ব্রেন ডিসিশন নিয়ে নেয়। এজন্য আমরা রেগে গেলে ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তি যুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হই।

আমরা মনে করি আমাদের রাগ দমন করা প্রয়োজন। আমাদের বুঝি একটুও রাগ করা উচিৎ না। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আমাদের উচিৎ আমরা রেগে গিয়ে যে কাজটি করি সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা। সহজ ভাবে বললে বলা যায়, আপনার অনুভূতি নয়, আপনার একশন বা প্রতিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করুন।

এর জন্যে আমরা যদি নিচের এই কয়েকটি পদ্ধতি ব্যবহার করি তাহলে আমরা খুব সহজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। পদ্ধতি গুলো হলো:

১. Delay (দেরি করা)

২. Distract (অন্য কাজে মননিবেশ করা)

৩. Decision (সিদ্ধান্ত নেয়া)

প্রথম স্টেপ হলো: আপনার রেগে গিয়ে যে কাজ করতে ইচ্ছে হচ্ছে আপনি তৎক্ষনাৎ সে কাজটি করবেন না। আপনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন৷ এতে আপনার রেগে গিয়ে যে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছিলো সেটা কিছুটা ঠিক হবে।

দ্বিতীয় স্টেপ হলো: সেই সময় টুকু কাটাতে আপনি সেই মুহূর্তে অন্য একটি ভালো লাগার কাজ করতে পারেন। সেটি হতে পারে প্রার্থনা করা, হালকা মিউজিক শোনা, শখের পোষা প্রানীকে আদর করা অথবা কোনো গল্পের বই পড়া। এছাড়াও ভালো লাগে এমন যেকোনো কাজ করতে পারেন।

তৃতীয় স্টেপ হলো: কিছুটা সময় পর এবার ঠান্ডা মাথায় আপনি সিদ্ধান্ত নিন যে, তখন রাগ করে যা করতে ইচ্ছে হচ্ছিল তা কি এখনো করতে ইচ্ছে হচ্ছে?  নাকি অন্যকিছু করা ঠিক বলে মনে হচ্ছে। আপনি এখন সেটি যুক্তি দিয়ে ভেবে করতে পারবেন।

ডা. ফাতেমা তুজ জোহরা জ্যোতি

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে

more

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here