“অধিক বয়স” এর পর করোনায় মৃত্যুর দ্বিতীয় ঝুঁকি হচ্ছে সিজোফ্রেনিয়া

0
59
ডা. মেজবাউল খাঁন ফরহাদ
শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

করোনা মহামারীর কারণে পৃথিবীব্যাপি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নানা প্রকার চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। কারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, আর কারা বেশি মারা যাচ্ছে তা নির্নয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ এর মাধ্যমেই আমরা সিদ্ধান্ত নেই কাদের প্রতি বেশি যতœশীল হতে হবে, কাদেরকে নিরাপদে রাখতে হবে, কাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাক্সিন দিতে হবে।

এখন পর্যন্ত যেই ঝুঁকিগুলো নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো- অধিক বয়স, পুরুষ লিঙ্গ, হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিস। বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক এবং জাতির মধ্যেও এর প্রকোপের ভিন্নতা পাওয়া গেছে। কিন্তু মানসিক রোগ করোনা ভাইরাসের মারাত্মক সংক্রমণ এবং মৃত্যুর কোন কারণ কি না, সে বিষয়ে গবেষণা হয়েছে খুবই কম।

যে সকল ব্যক্তি গুরুতর মানসিক রোগে আক্রান্ত তাদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেশি। এর মধ্যে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তরা বিশেষভাবে বেশি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বিগত বছরে গুরুতর মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদের করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ হওয়ার হার সাধারণ মানুষের থেকে ৭ গুন বেশি।

JAMA Psychiatry ৭৩৪৮ জন প্রাপ্ত বয়স্ক নিশ্চিত ল্যাব পজিটিভ করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তিকে ৪৫ দিন ফলোআপ করে এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। সেখানে দেখা গেছে, সিজফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার সাধারণ মানুষের থেকে (যাদের গুরুতর কোন মানসিক রোগ নাই) তিন গুন বেশি, যা অধিক বয়সের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঝুঁকি।

NIH (National Institute of Health) এর আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা করোনায় আক্রান্ত হলে তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার অন্যদের থেকে দ্বিগুন এবং তাদের মৃত্যুর হার সাধারণ রোগীর থেকে তিন গুন।

সিজোফ্রেনিয়ার সাথে করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর এরূপ সম্পর্কের সম্ভাব্য কারণ-

– আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মানসিক হাসপাতালে গাদাগাদি করে থাকে।

– তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপকরণ অপ্রতুল এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সম্যক জ্ঞান অনেক ক্ষেত্রেই থাকে না।

– সামাজিক কুসংস্কারের কারণে যথাযথ চিকিৎসা প্রাপ্তিতে অনেক বাঁধা পেতে হয়।

– বিভিন্ন প্রকার অ্যান্টি-সাইকোটিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

কিন্তু আশংকার কথা হচ্ছে, উপরের কারণগুলো ঠিক করার পরও, সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের করোনায় মৃত্যুহার যারা সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত নয় তাদের থেকে ২.৭ গুন বেশি পাওয়া গেছে। কী কারণে সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা করোনায় বেশি মারা যায়, তার সঠিক কারণ বের করতে হলে আরো অধিকতর গবেষণার প্রয়োজন।

আমাদের দেশে মানসিক রোগীরা খুবই অবহেলিত। উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে মানসিক রোগের চিকিৎসার তেমন কোন ব্যাবস্থা নেই, স্বাস্থ্যকর্মীদের নেই প্রাথমিক চিকিৎসার নূন্যতম কোন প্রশিক্ষণও। এরকম বাস্তবতায় সিজোফ্রেনিয়াসহ সকল গুরুতর মানসিক রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার ভ্যাক্সিন দেয়ার আবেদন করছি।

ডা. মেজবাউল খাঁন ফরহাদ

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরিদপুর।

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here