‘দুষ্টুমি’ ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন না তো?
“আমার কথা একদমই শোনে না!” “সবসময় তর্ক করে!” “কিছু বললেই রেগে যায়!”
“ভুল করেও কখনো স্বীকার করতে চায় না!” সন্তানের আচরণ নিয়ে এমন অভিযোগ অনেক অভিভাবকেরই থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো-এগুলো কি শুধুই শিশুর স্বাভাবিক জেদ ও দুষ্টুমি, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো আচরণগত সমস্য এখানেই আসে Oppositional Defiant Disorder (ODD)-এর বিষয়টি।
ODD কী?
ODD হলো শিশু-কিশোরদের একটি আচরণগত সমস্যা, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে শিশুর মধ্যে বড়োদের সঙ্গে অতিরিক্ত তর্ক করা, নিয়ম বা নির্দেশ অমান্য করা, সহজেই রেগে যাওয়া, বিরক্তিপ্রবণতা,ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে সব সময় বিরক্ত করা এবং নিজের ভুলের জন্য অন্যকে দায়ী করার মতো আচরণের একটি স্থায়ী pattern দেখা যায়। তবে মনে রাখতে হবে-প্রতিটি জেদি বা অবাধ্য শিশু ODD-এর রোগী নয়।
শিশুর বেড়ে ওঠার বিভিন্ন পর্যায়ে কিছুটা জেদ,’না’ বলা,রাগ বা তর্ক করা স্বাভাবিক। সমস্যা তখনই
যখন আচরণটি শিশুর বয়স ও বিকাশের তুলনায় অতিরিক্ত হয়ে ওঠে এবং পরিবার, স্কুল বা সামাজিক জীবনে উল্লেখযোগ্য সমস্যা তৈরি করে।

যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন
বারবার তর্ক করা: বাবা-মা বা শিক্ষকের সঙ্গে প্রায়ই তর্কে জড়িয়ে পড়া। সহজেই রেগে যাওয়া: সামান্য বিষয়েও অতিরিক্ত রাগ, বিরক্তি বা ক্ষোভ প্রকাশ করা। ইচ্ছাকৃতভাবে বিরক্ত করা: অন্যকে রাগানো বা বিরক্ত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আচরণ করা।ভুলের দায় অন্যের ওপর দেওয়া: নিজের ভুলের জন্য বারবার অন্যকে দায়ী করা প্রতিশোধপরায়ণতা: রাগ বা অপমানের বিষয় মনে রেখে প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা।
তাহলে দুষ্টুমি আর ODD-এর পার্থক্য কোথায়?
একটি শিশু মাঝে মাঝে কথা না শুনতেই পারে, রাগ করতে পারে বা অভিমান করে ‘না’ বলতে পারে। এটি অনেক সময় স্বাভাবিক বিকাশের অংশ কিন্তু যদি এই আচরণগুলো বারবার, দীর্ঘদিন ধরে এবং একাধিক পরিস্থিতিতে দেখা যায় এবং এর ফলে বাবা-মা, শিক্ষক, ভাইবোন বা অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সমস্যা তৈরি হয়- তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
এছাড়া ADHD, anxiety, mood disorder, learning difficulty, পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা অন্যান্য developmental/psychiatric সমস্যার সঙ্গেও আচরণগত সমস্যা থাকতে পারে। তাই শুধু আচরণ দেখে নিজে নিজে ODD-এর diagnosis করা ঠিক নয়।
সন্তান ODD-এর মতো আচরণ করলে কী করবেন?
প্রথমেই শিশুকে ‘খারাপ’, ‘দুষ্ট’ বা ‘অবাধ্য’ বলে লেবেল দেবেন না। বরং-ভালো আচরণ করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশংসা করুন।
নিয়ম অল্প, স্পষ্ট ও ধারাবাহিক রাখুন।নিয়ম ভাঙলে আগে থেকেই নির্ধারিত consequence দিন। রাগের সময় দীর্ঘ তর্কে যাবেন না শান্ত সময়ে শিশুর সঙ্গে কথা বলুন।বাবা-মা দুজনেই একই ধরনের নিয়ম অনুসরণ করুন।স্কুলের শিক্ষক ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকেও শিশুর আচরণ সম্পর্কে তথ্য নিন। প্রয়োজনে Child & Adolescent,Psychiatrist-এর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করান।
মনে রাখবেন–
ODD মানে ‘খারাপ শিশু’ নয়। একটি শিশুর আচরণের পেছনে অনেক সময় থাকে তার আবেগ পারিবারিক পরিবেশ, parenting,pattern, temperament অথবা অন্য কোনো মানসিক/বিকাশগত সমস্যা।
তাই সন্তান যখন বারবার বলে ‘না!’, তখন শুধু “কেন কথা শুনছ না?” না বলে একবার ভাবুন-“ও কেন বারবার ‘না’ বলছে?”
কারণ অনেক সময় শিশুর সমস্যার সবচেয়ে জোরালো ভাষা হলো- তার আচরণ।


