যেকোনো কাজ করতে গেলে আমরা প্রায়ই শুনি যে ধৈর্য ধরতে হবে”। সবুরের ফল মিষ্টি হয় আমরা কে না জানি! কিন্তু সব সময় কি ধৈর্য ধরা এতই সহজ? যখন কোনো বিপদ আসে কিংবা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে আমরা বিচলিত হয়ে যাই। এটা থেকে মানসিক চাপ তৈরি হয়, উদ্বেগ বাড়ে, রাগ থেকে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় ।
ব্যক্তির পরিবেশ, ব্যক্তিত্বের ধরন ভেদে ধৈর্য রাখার প্রবণতা একেক জনের একেক রকম। তাই প্রতিদিনের জীবনে ধৈর্য বাড়ানো একটি নিয়মিত অনুশীলনের বিষয়। এটি হুট করে একদিনেই গড়ে ওঠে না। প্রতিদিনের জীবনে ধৈর্য বাড়ানোর ছোটো ছোটো কৌশল মেনে চললে আমরা মানসিক চাপ মুক্ত জীবনযাপন করতে পারি, যা আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। নিচে প্রতিদিনের জীবনে ধৈর্য বাড়ানোর কয়েকটি কৌশল দেয়া হলো।
আরও দেখুন…
আত্ম-সহানুভূতিকে গ্রহণ করা
নতুন কোনো দক্ষতা শেখার সময় নিজের শেখার গতি কম মনে হলে নিজেকে সময় দিন। ভুল হলে নিজেকে ক্ষমা করুন। কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়।
প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে ভাবা
বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানানো থেকে বিরত থাকাই ভালো। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন যে এই পরিস্থিতিটি আপনার শক্তি ব্যয় করার যোগ্য কিনা? তা নাহলে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
কারণ শনাক্ত করা
আপনি কেন অধৈর্য হচ্ছেন বা কোন বিষয়টি আপনাকে বেশি রাগিয়ে তুলছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। কারণটি বুঝতে পারলে পরিস্থিতি সামলানো সহজ হয়। বিরক্তিকর মুহূর্তটিকে নিজের জন্য একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে ভাবুন। যেমন, জ্যামে আটকে থাকলে রাগ না করে চারপাশের পরিবেশ দেখার চেষ্টা করুন বা কোনো অডিও শুনুন।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম
হঠাৎ কোনো বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে পড়লে কিংবা মাথা কাজ করছে না মনে হলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে চোখ বন্ধ করে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিন। এটি মস্তিষ্কের নার্ভকে শান্ত করে এবং হুট করে রাগ প্রকাশ করার প্রবণতা কমায়।
মাইন্ডফুলনেস বা মেডিটেশন
প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট ধ্যান করুন বা মন দিয়ে বর্তমানের কাজটি উপভোগ করার অভ্যাস করুন। মেডিটেশন মানসিক স্থিরতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর।
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের কথা স্মরণ
যখন কোনো কাজ নিয়ে অধৈর্য হয়ে পড়বেন, তখন নিজের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও বিশ্বাসের কথা মনে করুন। এটি আপনাকে শান্ত থাকতে সাহায্য করবে। জীবনে লক্ষ্য অর্জনের জন্য বর্তমানে ধৈর্য রেখে ছোটো ছোটো ধাপ পার করে দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
অতএব দৈনন্দিন জীবনে ধৈর্য হলো হতাশা বা ধীরগতির সম্মুখীন হলে শান্ত থাকা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা এবং তাৎক্ষণিক তৃপ্তি পাওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখার একটি সক্রিয় অনুশীলন।
- ফারজানা ফাতেমা (রুমী)
- মনোবিজ্ঞানী

আরও পড়ুন…

