সহিংসতা বা দুর্ঘটনায় শিশু-কিশোরদের ওপর প্রভাব এবং প্রতিকারে করণীয়

সহিংসতা বা দুর্ঘটনায় শিশু-কিশোরদের ওপর প্রভাব এবং প্রতিকারে করণীয়

প্রতি বছর, শিশু এবং কিশোর-কিশোরীরা দুর্যোগ এবং অন্যান্য আঘাতমূলক ঘটনার সম্মুখীন হয়। পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্করা তরুণদের এই অভিজ্ঞতাগুলি মোকাবেলায় সহায়তা করার জন্য একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সহিংসতা বা গুরুতর দুর্ঘটনার মতো কোনো আঘাতমূলক ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার পর বা প্রত্যক্ষ করার পর শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের ওপর বিশেষ প্রভাব পড়ে। মানসিকভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখায়। এসময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নানান প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

বিভিন্ন বয়সী শিশু এবং কিশোরদের মাঝে যেসব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় :

• পেটব্যথা বা মাথাব্যথার মতো শারীরিক সমস্যা।
• দুঃস্বপ্ন দেখা বা ঘুমের অন্যান্য সমস্যা।
• ঘুমের জন্য বা যেকোনো সময় বিছানায় যেতে অস্বীকার করা।
• কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়।
• এমন কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে যা তারা সাধারণত উপভোগ করতো।
• আঘাত বা কারো মৃত্যু প্রতিরোধ না করার জন্য অপরাধবোধে ভোগে।
• প্রতিশোধের চিন্তায় লালন করে।

৫ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের মাঝে যেসব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় :

মা-বাবা বা পরিবারের যত্নশীলদের সাথে লেগে থাকে।
বারবার কাঁদে, অশ্রুসিক্ত হয়।
অল্পতে ক্ষেপে যায়, বা খিটখিটে হয়ে যায়।
হঠাৎ বিছানা ভিজানো এবং বুড়ো আঙুল চোষার মতো আচরণে ফিরে যায়।
অতিরিক্ত ভয় পায় (উদাহরণস্বরূপ, অন্ধকারের ভয়, দানব বা একা থাকা)।
কাল্পনিক খেলায় আঘাতমূলক ঘটনার দিকগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করুন।

৬ বছর এবং তার বেশি বয়সী শিশু কিশোর-কিশোরীরা যেসব প্রতিক্রিয়া দেখায় :

• স্কুলে যেতে চায় না।
• একা একা থাকে, পরিবার এবং বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
• যেকোনো অনুষ্ঠান বা লোক সমাগম এড়িয়ে চলে।
• ড্রাগ, অ্যালকোহল বা তামাকে আসক্ত হয়
• খিটখিটে, আক্রমণাত্মক ও অসম্মানজন আচরণ করে
• অল্পতে রেগে যায় বা বিরক্ত হয়।

এই প্রতিক্রিয়াগুলির মধ্যে অনেকগুলি স্বাভাবিক এবং সময়ের সাথে সাথে হ্রাস পাবে। কিন্তু যদি এই লক্ষণগুলি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে থাকে, তবে পরিবারের উচিত হবে একজন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে যোগাযোগ করা।

পরিবারের প্রাপ্তবয়স্করা যেভাবে সাহায্য করতে পারে?

প্রাপ্তবয়স্করাও এধরণের ট্রমায় আক্রান্ত হলে নানান প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং সেটা আরো দৃঢ়ভাবে শিশু-কিশোরদের প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তাদের নিজেদের সামলানোর ক্ষমতা অর্জন বা নিজেদেরকে সামলাতে পারে তখন তারা শিশু-কিশোরদে ভালো যত্ন করতে পারে।

ট্রমায় আক্রান্ত শিশু-কিশোরদের পরিচর্যাকারী এবং পরিবারের সদস্যরা একটি নিরাপদ এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে। যতটা সম্ভব শান্ত থাকা এবং চাপ কমিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের জানতে হবে যে তাদের পরিবারের সদস্যরা তাদের ভালোবাসে এবং তাদের যত্ন নেওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।

এসময় তাদের সাথে যা করবেন :

• নিশ্চিত করুন যে শিশু এবং কিশোর-কিশোরীরা নিরাপদ এবং তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হয়েছে।
• তাদের দুঃখিত হতে দিন বা কাঁদতে দিন। কাঁদার সময় বাধা দিবেন না।
• ঘটনা এবং তাদের অনুভূতি সম্পর্কে তাদের কথা বলতে, লিখতে বা ছবি আঁকতে দিন।
• আঘাতমূলক ঘটনা সম্পর্কে যতোটা সম্ভব কম পুনরাবৃত্তি করবেন।
• তাদের আপনার ঘরে (স্বল্প সময়ের জন্য) ঘুমাতে দিন বা তাদের ঘুমাতে সমস্যা হলে লাইট জ্বালিয়ে ঘুমাতে দিন।
• সব সময় তাদের পাশে থাকুন। ঘুমানোর সময় গল্প পড়া, একসাথে রাতের খাবার খাওয়া এবং গেম খেলা।
• তাদের নিজেদের জন্য কিছু সিদ্ধান্ত নিতে দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ অনুভব করতে সাহায্য করুন, যেমন তাদের খাবার বেছে নেওয়া বা তাদের পোশাক বাছাই করা।

সব সময় তাদেরকে নজরে রাখতে হবে। আচরণ, বক্তৃতা, ভাষার ব্যবহার বা তীব্র আবেগের আকস্মিক পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। নতুন কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। বিশেষ করে নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে।

• ফ্ল্যাশব্যাক থাকা অর্থাৎ পেছনের ঘটনা বারবার মনে করে ভয় পাওয়া
• সামান্য হাঁটা বা পরিশ্রমে দূর্বলবোধ হওয়া এবং ঘাম হওয়া
• সহজেই চমকে যাওয়া
• মানসিকভাবে অসাড় হওয়া
• খুব দুঃখিত বা বিষণ্ণ হয়ে থাকা

তাদের সাথে যা করবেন না :

• শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের সাহসী হওয়ার ব্যাপারে কঠোর হবেন না
• তারা প্রস্তুত হওয়ার আগে, ঘটে যাওয়া বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না
• তারা দৃঢ় আবেগ দেখালে রাগ যাওয়া যাবে না
• তারা বিছানা ভিজানো, অভিনয় করা বা আঙুল চোষা শুরু করলে বিরক্ত হওয়া যাবে না
• এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া যাবে না যেটা আপনি রাখতে পারবেন না (যেমন তুমি কালকেই ঠিক হয়ে যাবে বা শীঘ্রই বাড়িতে চলে যেতে পারবে)।

তথ্যসূত্র এনআইএমএইচ। মূল নিবন্ধ পড়তে ক্লিক করুন :

/এসএস/মনেরখবর/

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here