প্রশ্ন: আমি বেশ কিছুদিন ধরেই এক ধরনের সমস্যা অনুভব করছি নিজের ভেতরে। গতকাল আমার বয়স ২৫ পূর্ণ হলো। ঢাকার একটি কলেজে স্নাতকোত্তর করছি। আমি অবিবাহিত। ইন্টারের পর থেকে একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসতাম। কিন্তু অনার্সের ২য় বর্ষে এসে মেয়েটি আমাকে কিছু না জানিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করে নেয়। তারপর থেকে আমি কোনো সম্পর্কের মধ্যে যাইনি। আমার সমস্যা হলো- সবসময় চুপচাপ থাকতে ভালো লাগে। কথা বলতে বা মানুষের সঙ্গে মিশতে চরম বিরক্ত লাগে। বিশেষ করে, মানুষের সঙ্গে কথা বলার প্রতি প্রচণ্ড অনীহা কাজ করে। কেউ কিছু জিজ্ঞাসা না করলে বা খুব প্রয়োজন না হলে কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করে না। অনেক সময় কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলেও উত্তর দিতে ইচ্ছে করে না। কারও সঙ্গে কথা বললেও আমার স্বর খুব ক্ষীণ হয়ে যায়। গুছিয়ে, উচ্চস্বরে কথা বলতে পারি না। কথার মধ্যে জোর বা আত্মবিশ্বাস রাখতে পারি না। বন্ধুবান্ধব বা পরিচিত কেউ নিজে থেকে যোগাযোগ না করলে আমিও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে আগ্রহ বোধ করি না। অন্যের অনুকরণ করতে পারি না। কেউ কিছু শিখিয়ে বা দেখিয়ে দিলেও তা আয়ত্তে আনতে পারি না। অনেক কিছু দেখি, কিন্তু কথা বলতে ইচ্ছে করে না। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ নিয়েছিলাম, কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কমান্ড ও নিয়ম অনুসরণ করতে পারিনি। ক্লায়েন্টদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলতে পারতাম না বলে চাকরিগুলো ছেড়ে দিয়েছি।
আরও দেখুন…
মোটকথা, মানুষের সান্নিধ্য এবং কথা বলার প্রতি চরম অনীহা ও বিরক্তি কাজ করে আমার মধ্যে। তবে আমি আগে থেকেই অনেক মেধাবী ছিলাম। আমার এই সমস্যার জন্য আমি কী করতে পারি? কীভাবে পরিত্রাণ পেতে পারি?
পরামর্শ: আপনি লিখেছেন যে, আপনি পঁচিশ বৎসর বয়সের একজন পুরুষ। আপনার একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল; কিন্তু সে আপনাকে না জানিয়েই অন্য একজনকে বিয়ে করে ফেলে। এরপরে আপনার কিছু উপসর্গ তৈরি হয়েছে, যেমন চুপচাপ থাকা, সহজেই বিরক্ত হওয়া, মানুষের সঙ্গ পছন্দ না করা, অন্যদের সাথে কথা বলতে অনীহা ইত্যাদি।
সেইসাথে আত্মবিশ্বাসের অভাব, বন্ধুদের সাথে যোগাযোগে অনাগ্রহ এসবও আছে। তাছাড়া আগে থেকেই আপনার মধ্যে ব্যক্তিত্বের কিছু অসঙ্গতি আছে। আপনি সেল্স এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরি নিয়েছিলেন। সেখানে আপনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ ও নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করতে পারেননি। ক্লায়েন্টদের সাথেও আন্তরিকভাবে কথা বলতে পারেননি বিধায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। মানুষের সান্নিধ্যে আপনি চরম বিরক্ত হন; তবে আপনি মেধাবী। সম্পর্ক ব্রেকআপের পরে আপনার মধ্যে বিষণ্ণতার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তবে আগে থেকেই আপনার মধ্যে ব্যক্তিত্বের কিছু অসঙ্গতি ছিল। আপনি অন্তর্মুখী সেইসাথে সোশ্যাল অ্যাংজাইটিও থাকতে পারে।
আপনি একজন মনোচিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ঔষধ ও মনস্তাত্ত্বিক দুই ধরনের চিকিৎসাসেবাই আপনার লাগবে। চিকিৎসায় লেগে থাকলে আপনার বিষণ্ণতাজনিত উপসর্গ ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কিত সমস্যার উন্নতি হবে বলেই আশা রাখি। আপনার জন্য শুভকামনা।
- অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন্নাহার
- সাবেক বিভাগীয় প্রধান, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ,
- বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

আরও দেখুন…

