- মো. মিলন আহমেদ
- কল সেন্টার রিপ্রেজেন্টেরিভ
মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা মনের খবরের মৌলিক এজেন্ডা।মনের খবর চায় সব মানুষ তার নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকুক।এজন্য সাধারণ মানুষের মাঝে আদৌ মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে কোনো ধারণাআছে কিনা সেটা জানতে মনের খবর প্রায়ই একেবারে প্রান্তিক মানুষের মুখোমুখি হয়। এবার আমরা একজন কল সেন্টার রিপ্রেজেন্টেটিভের মুখোমুখি হয়েছিলাম।তার কাছে জানতে চেয়েছি মানসিক স্বাস্থ্যের খুঁটিনাটি নানা বিষয়। কল সেন্টার রিপ্রেজেন্টেটিভ মো. মিলন আহমেদের বাড়ি টাঙ্গাইলে । বয়স ২৬। বর্তমানে তিনি কল সেন্টারে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কর্মরত আছেন। তার সাথে কথা বলেছেন, মনের খবর প্রতিবেদক।
মনের খবর: আপনার নাম কী?
মো. মিলন আহমেদ: আমার নাম মো. মিলন আহমেদ।
মনের খবর: আপনি কী স্টুডেন্ট নাকি কোন জব করেন?
মো. মিলন আহমেদ: আমি বর্তমানে একটা কল সেন্টারে সেলস রিপ্রেজেন্টেরিভ হিসেবে কাজ করি।
মনের খবর: আপনি কতদিন যাবৎ কল সেন্টারে কাজ করছেন?
মো. মিলন আহমেদ: তিন মাস ২০ দিন।
মনের খবর: সেখানে আপনার দায়িত্ব কী? মানে আপনার কাজ কী কী?
মো. মিলন আহমেদ: কাস্টমার আসে। আসার পরে পণ্যের দাম জিজ্ঞেস করে? আমরা ওনাদের প্রত্যেকটা পণ্যের দাম বলি। মাঝে মাঝে তারা আমাদেরকে তাদের সমস্যার কথা বলে। সমস্যাগুলো শুনে আমরা তাদেরকে সমস্যা অনুযায়ী প্রোডাক্ট সাজেস্ট করি। এরপর তারা অর্ডার করার জন্য নাম নাম্বার দেয়। পরে আমরা অর্ডার কনফার্ম করি।
মনের খবর: এই পেশায় আসার কারণ কী? পরবর্তিতে এই পেশায় আপনার কোনো ভালো পজিশনে যাওয়ার ইচ্ছে আছে?
মো. মিলন আহমেদ: কিছু একটা তো করতেই হবে, তাই এখানে ঢুকেছি। তবে এখন আমার টিম লিডার পজিশনে বা কিউএ যাওয়ার ইচ্ছে আছে?
মনের খবর: কিউএ কী?
মো. মিলন আহমেদ: চ্যাট এনালিস্ট মানে চ্যাট চেক করা।
মনের খবর: প্রতিদিন আপনি কতজন কাস্টমারের সাথে কথা বলেন?
মো. মিলন আহমেদ: ৬০০-৭০০ কাস্টমারের সাথে কথা বলতে হয়। ৬০০-৭০০ না হলেও ৫০০-৬০০ তো হবেই।
মনের খবর: এ কাজের মধ্যে কোন জিনিসটা আপনার কাছে ভালো লাগে?
মো. মিলন আহমেদ: সেলস বেশি হলে ভালো লাগে। যেহেতু সেলসের কাজ।
মনের খবর: আচ্ছা, ঠিক আছে। আপনার কাজের মধ্যে কোন কাজটা আপনার কাছে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়? মানে কোনটা করতে বেশি কষ্ট হয়?
মো. মিলন আহমেদ: চ্যালেঞ্জিং বলতে, যখন চ্যাট ফ্লো না থাকে, তখন অর্ডার নেওয়া খুব কষ্ট। এই এতটুকুই শেষ, তার বেশি না। চ্যাট ফ্লো ভালো থাকলেই অর্ডার চলে আসে।
মনের খবর: আপনাদেরকে কাজের মধ্যে কি প্রেশার দেয়?এই যেমন ধরেন এত সময়ের ভিতরে এতটা সেল করতে হবে? মানে মানসিক চাপ কিরকম কাজের মধ্যে?
মো. মিলন আহমেদ: হ্যাঁ, এরকম তো আছেই। ঘন্টায় মনে করেন যে ৫টা করে সেল আনতে হবে, লিড দিতে হবে ৬-৭টা। এরকম।
মনের খবর: কাজ শেষে যখন বাসায় আসেন, ওই সময় কী অনেক বেশি ক্লান্ত লাগে?
মো. মিলন আহমেদ: অবশ্যই ক্লান্ত লাগে। ৯ ঘন্টা কাজ করে আসলে খুব ক্লান্ত হয়ে যাই।
মনের খবর: ঘুম কম হয় কাজের কারণে?
মো. মিলন আহমেদ: অনেক কম হয়। ঘুম, খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো হয় না।
মনের খবর: আপনার জীবনে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে? যখন আপনি প্রচুর হতাশ হয়ে গেছেন বা মানসিকভাবে খুব বেশি ভেঙে পড়েছেন?
মো. মিলন আহমেদ: আমার আব্বু যখন অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলো, তখন খুব বেশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম? হতাশা ঘিরে ধরেছিলো আমাকে সে সময়।
মনের খবর: আপনার কী কখনো মন খারাপ হয়?
মো. মিলন আহমেদ: হুমম, মাঝে মাঝেই মন খারাপ হয়।
মনের খবর: মন খারাপ হলে কীভাবে পরে মন ভালো করেন?
মো. মিলন আহমেদ: এই ধরেন কোথাও ঘুরতে যাওয়া যায়, প্রকৃতির মধ্যে হাটাহাটি যেমন দিয়াবাড়ী বা চন্দ্রিমা উদ্যানে।
মনের খবর: মানসিক স্বাস্থ্য বলতে আপনি কী বুঝেন? কোন জিনিসগুলো ঠিক থাকলে আপনি একজন মানুষকে মনে করবেন যে সে মানসিকভাবে সুস্থ?
মো. মিলন আহমেদ: খাওয়া-দাওয়া এগুলো যদি টাইমলি হয়, রাতের ঘুম রাতে যাওয়া, মানে টাইম মতো। খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো না হইলে, টাইমলি ঘুম না হলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যায় মানুষ। ঘুম আসে, ক্লান্তি আসে, সবকিছু।
মনের খবর: আপনার কী মনে হয়? মানসিক ডাক্তারের কাছে মানুষ কেন যায়?
মো. মিলন আহমেদ: উল্টাপাল্টা চিন্তাভাবনার কারণে। হতাশা, দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা এগুলোর কারণে। এই সমস্যাগুলো দূর করার জন্যই মানুষ মানসিক ডাক্তারের কাছে যায়। অনেকে এগুলোকে মনে করে ফাইজলামি। মানসিক ডাক্তারের কাছে কিসের জন্য মানুষ যায়? কিন্তু আসলে অনেক মানসিক ডাক্তার আছে যারা কথা বলার দ্বারা আপনার মেন্টালিটি চেঞ্জ করে দিতে পারে। মানসিক ডাক্তারের কাছে যাওয়াকে আমিও আগে মনে করতাম ফাইজলামি। শুধু শুধু এত টাকা দিয়ে মানুষ কেনো মানসিক ডাক্তারের কাছে যাবে? কিন্তু মানসিক চিকিৎসা আসলে খুবই প্রয়োজনীয়।
মনের খবর: আচ্ছা, আপনার কী মনে হয়? কল সেন্টারে যারা কাজ করে, এরা মানসিকভাবে কী পুরোপুরি সুস্থ? এরকম কারও সাথে দেখা হয়েছে যে মানসিকভাবে অসুস্থ বা আপনার মনে হয়েছে যে ও মানসিকভাবে ভালো নেই?
মো. মিলন আহমেদ: অনেকেই অসুস্থ মানসিকভাবে। কারণ সেখানে টাইমটেবিল খুবই এলোমেলো। অনিয়মিত শিফটে ঘুম ও খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো হয় না।
মনের খবর: আচ্ছা, এই যে কল সেন্টারে কাজ করেন, আপনি যে বলেছেন মানসিকভাবে সবাই একটু অসুস্থ, ঘুম-টুম হয় না। এখন আপনার কী মনে হয়, কী করলে সবাই কলসেন্টারে মানসিকভাবে সুস্থ হবে এবং আরো সুন্দরভাবে কাজ করতে পারবে?
মো. মিলন আহমেদ: টাইমলি ব্রেক দেওয়া। আর টিম লিডার ও ম্যানেজারদের উচিত কর্মীদের প্রতি আরো কেয়ারিং থাকা। যে নাইট শিপ্ট করবে তাকে পরের দিন বন্ধ দেওয়া। মানে শিপ্টগুলো সবার মধ্যে সুন্দর ভাবে বণ্টন করে দেওয়া।
মনের খবর: হুমম, ঠিক আছে।
মনের খবর: আচ্ছা এই যে কাজ করছেন, এটা থেকে আপনি কী কী শিখতে পারছেন?
মো. মিলন আহমেদ: এই যে ধরেন টাইম ম্যানেজমেন্ট, রুলস, কীভাবে প্রেশার নিতে হয়, কীভাবে স্ট্রেস ম্যানেজ করতে হয় মানে সময়ের কাজ সময়ে করা। এগুলোই আরকি।
মনের খবর: এই যে আপনি কাজ করছেন, আপনি কি আপনার পেশাতে সন্তুষ্ট?
মো. মিলন আহমেদ: মোটামুটি। এভারেজ। বেটার অপরচুনিটি পাইলে অবশ্যই শিপ্ট করবো।
মনের খবর: ঠিক আছে মিলন ভাই আপনাকে ধন্যবাদ।
মো. মিলন আহমেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।

