নাসরিন সবুর
ডিরেক্টর অব আলীস্কো ফুডস্
বিংশ শতাব্দীর শেষ দশক থেকে বিশ্বব্যাপী শুরু হয়েছে এক সর্বগ্রাসী যান্ত্রিক সভ্যতা। একবিংশ শতাব্দীর ফার্স্ট কোয়ার্টারে এসে তার প্রভাব মানব সভ্যতার বুদ্ধিবৃত্তিকে গ্রাস করেছে দানবের মতো। মানুষ সকল কাজেই তার মেধা ও মননের ব্যবহার না করে রোবটের মতো প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছে।
গবেষণা এবং কোনো কাজে গভীরভাবে মনোনিবেশ করার জন্য নিরবচ্ছিন্ন এবং একান্ত সময় প্রয়োজন। যন্ত্রনির্ভর যোগাযোগ, বিনোদন ও প্রযুক্তি দ্বারা সমাজ সভ্যতায় আমরা আক্রান্ত হচ্ছি। বুদ্ধি না খাটানোর জন্য একে অলস ও প্রতিবন্ধী ব্যাধি বলেও আখ্যায়িত করা যায়।
ভিডিও কল, হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার টেলিফোন, টেলিগ্রাম, ফেসবুক সহ নানা যোগাযোগ প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের উপর একচ্ছত্র দখল নিয়ে বসে আছে।
দিনের পর দিন এই ডিজিটাল নির্ভরতা ক্রমেই এক গভীর খাদের কিনারে আমাদেরকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গবেষকরাও সেই ফাঁদে ক্রমশ আটকে যাচ্ছেন। ফলে মেধার বিকাশ রুদ্ধ হচ্ছে এবং কৃত্রিম এক সর্বনাশা ভবিষ্যতের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
যাঁরা যন্ত্র আর প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাচ্ছেন তাঁরা অবশ্যই মেধাবী এবং অনুসন্ধিৎসু কিন্তু অবশিষ্ট ৯৯% মানুষ কেবল সেই যন্ত্রেরই দাসত্ব করে যাচ্ছে। এক টাকা দামের দুটো ট্যাবলেট কিনলেও দোকানদারকে ক্যালকুলেটর টিপতে দেখা যাচ্ছে। কী ভয়াবহ বুদ্ধিহীনতায় বর্তমান সমাজ ও সভ্যতা নিপতিত হয়েছে।
আধুনিক যন্ত্র মানুষকে দিয়েছে গতি, কেড়ে নিয়েছে বুদ্ধিমত্তা। বোতাম টিপলেই যেখানে কার্যসিদ্ধি সেখানে কে আর মাথা খাটায়? ভবিষ্যতের মানুষ যে আবেগহীন জড় যন্ত্রে পরিণত হবে তার লক্ষণ সুস্পষ্ট। তার হাসি কান্না সবই হবে কৃত্রিম। বন্ধুত্ব আটকে যাবে হায় হ্যালোতে। বুদ্ধির দেউলিয়াত্ব গ্রাস করবে গোটা দুনিয়াকে। এখনো সময় আছে। আসুন, যন্ত্র নির্ভরতা হ্রাস করি, মানুষের মন ও মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটাই।

