জাতীয় সংসদে মানসিক স্বাস্থ্য বিল-২০১৮ পাস হয়েছে। মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কিত বিষয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত পেশাজীবী হিসেবে কোনো ব্যক্তি মিথ্যা সার্টিফিকেট দিলে অনধিক ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে এই বিলে।
বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, মর্যাদা সুরক্ষা, সম্পত্তির অধিকার ও পুনর্বাসন এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধানের প্রস্তাব করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরপর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে গত বুধবার বিলটির ওপর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম। রিপোর্টে বিলটি সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ করা হয়েছিল।
বিলে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালনা, মানসিক স্বাস্থ্য রিভিউ ও মনিটরিং কমিটি গঠন, মানসিক অসুস্থ ব্যক্তির অধিকার, মানসিক হাসপাতাল স্থাপন, লাইসেন্স, মানসিক হাসপাতাল পরিদর্শন, তল্লাশি ও জব্দ, জরিমানা আরোপের ক্ষমতা, মানসিক রোগীর চিকিৎসায় ভর্তি, স্বেচ্ছায় ভর্তির প্রক্রিয়া, মানসিক রোগীর চিকিৎসার অধিকার, পুনর্বাসন মানসিক অবস্থার বিচারিক অনুসন্ধান, মানসিক রোগীর অভিভাবকত্ব, তার সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইন কার্যকরের ৯০ দিনের মধ্যে যে মানসিক হাসপাতালগুলো আছে সেগুলোকে লাইসেন্স নিতে হবে। এই আইন লঙ্ঘন করলে শাস্তি পেতে হবে। সরকারের লাইসেন্স নিয়ে বেসরকারিভাবে মানসিক হাসপাতাল স্থাপনের বিধানও রাখা হয়েছে বিলে। এতে অভিভাবক বা ব্যবস্থাপক মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা বা সম্পত্তির তালিকা প্রণয়ন বা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে অবহেলা বা আদালতের কোনো নির্দেশনা অমান্য করলে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা তিন বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনটি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক একমাত্র আইন। শত বছরের পুরনো এ আইনটির প্রাসঙ্গিকতা ও সময়োপযোগিতা বহু আগেই হ্রাস পেয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত নাগরিকগণের মর্যাদা সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, সম্পত্তির অধিকার, পুনর্বাসন ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণে একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এ পরিপ্রেক্ষিতে শত বছরের পুরনো এ সংক্রান্ত আইনটি রহিতক্রমে মানসিক স্বাস্থ্য আইন-২০১৮ প্রণয়ন করা প্রয়োজন ও যুক্তিযুক্ত।
মানসিক স্বাস্থ্য বিল পাস: মিথ্যা সনদে জেল জরিমানা
Previous Articleতিন সেকেন্ডের সহজ কৌশল বদলে দেবে জীবন
Next Article মনের সমস্যা হলে শরীরে কেন শক্তি পাই না

