কেস স্টাডি ১: তানিয়া শহরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়া স্মার্ট কিশোরী। তানিয়া ছিল এক সময় খুব হাসিখুশি ও সৃজনশীল মেয়ে। সে কবিতা লিখতো, ছবি আঁকতো, এবং ক্লাসে বেশ সক্রিয় ছিল। একসময় তার মা তাকে একটি স্মার্টফোন উপহার দেন- পড়ালেখার সুবিধার্থে, ক্লাসে অনলাইন রিসোর্স দেখার জন্য। পড়াশোনার কাজের পাশাপাশি সে অন্য কারণেও স্মার্টফোন ব্যবহার করতে শুরু করে। দিনে গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা ফোন ব্যবহার করতো, মূলতঃ Facebook, Instagram, Snapchat, TikTok এসব। কিছু দিনের মধ্যেই তার পরিবর্তন চোখে পড়ে। তানিয়া ইনস্টাগ্রামে “ইনফ্লুয়েন্সার” হতে চায়, দিনে ২-৩টি সেলফি পোস্ট করে, লাইকের সংখ্যা নিয়ে চিন্তিত থাকে। অন্যের ছবি দেখে হীনম্মন্যতায় ভুগতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ক্লাসে মনোযোগ কমে যায়, বন্ধুদের সঙ্গে সময় না কাটিয়ে শুধু অনলাইনে ব্যস্ত থাকে, রাতে ঘুমাতে দেরি করে- “রিল বানাতে হবে” তাই, খাওয়া-দাওয়ার সময়েও চোখ স্ক্রিনে থাকে। সবমিলিয়ে কয়েক মাস পরে তার আত্মবিশ্বাস কমতে থাকে, শরীরের গড়ন ও সৌন্দর্য নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করে, ঘুমের অসুবিধা তৈরি হয়, এবং প্রায়শই হালকা বিষণ্ণতা ও উদ্বিগ্নতায় ভুগতে থাকে। ফলে তার সব কাজকর্মের মান কমতে থাকে। বাবা-মা বিষয়টি খেয়াল করে ওর স্কুলের কাউন্সেলরের কাছে নিয়ে যান। তখন থেকে মা-বাবা ও স্কুল কাউন্সেলরের সহায়তায় ফোন ব্যবহারে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়, বাস্তব জীবনের শখ যেমন আঁকা ও কবিতা লেখার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়, সপ্তাহে একদিন “No-Screen Day” পালন শুরু হয়। ফলে দুই মাস পরে তানিয়া ধীরে ধীরে আগের মত প্রাণবন্ত হতে শুরু করে।
কেস স্টাডি ২: সবার কাছে আব্দুল স্যার নামে পরিচিত আব্দুল সাহেব একজন গ্রামে বসবাসরত অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। দুই ছেলে, দু’জনেই বিদেশে থাকে। স্ত্রী গত হয়েছেন। উনি একসময় খুব সক্রিয় মানুষ ছিলেন- মাঠে যেতেন, গল্প করতেন, মসজিদে জামাতে যেতেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটার সমস্যা ও বন্ধুবান্ধবের মৃত্যু তার জীবনে একাকীত্ব বাড়িয়ে দেয়। অবসরের পর সময় কাটাতে ও বিদেশে ছেলেদের সাথে যোগাযোগ রাখতে একটি স্মার্টফোন উপহার দেয় তাঁর বড় ছেলে। অল্প অল্প ব্যবহার দিয়ে শুরু করে পরবর্তীতে আব্দুল সাহেব দিনে গড়ে ৮-১০ ঘণ্টা মোবাইলে কাটাতে শুরু করেন। তখন মোবাইলই হয় তার সঙ্গী। সারাদিন Facebook-এ রাজনৈতিক ভিডিও দেখা, YouTube-এ ধর্মীয় বক্তৃতা, WhatsApp-এ বিভিন্ন “ভয়ঙ্কর খবর” ফরোয়ার্ড করা, মাঝে মাঝে গেম খেলাও-এগুলো হয়ে উঠে তাঁর নিত্যসঙ্গী। উনার মনে হয় উনিতো কোন খারাপ কিছু করছেন না, বয়স্ক মানুষরা যা যা করে উনি তো সেসবই করছেন। হিসেবে এসব নিয়েই তো থাকতে হয়। তিনি বুঝতে পারেন না যে, এসবের আড়ালে উনি মূলতঃ অহেতুক ও অপ্রয়োজনীয় তথ্যের ভারে মানসিক ভাবে ভারক্রান্ত হচ্ছেন, উনার ভিতরে অবিশ্বাস ও অস্থিরতা জেঁকে বসছে, ভুয়া খবরকে সত্যি ভাবতে ভাবতে উনার যুক্তিবোধই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে উনার ঘুম কমে যায় – রাতে ঘুম ভেঙে আবার ফোন দেখেন; সন্দেহপ্রবণতা বেড়ে যায়- “সবাই দেশ ধ্বংস করে দিচ্ছে” এরকম ভেবে ভেবে; সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন – আগের মতো মসজিদে যান না; এবং অতিরিক্ত রেগে যান, চিৎকার করেন বারবার। ছেলেরা দেশে বেড়াতে এসে এসব নজরে পড়লে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। হালকা কিছু ঔষধের পাশাপাশি উনার ফোন ব্যবহারে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, নাতি-নাতনিদের সঙ্গে নিয়মিত ভিডিও কলের ব্যবস্থা করা হয়, এবং পাশাপাশি গ্রামের শিশুদের কোরআন পড়ানো ও গল্প বলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিছুদিন পরেই উনার মোবাইলের প্রতি আসক্তি কমে, মানসিকভাবে শান্ত হন, সমাজের সঙ্গে পুনঃসংযোগ তৈরি হয়।
শুধু উপরের উদাহরণের কিশোরী বা বৃদ্ধ নন- আমাদের সবাইকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে কী করেন- তবে বেশিরভাগেরই উত্তর হবে: “মোবাইল দেখি!” একসময় মোবাইল ফোন ছিল শুধু কথা বলার মাধ্যমে যোগাযোগের একটি সহজ ও দ্রুত মাধ্যম। তারপর এল ফিচার ফোন – যেখানে এসএমএস, গেমস (নকিয়ার স্নেক গেম, মনে আছে?), টর্চ আর রেডিও যোগ হলো। তারপর হঠাৎ যেন ঝড়ের গতিতে এল ‘স্মার্ট’ ফোন। বিশ্বের প্রথম স্মার্টফোন আসে ১৯৯৪ সালে- IBM-এর “Simon Personal Communicator” । তখন এর মধ্যে ছিল কল, ক্যালেন্ডার, মেমো, ফ্যাক্স! তখনকার তুলনায়, সত্যিই এক বিস্ময়। ২০০৭ সালে Apple-এর iPhone বাজারে আসার পর স্মার্টফোন বিপ্লব ঘটে যায়। Android এসে এটিকে আরও গণমুখী করে তোলে। স্মার্টফোন, এক সময়ে বিলাসিতা মনে হলেও, এখন প্রয়োজনীয়তার প্রতীক। বর্তমান বিশ্বে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৭.৩ বিলিয়ন (Statista, 2024)। প্রতিদিন গড়ে একজন ব্যবহারকারী স্মার্টফোন চেক করে ৯৬ বার (Deloitte, 2022)। স্মার্টফোন এখন শুধুই একটা যোগাযোগের যন্ত্র নয়- এটি আমাদের ঘুম, খাওয়া, পড়া, অনুভব, এমনকি ভালো লাগা-মন্দ লাগাও নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে। “একটু নীচে নামবেন?” নীচে নামার এমন অনুরোধের ভাষাও পরিবর্তন হয়ে “একটু নিচে স্ক্রল করবেন?”– এমনটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এই ‘স্মার্ট’ ফোন আসলে কতটা ‘স্মার্ট’? সত্যিই কি এটি নিজের মতো চিন্তা করতে পারে? আমাদের মতো অনুভব করতে পারে? নাকি এর ‘স্মার্টনেস’ শুধু প্রোগ্রামিং-এর ফাঁদ? স্মার্টফোন তো আমাদের মতো ভাবতে পারে না, তাহলে “স্মার্ট” কেন বলা হয়? স্মার্টফোনের “স্মার্টনেস” কোথায়?
এই অংশটাই সবচেয়ে চমকপ্রদ! প্রথমতঃ আমাদের যেমন মস্তিষ্ক বা মগজ, তেমনি স্মার্টফোনের মগজের নাম হচ্ছে প্রসেসর-ফোনের মস্তিষ্ক। বর্তমানে সেখানে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা সংযোজন করা হচ্ছে। দ্বিতীয়তঃ মানুষের পঞ্চেন্দ্রিয়ের মতো রয়েছে বিভিন্ন ধরণের সেন্সর। যেমন- Accelerometer ফোন কেমন নড়ছে তা বোঝে, Gyroscope কোন দিকে ফোন কাত হচ্ছে বুঝে, Proximity ফোন কানে ধরলে স্ক্রিন বন্ধ করে দেয়, Light Sensor আলো বুঝে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা বাড়ায়/কমায়, GPS ফোনের অবস্থান জানে, Fingerprint/Face ID ফোনের মালিককে চিনে। তৃতীয়তঃ স্মার্টফোনে থাকে হাজার রকমের সফটওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), যাদের কারণে স্মার্টফোন করে হাজার রকমের কাজে সাহায্য। যেমন- গুগল ম্যাপ ট্রাফিকসহ রাস্তা দেখায়, ক্যামেরা নিজে থেকে ফেস ডিটেক্ট করে, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা স্যিরি প্রশ্নে উত্তর দেয়! তবে সব কিছুই আগেভাগে প্রোগ্রাম করা। মানুষের মস্তিষ্কের মতো ফোন নিজে থেকে ‘ভাবতে’পারে না, শুধু সিদ্ধান্ত নেয় হিসেব করে। এই বিষয়টি মনে রাখতে হবে আমাদের পরবর্তী আলোচনাতে।
কারণ, স্মার্টফোনকে কিভাবে ব্যবহার করছে মানুষ তার উপর ভিত্তি করে স্মার্টফোন একদিকে হতে পারে বন্ধু, অন্যদিকে হতে পারে শত্রু। বন্ধুর মতো সে শিক্ষাকার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে: যেমন- ইউটিউব, কোর্স অ্যাপ, গুগল ক্লাসরুম, Khan Academy; মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে পারে, যেমন- বন্ধুবান্ধব, পরিবার, অনলাইন গ্রুপে সংযুক্ত রাখে; মানুষের সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে, যেমন- ছবি আঁকা, ভিডিও বানানো, মিউজিক এডিটিং প্রভৃতি। আবার ভুলভাবে ব্যবহৃত হলে স্মার্টফোন হয়ে ফাঁদে পরিণত হয়ে উঠতে পারে। অহেতুক সময় নষ্ট করতে পারে TikTok, Reels, বা শুধু শুধু সোশ্যাল মিডিয়া scrolling। মনোযোগ কমিয়ে দিয়ে করতে পারে পড়াশোনায় সমস্যা। ঘুমের ব্যাঘাত হতে পারে রাতে স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে মেলাটোনিন হরমোন কমিয়ে দিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারে হতে পারে হীনম্মন্যতা- “ওর ১০০০ ফলোয়ার, আমার মাত্র ৫০!”- এই ধরণের তুলনা থেকে।
সবচেয়ে বড় যে সমস্যা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে- স্মার্টফোন আসক্তি। একটি সমীক্ষা (Common Sense Media, ২০২৩) জানায়, ১৩-১৭ বছরের কিশোরদের ৬৫% দিনে ৪ ঘণ্টার বেশি স্মার্টফোন ব্যবহার করে, যার ৩৮% বলে– “আমি চাইলেও ছাড়তে পারি না!” স্মার্টফোনের আসক্তি হওয়ার পিছনে কিছু প্রধান কারণের মধ্যে প্রথমেই আসে ডোপামিন রিওয়ার্ড সিস্টেম এর কথা- লাইক, রিওয়াচ, নোটিফিকেশন- প্রতিবার ছোটখাটো আনন্দ, ফলে মস্তিষ্ক আবার চায়! এছাড়াও আছে স্ক্রলিং ইনফিনিটি ডিজাইন যেখানে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা এ ধরণের বিভিন্ন এ্যাপ্লিকেশনে স্ক্রলিং এর শেষ থাকেনা, বারবার নতুন কন্টেন্ট আসে। এছাড়াও অ্যালগরিদম এর ব্যবহার করে ভোক্তার পছন্দ বুঝে কনটেন্ট সাজানো হয়, তাই কন্টেন্ট এর লুপে পড়ে যাওয়া খুবই সহজ! এভাবে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকলে প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স (চিন্তা, সিদ্ধান্ত নেওয়া) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর মাল্টিটাস্কিং কমায় মনোযোগ।
স্মার্টফোন আসক্তির সবচেয়ে বড় শিকার হয় কিশোর-কিশোরী বা উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা। ১৩–১৯ বছর বয়স হলো জীবনের সবচেয়ে আবেগপ্রবণ সময়। এই সময় মানুষের আত্মপরিচয় গড়ে ওঠে, আত্মসম্মান (self-esteem) গড়ে ওঠে, এসময় বন্ধু, ভালোবাসা, নিজের শরীর–সবকিছু নিয়েই দ্বিধা তৈরি হয়। এই বয়সের কেউ যদি সারাক্ষণ ফোনেই থাকে, তাহলে কী হয়? শারীরিক সমস্যা যেমন স্থুলতা, দৃষ্টিশক্তির হ্রাস সহ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমার কারণে বারবার রোগাক্রান্ত হওয়া এসব হতে পারে। তার চেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি। যেমন- ডিজিটাল ডোপামিন ড্রামা। আমরা যখন ফোনে নতুন লাইক, মেসেজ, বা রিল দেখি, তখন আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ হয়- এটি এক ধরনের সুখের হরমোন। ফলে যত বেশি দেখি, তত বেশি চাই। এটি এক ধরনের ডিজিটাল আসক্তি তৈরি করে। রাতে ফোনে চোখ রাখলে শরীরের মেলাটোনিন হরমোন ক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ঘুম কমে যায়। ঘুম কম হলে মেজাজ খারাপ, মনোযোগ কম, হতাশা বেড়ে যায়- মানসিক অবসাদ বেড়ে যায়। তুলনামূলক হীনম্মন্যতা (Social Comparison Theory)-এর কারণে Instagram, TikTok ইত্যাদিতে সবাই সুন্দর, সফল, সুখী- এমনটা দেখে নিজের জীবনকে ফাঁপা মনে হতে পারে। “ওর ১০০০ ফলোয়ার, আমার মাত্র ৭৫?” কিংবা “ওর এত ফ্যাশন, আমি তো সাদামাটা!”- এভাবে নিজের প্রতি অবমূল্যায়ন তৈরি হয়- যা হতাশা ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিতে রূপ নেয়। হতে পারে FOMO (Fear of Missing Out) নামক উদ্বেগ- যখন ফোন বন্ধ থাকে, তখনও মনে হয়- “আমি হয়তো কিছু মিস করছি!” এই ভয়ই আবার ফোন হাতে তুলতে বাধ্য করে- একটা দুষ্ট চক্র। FOMO যুক্ত তরুণদের মধ্যে উদ্বিগ্নতা, বিষণ্ণতা, নিঃসঙ্গতা, এবং নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। সাইকোলজির ভাষায় স্মার্টফোনের আসক্তিতে Conditioning এর কারণে Like-পাওয়ার পর আবার পোস্ট দিতে ইচ্ছা করে; Negative Reinforcement এর জন্য একাকীত্ব এড়াতে ফোন ঘাঁটার ইচ্ছে হয়; Instant Gratification এর কারণে সাথে সাথে ফল চাওয়া (গেম, মেসেজ)-র প্রবণতার কারণে ধৈর্য ও মনোযোগ কমে যায়- ফলে অস্থিরতা, রাগ-জেদ সহ নেতিবাচক আবেগ বৃদ্ধি পায়।
এসব এড়িয়ে স্মার্টফোনকে কিভাবে স্মার্টলি ব্যবহার করা যায়? যেভাবে খাবার পেটের জন্য ভালো-মন্দ হয়, ঠিক তেমনিভাবে ডিজিটাল কনটেন্টও মনের জন্য ভালো বা ক্ষতিকর হতে পারে। একে বলা যায়- “Digital Nutrition” । এই পদ্ধতিতে স্মার্টফোনের উপকারী ব্যবহার বাড়িয়ে এবং অপকারী ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ককে স্মার্টফোনের বন্ধু বানাতে হবে, দাস নয়! ভালো স্মার্টফোন ব্যবহার হতে পারে বিভিন্ন শিক্ষাসহায়ক এ্যাপ Duolingo, Khan Academy, Brilliant; রিলাক্সেশন এ্যাপ Calm, Headspace (Deep breathing, guided meditation); কিংবা সৃজনশীল এ্যাপ Canva, Notion, CapCut -এর ব্যবহার। ত্যাগ করতে হবে- একটানা গেম খেলা (> ২ ঘন্টা), রাত্রি ১২টার পর TikTok/YouTube বা স্মার্টফোন ব্যবহার, “ডুম স্ক্রলিং”– কিছু না বুঝে শুধু দেখেই যাওয়ার অভ্যাস। এছাড়াও মনকে রক্ষা করতে চর্চা করা যায় কয়েকটি সহজ কৌশলের। যেমন- Digital Detox Day পালন- প্রতি সপ্তাহে একদিন ফোন ছাড়া থাকার অভ্যাস; Screen Timer Apps, যেমন: Digital Wellbeing (Android), Screen Time (iOS) ব্যবহার; Gratitude Journal বা বাস্তব জীবনের সুখগুলো লিখে রাখার অভ্যাস করা; এবং Movement Breaks অর্থাৎ প্রতি ৪০ মিনিটে স্ক্রিন বন্ধ করে হাঁটা বা ব্যায়াম করা।
বিজ্ঞানীরা এমন প্রযুক্তি তৈরি করছেন যেখানে স্মার্টফোন আরো উন্নত হবে। যেমন- মস্তিষ্কের তরঙ্গ (EEG) দিয়ে ফোন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, চোখের ইশারায় টেক্সট লেখা যাবে, Emotion-detecting AI: একটা মানুষ কষ্টে আছে কি না, তা বুঝে যাবে ফোন! কিন্তু, সবসময় মনে রাখতে হবে- একজন মানুষই বেশি স্মার্ট, ফোন নয়। স্মার্টফোন যতোই আপডেট হোক তার থাকবে না একজন মানুষের পরিপূর্ণ মানবিক অনুভূতি, সৃজনশীল চিন্তা ও ভালোবাসার ক্ষমতা। তাই স্মার্টফোনকে ‘টুল’ হিসেবে ব্যবহার করো, ‘বস’ হিসেবে নয়। যদি স্মার্টফোনকে স্মার্টলি চালাতে পারেন, তবে সে হবে আপনার বন্ধু। আর আপনি যদি তার দাস হয়ে যান- তবে সে ধ্বংস করে দিতে পারে আপনার শরীর-মন, মানসিক শক্তি এমনকি জীবন। তাই, সাধু সাবধান!
ডা. পঞ্চানন আচার্য্য
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
মনোরোগবিদ্যা বিভাগ
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। মনেরখবর-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য মনেরখবর কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।
আরও পড়ুন:




