শারীরিক বিকাশ এবং বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিভিন্ন গবেষণায় এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম শিশুকাল থেকে শুরু করলে তা জীবনের নানা পর্যায় মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। একটি শিশু মায়ের পেটে থাকা অবস্থায়ই তার শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনের পাশাপাশি মস্তিষ্কের বিকাশও শুরু হয় যা অনেকাংশে মায়ের পুষ্টির ওপর নির্ভরশীল। তেমনি জন্মের পর থেকে তার শৈশব-কৈশোরকালের খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অনুশীলন তার পরিণত বয়সের বুদ্ধিমত্তার নিয়ামক। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিশোর বয়সে স্বাস্থ্যকর খাবার এবং শারীরিক অনুশীলনের অভ্যাস তাদের মনোযোগ, বাচনিক ও যৌক্তিক দক্ষতাকে বাড়াতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত এবং গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য মস্তিষ্কের কগনিটিভ বা জ্ঞানভিত্তিক কাজকর্মের ক্ষমতাকে বাড়ায়। বিশেষ করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লং চেইন ফ্যাটি এসিড, প্রয়োজনীয় ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার নানাভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে যেমন: নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি, ক্ষতিকর আয়ন কমানো ইত্যাদি। গবেষকরা এজন্য বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন প্রাক-কৈশোরকালের পুষ্টি ব্যবস্থার দিকে কারণ এটা ভবিষ্যতের বাচনিক বুদ্ধিমত্তা বিকাশের নিয়ামক। অন্য আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিন্ডারগার্টেনের ছাত্র-ছাত্রী যারা নিয়মিত সকালের নাস্তা করে তারা বুদ্ধিভিত্তিক পরীক্ষায় ভালো করেছে যারা অনিয়মিতভাবে নাস্তা করে তাদের তুলনায়। ২-৩ বছর বয়সের বাচ্চাদের ওপর করা একটি দীর্ঘমেয়াদি সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস যাদের ছিল তারা ১০ বছর বয়সে পিকচার ভোকাবুলারি টেস্টে ভালো ফল করেছে। শিশুর বাচনিক, যৌক্তিক, সর্বোপরি বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ভূমিকা যেমন গবেষকবৃন্দ প্রমাণ করেছেন ঠিক তেমনি বয়স্ক ব্যক্তিদের বেলায়ও এর সম্পৃক্ততা পাওয়া গিয়েছে। ২৫৩৩ জন ফরাসি পূর্ণবয়স্ক মানুষের (৪৫-৬০) ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, ১৩ বছর পর তাদেরই স্মৃতিশক্তি, বাচনিক স্বতঃস্ফূর্ততা বেশি যারা নিয়মিত ভিটামিন ই এবং সি সমৃদ্ধ ফল-মূল ও শাক-সবজি খেয়েছেন। যারা মেডিটেরিয়ান ডায়েট (প্রচুর শাক-সবজি, তেল/ভিনেগার, মাছ, মুরগি) অনুসরণ করেন তাদের বাচনিক বুদ্ধিমত্তা অনেক বেশি। অন্যদিকে শারীরিক অনুশীলনের মাধ্যমে ভাষাগত বিকাশ, জ্ঞানভিত্তিক দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে এমনটি বলেছেন গবেষকরা। ৫৯টি গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। সেডেন্টারি বা যাদের বেশির ভাগ সময় বসে কাজ করতে হয়, শারীরিক পরিশ্রম কম হয় তাদের ক্ষেত্রে কগনিটিভ ফাংশনে বা বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এরকম কর্মীদের ওপর ১২ সপ্তাহের একটা ইন্টারভেনশন প্রোগ্রাম চালানোর পর দেখা গেছে, তাদের বাচনিক স্বতঃস্ফূর্ততা বেড়েছে। প্রতি সপ্তাহে ৩০ মিনিট ব্যায়ামের কারণে মস্তিষ্কে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে যা একটি গবেষণাপত্রে এসেছে এভাবে যে, মস্তিষ্কের আয়তন বৃদ্ধি পায়, হোয়াইট ম্যাটারের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং বাচনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
আমরা সাধারণভাবে জানি যে, জিন এবং পরিবেশ নির্ধারণ করে একটি শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ কেমন হবে। তাই সম্প্রতি জমজ বাচ্চারা যারা একই জিন ও পরিবেশ শেয়ার করে তাদের মধ্যে একটি জরিপ চালিয়ে দেখা হয় যে, খাদ্যগ্রহণ এবং ব্যায়ামের তারতম্যের কারণে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য হয় কিনা। ওপরের সকল গবেষণার মতো এই জরিপও উপসংহারে আসে যে, জিনগত এবং পরিবেশগত কারণের বাইরেও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অপরিমিত খাবার এবং ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমবিহীন বাচ্চারা পরিণত বয়সে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে পিছিয়ে পড়ে।
The Role of Adolescent Nutrition and Physical Activity in the Prediction of Verbal Intelligence during Early Adulthood: A Genetically Informed Analysis of Twin Pairs Dylan B. Jackson 1,* and Kevin M. Beaver 2,3 International Journal Environmental Research and Public Health ISSN 1660-4601 www.mdpi.com/journal/ijerph
- ডা. সাদিয়া আফরিন
- রেসিডেন্ড এমডি (চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলসেন্ট সাইকিয়াট্রি)
- বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

