শিশুদের জন্য একটি স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে এবং সংকটকালীন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশ চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট মেন্টাল হেলথ (BACAMH) এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলন。১২ জানুয়ারি সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে দিনব্যাপী বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক অধিবেশন, সেমিনার এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের মূল আকর্ষণ ও অধিবেশনসমূহ সম্মেলনের শুরুতেই প্লেনারি সেশনে ‘ট্রান্সজেনারেশনাল ট্রমা’ এবং ‘পিতা-মাতা ও সন্তানের সম্পর্কের ধরণ’ নিয়ে আলোচনা করেন যথাক্রমে অধ্যাপক ডা. এম.এস.আই. মল্লিক এবং অধ্যাপক ডা. মাহবুব মোতানাব্বী。 এছাড়াও ডা. হেশাম হামোদা স্কুলভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে কী-নোট প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন।
সম্মেলনে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিক যেমন—অটিজম, এডিএইচডি (ADHD), গেমিং ডিজঅর্ডার এবং সাইকোসোশ্যাল সাপোর্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়。 বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং জুলাই বিপ্লব পরবর্তী অস্থির সময়ে তরুণীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়।
পোস্টার প্রেজেন্টেশন: তরুণ গবেষকদের অংশগ্রহণ সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পোস্টার প্রেজেন্টেশন সেশন, যেখানে গবেষকরা তাদের সাম্প্রতিক কাজের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন。এতে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য গবেষক ও তাদের বিষয়সমূহ হলো:
- ডা. শামস ইবনে কারিম: জেন্ডার ডিসফোরিয়া এবং টিনএজ আত্ম-পীড়ন।
- ডা. নুজহাত ওয়ারা: স্কুল ট্র্যাজেডি পরবর্তী ওবিসিডি (OCD) এবং পিটিএসডি (PTSD)।
- ডা. লেউজা মুবাসসারা: বাংলাদেশে এডিএইচডি (ADHD)-এর বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।
- ডা. আতিকুল হক মজুমদার: সংকটকালীন শিশুদের স্থিতিস্থাপকতা তৈরির কগনিটিভ ফ্রেমওয়ার্ক।
- ডা. হুমায়রা শাহজাহান হৃদি: বাংলাদেশে কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা ‘সেকেন্ডারি হিকিকোমোরি’।
- ডা. ইফতেখার আহমেদ সাকিব: সামাজিক অস্থিরতার সময় কিশোরী ও গর্ভবতী নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য।
বিবিধ অধিবেশন ও কর্মশালা বৈজ্ঞানিক অধিবেশনের পাশাপাশি সম্মেলনে ‘আর্ট থেরাপি’র ওপর একটি বিশেষ কর্মশালা পরিচালিত হয়, যা পরিচালনা করেন মোঃ আবু জাহিদ হাসান নীল。 এছাড়াও ডা. ফাবিহা বুশরার সঞ্চালনায় অনলাইন ভিত্তিক প্রেজেন্টেশন এবং পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বাংলাদেশে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা ও আইনি চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সম্মেলনটি বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM), সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।বিশেষজ্ঞগণ আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের সম্মেলন দেশে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এবং নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন-

