স্মার্টফোন, প্রাত্যহিক জীবনে একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। মানব সৃষ্ট যেকোনো পণ্যেরই কোনো না কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। স্মার্টফোনও তার ব্যতিক্রম নয়। কোভিডের বিস্তারের পর স্কুল-কলেজে অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়। এরপর থেকে মূলত ছাত্র-ছাত্রীদের স্মার্টফোন ব্যবহার অনেকটা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। বর্তমানে শিক্ষক-ছাত্রদের যোগাযোগের একটি বড় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার শুধু যোগাযোগই নয়, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ই-লার্নিং, ইউটিউব সার্চের মাধ্যমে যেকোনো বিষয়ের সর্বশেষ তথ্যও পাওয়া যায়। তাছাড়া নিজের স্কিল ডেভেলপমেন্টের সকল প্রকার সুবিধা রয়েছে। সঠিক ব্যবহারের অভাবে অনেক ধরনের সমস্যাও হতে পারে। যেমন: অশালীন কনটেন্টের কারণে সামাজিক অবক্ষয়, লেখাপড়ায় অমনোযোগ, গেইমিংয়ে আসক্তি, সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি, সাইবার বুলিং ইত্যাদি। ফলশ্রুতিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে চিন্তাশক্তি লোপ, ব্যক্তিত্ববিকাশে বাধাগ্রস্ত, হতাশার জন্ম হওয়া, খেলাধুলা না করা, স্বাস্থ্যহানি, মানসিক শক্তি হ্রাস, খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ বা অরুচি, এমনকি পারিবারিক বন্ধনও নষ্ট হয়। যুগের সাথে তাল মিলাতে স্মার্টফোন প্রয়োজন। সেইসঙ্গে মা-বাবা এবং শিক্ষকদের এ বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝেও নিয়মনীতির প্রয়োজন। যেমন: স্কুল খোলা অবস্থায় স্মার্টফোনের প্রয়োজন হয় না। সেক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে আধা ঘণ্টা ব্যবহার করতে পারে। অনলাইনে ক্লাস থাকলে শুধুমাত্র ক্লাস করবে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষকদের কোনো নির্দেশনা আছে কিনা সেটার জন্য ১ ঘণ্টা ব্যবহার করতে পারে। অন্যদিকে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা আজকাল গ্রুপ স্টাডি করে। সেক্ষেত্রে প্রতিদিন ১ ঘণ্টা যথেষ্ট। পরীক্ষার আগে গ্রুপ স্টাডির জন্য কিছুটা সময় বাড়ানো যেতে পারে। পরীক্ষার পর ছুটি থাকাকালিন অনলাইনে বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্টের কোর্সগুলোর জন্য স্মার্টফোন তখন ব্যবহার করতে পারে। যেকোনো যন্ত্রের উপযুক্ত ব্যবহার ভালো ফলাফল আনে। ছাত্র-ছাত্রীদের নিজেদের জন্য বাটনফোন দেয়া যেতে পারে।
সৈয়দা শারমিন আক্তার
প্রিন্সিপাল নিউট্রিশনিস্ট এন্ড ফাউন্ডার, ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টার।

