নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চালু হয়েছে নিয়মিত সাইকিয়াট্রি আউটডোর সেবা। জেলার মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় এটি এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নোয়াখালী জেলার সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমি এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদের উদ্যোগে এ মাস থেকেই নিয়মিতভাবে সেবাটি চালু করা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে রবিবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই বিশেষায়িত সাইকিয়াট্রি আউটডোর সেবা দেওয়া হবে।
এই আউটডোর সেবায় রোগী দেখবেন ডা. হোসনে ইরতিফা তাসনীম, এম.ডি (Child, Adolescent & Family Psychiatry)। তিনি হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও পারিবারিক মানসিক সমস্যার পরামর্শ ও চিকিৎসা প্রদান করবেন।
সরকারি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে ডা. তাসনীম বলেন, “পর্যাপ্ত জনবল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সপ্তাহে ছয় দিন বহির্বিভাগে এবং অন্তঃবিভাগে ভর্তি রেখে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হবে। এতে ঢাকাকেন্দ্রিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উপর নির্ভরতা কমবে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে মানসিক রোগের চিকিৎসা পৌঁছে যাবে।”
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সাইকিয়াট্রি আউটডোর সেবার সূচনার মাধ্যমে জেলার জনগণ এখন থেকে মানসিক স্বাস্থ্য, মানসিক বিকার, মাদকাসক্তি এবং পারিবারিক সম্পর্কজনিত সমস্যার জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসা নিতে পারবেন।
তবে, বর্তমানে নোয়াখালী জেলায় প্রশিক্ষিত সাইকোথেরাপিস্ট বা কাউন্সেলর না থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ের রোগী ও শিশু-কিশোরদের জন্য কার্যকর মনোসামাজিক সহায়তা প্রদান কিছুটা সীমিত। এ বিষয়ে ডা. তাসনীম জানান, “মনের খবরের মাধ্যমে আমরা এই বিষয়টি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে চাই। যদি নোয়াখালী অঞ্চলে প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপিস্ট নিয়োগের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে মৃদু পর্যায়ের মানসিক রোগী ও শিশু-কিশোরদের সেবা আরও কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।”
স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন নোয়াখালীর সাধারণ মানুষ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
আরও পড়ুন-

