আমি সুবর্ণা (ছদ্ম নাম)। আমি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স-মাস্টার্স কমপ্লিট করে বেকার বসে আছি। ছোটোবেলা থেকে অনেক অ্যাম্বিশন নিয়ে বড় হয়েছি। কিন্তু বাবা মায়ের ইচ্ছাতে মেডিক্যাল অ্যাডমিশনের জন্য ২ বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম। ভাগ্যক্রমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অনেক হীনম্মন্যতায় ভুগতাম। অনেক হতাশ থাকতাম। আমি ধীরে ধীরে এইমলেস হতেই থাকি। পরীক্ষার সময় বেশ উদাসীন থাকতাম, পড়তে ইচ্ছে হতো না আবার এক্সামে খুব ভয় কাজ করত। যখন সব রিভিশন দেয়ার সময় তখন আতঙ্কে কিছু পড়তে পারতাম না আমি প্রায়ই ডেড লাইন মিস করি। আমি জানি না আমি কী করতে চাই। কাউকে ফেইস করতে চাই না। আমি প্রিয় মানুষজন থেকে পালিয়ে বেড়াতে চেষ্টা করি। আমার কোনো দৃঢ় স্বপ্ন নাই যার জন্য অনেক পরিশ্রম করা যায়। কোনো ফোকাস তৈরি করতে পারছি না। আমি কোনো সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে পারি না। আমার কোনো কাজে সিরিয়াসনেস নেই। প্রচণ্ডমাত্রায় উদাসীন। আমার কিছুই করতে ইচ্ছে হয় না। নিজেকে অপচয়ের গ্লানিতে ভুগি। একা একা কাঁদি। এভাবে বেঁচে থাকা অসহ্য। আমাকে কিছু পরামর্শ দিন প্লিজ।
পরামর্শ: প্রিয় সুবর্ণা। তোমার সমস্যাগুলো মনোযোগ সহকারে পড়লাম। তোমার সমস্যা শুধু যে মনমতো ফলাফল না পাওয়া তাই নয়, সঙ্গে সঙ্গে রয়ে গেছে তোমার পরীক্ষার সময় প্রচণ্ড উদ্বিগ্নতার টার্গেট সময়ে হাল ছেড়ে দেওয়া অর্থাৎ স্ট্রেস সহ্য করতে না পেরে সাহস হারিয়ে ফেলা, কর্মদক্ষতা কমে যাওয়া ইত্যাদি। এই সমস্যাগুলোর কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে না পারায় তোমার মাঝে ভীষণ বিষণ্ণতা সৃষ্টি হয়। যদিও তোমার বুদ্ধিমত্তা ও চেষ্টার ত্রুটি নেই তবু তোমার বাবা-মা’র প্রত্যাশামতো আশানুরূপ ফল পাওনি। এই সমস্যায় আমাদের দেশে বর্তমানে বহু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরাও কষ্ট পাচ্ছে। পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্সে পাশ করেও উচ্চ শিক্ষিত বেকারত্বের অভিশাপের গ্লানি থেকে কষ্ট পাচ্ছ। বর্তমানে তুমি যে ধরনের কষ্ট পাচ্ছ তা মূলত বিষণ্ণতা ও উদ্বিগ্নতার কারণেই সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে তুমি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছ, কষ্ট পাচ্ছ এবং জীবনকে মোকাবিলা করে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারছ না। তোমার ব্যক্তিগত জীবনে কোনো সমস্যা আছে কিনা আর্থিক বা সামাজিক কারণ আছে কিনা তার কোনো উল্লেখ নেই। তোমার জন্য পরামর্শ হলো:
১. জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, শ্যামলী অথবা শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রির বহির্বিভাগে দেখা করো, যাতে করে সঠিকভাবে সমস্যা মূল্যায়িত হয়।
২. ঔষধের প্রয়োজন হলে খেতে হবে, তার সঙ্গে সঙ্গে সাপোর্টিভ সাইকোথেরাপির প্রয়োজন হবে।
৩. ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সাহস করে এগিয়ে যাও। আমি কামনা করি তোমার সুদিন একদিন আসবেই, হতাশ হবে না।
৪. কম্পিউটার সায়েন্সে ট্রেনিং নিয়ে সত্যিকারের দক্ষতা অর্জন করতে চেষ্টা করো। চাকরি না পেলেও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে যথেষ্ট আয় করে সম্মানের সাথে চলতে পারবে। তোমার জন্য শুভ কামনা রইল।
পরামর্শ দিয়েছেন
অধ্যাপক ডা. হেদায়েতুল ইসলাম
মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং প্রাক্তন পরিচালক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট।

