Close Menu
    What's Hot

    জীবন সঙ্গীর মৃত্যু

    আমাদের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দিচ্ছে চীন-পাকিস্তান।

    মানসিক স্বাস্থ্যে সচেতনতা এবং সেবায় সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

    কাজে মন নেই, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, মাঝে মাঝে আত্মহত্যার চিন্তা—কী করব?

    গেমিং ও টিভি সিরিয়ালের আসক্তির লক্ষণ।

    Facebook X (Twitter) Instagram
    Saturday, November 7
    Facebook X (Twitter) Instagram
    মনের খবরমনের খবর
    ENGLISH
    • মূল পাতা
    • কার্যক্রম
      1. জাতীয়
      2. আন্তর্জাতিক
      Featured
      জাতীয় November 5, 2026

      আমাদের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দিচ্ছে চীন-পাকিস্তান।

      Recent

      আমাদের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দিচ্ছে চীন-পাকিস্তান।

      মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বানঃ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী

      মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় জনসচেতনতা ও গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    • প্রতিদিনের চিঠি
    • মানসিক স্বাস্থ্য
      1. মাদকাসক্তি
      2. মানসিক স্বাস্থ্য সেবা তথ্য
      3. যৌন স্বাস্থ্য
      4. শিশু কিশোর
      Featured
      ফিচার November 4, 2026

      শিশুর অবাধ্যতা: আজকের ছোটো সমস্যা, নাকি আগামী দিনের বড়ো সংকেত?

      Recent

      শিশুর অবাধ্যতা: আজকের ছোটো সমস্যা, নাকি আগামী দিনের বড়ো সংকেত?

      মাইগ্রেন অন্যান্য মানসিক রোগের জন্য ক্ষতিকর

      শিশুর মোবাইল-টিভি আসক্তি কীভাবে বুঝবেন

    • ফিচার
    • প্রশ্ন-উত্তর
      1. বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
      2. মাদকাসক্তি
      3. মানসিক স্বাস্থ্য
      4. যৌন স্বাস্থ্য
      Featured
      প্রশ্ন-উত্তর November 5, 2026

      কাজে মন নেই, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, মাঝে মাঝে আত্মহত্যার চিন্তা—কী করব?

      Recent

      কাজে মন নেই, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, মাঝে মাঝে আত্মহত্যার চিন্তা—কী করব?

      নিজের সঙ্গে বিড়বিড় করে কথা বলা কি মানসিক রোগের লক্ষণ?

      চার বছর ধরে ঘুমাতে পারি না, দুঃস্বপ্নে চিৎকার করি—সমাধান কী?

    • জীবনাচরণ
      1. অন্যান্য
      2. অপরাধ আচরণ
      3. কুসংস্কার
      4. মতামত
      5. মন ও ক্রীড়া
      6. মন প্রতিদিন
      7. মনোসামাজিক বিশ্লেষণ
      8. সাক্ষাৎকার
      Featured
      সাক্ষাৎকার October 14, 2026

      পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে

      Recent

      পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে

      শুধু কাজ নয়, মনের যত্নও জরুরি: ফ্রিল্যান্সার মারুফের ভাবনা

      শিশুকে আত্মনির্ভরশীল হওয়া শেখাতে সব আবদার রক্ষা করা যাবে না

    • মনস্তত্ত্ব.
      1. তারকার মন
      2. ব্যাক্তিত্ব
      3. মনস্তত্ত্ব
      Featured
      মনস্তত্ত্ব. July 22, 2026

      জিমি কার্টার ও মনস্তত্ত্ব

      Recent

      জিমি কার্টার ও মনস্তত্ত্ব

      জর্জ বার্নাড শ

      মার্টিন কুপার ও মনস্তত্ত্ব

    • করোনায় মনের সুরক্ষা
      1. টিপস্
      2. বিশেষজ্ঞের মতামত
      3. বিশ্ব পরিস্থিতি
      4. সার্বক্ষনিক যোগাযোগ
      Featured
      টিপস্ October 25, 2026

      প্রযুক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল

      Recent

      প্রযুক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল

      দীর্ঘমেয়াদি রোগে ঘরে বাইরে যেভাবে ভালো থাকা যায়

      প্রতিদিনের জীবনে ধৈর্য বাড়ানোর কৌশল

    মনের খবরমনের খবর
    You are at:Home » অন্ধকার জগতের ব্যবচ্ছেদ: শিশু নিগ্রহ ও মনস্তত্ত্ব
    মতামত

    অন্ধকার জগতের ব্যবচ্ছেদ: শিশু নিগ্রহ ও মনস্তত্ত্ব

    Moner KhaborBy Moner KhaborMay 23, 2026Updated:May 23, 2026No Comments8 Mins Read0 Views
    Facebook Twitter Pinterest Telegram LinkedIn Tumblr Email Reddit
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Pinterest WhatsApp Email

    একটা শিশুর নিষ্পাপ হাসি আর সুরক্ষিত শৈশবই সভ্য সমাজের সবচেয়ে বড় পরিমাপক। প্রতিটা শিশুর নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। আশঙ্কাজনকভাবে বাংলাদেশে বিগত কিছুদিন ধরে শিশুদের ওপর বিশেষ করে কন্যাশিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা বেড়ে গেছে। নিজের বাসস্থান বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো যেসব জায়গায় শিশুদের সম্পূর্ণ সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠার কথা, সেখানেই তারা সবচেয়ে বেশি নিগ্রহের শিকার হচ্ছে। সাম্প্রতিক ভয়াবহতায় সাধারণ মানুষ আজ ভীষণ উদ্বিগ্ন; বিক্ষুব্ধ ও আতংকিত। মানবাধিকার সংগঠন ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ (আসক) এবং ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ (এমজেএফ)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে শিশুদের ওপর সহিংসতার মোট ৭১টি ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে।

    যার মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩৮ জন কন্যাশিশু ও ২ জন ছেলেশিশু এবং আরও ১৪ জন কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। যা মূলত বিগত ‘২৫ সালের রেকর্ডকৃত মোট ১,০২৪টি শিশু নির্যাতনেরই ধারাবাহিকতা এবং ক্রমবর্ধমান ভয়াবহতার স্পষ্ট চিত্র।

    শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যা করার মতো অপরাধগুলোর পেছনের মনস্তত্ত্ব অত্যন্ত জটিল। অপরাধবিজ্ঞান ও ফরেনসিক সাইকিয়াট্রির গবেষণা ও আন্তর্জাতিক ডেটাবেজ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলোর অধিকাংশই কোনো একক মানসিক বিকারের ফল নয়, বরং বিভিন্ন মানসিক ব্যাধি, শৈশবকালীন ট্রমা কিংবা অপরাধ আড়াল করার তাৎক্ষণিক মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের এক মারাত্মক সংমিশ্রণের ফল।

    অপরাধবিজ্ঞানের মূল কথা: মানুষ কেন অপরাধ করে?

    সমাজবিজ্ঞানীরা অপরাধের পেছনের মূল কারণগুলোকে কিছু তত্ত্বের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে থাকেন। প্রথমত, লাভ-ক্ষতির হিসেবে অপরাধী যে কোনো অপরাধের আগে মনে মনে একটা হিসাব কষে। যখন সে দেখে অপরাধ করলে তার তাৎক্ষণিক লাভ (টাকা, ক্ষমতা বা বিকৃত আনন্দ) হবে আর ধরা পড়ার বা শাস্তির ঝুঁকি কম, তখনই অপরাধটা করে বসে। দ্বিতীয়ত, পরিবেশ থেকে শেখার কারণে, মানুষ তার চারপাশের পরিবেশ দেখেই বড় হয়। কোনো শিশু যদি ছোটবেলা থেকেই পরিবার বা সমাজে মারামারি, গালিগালাজ কিংবা সহিংসতাকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখে, তখন বড় হয়ে অবচেতনে সেও একই হিংস্র আচরণকে রপ্ত করে ফেলে। আরেকটা কারণ হলো হতাশা ও সামাজিক চাপ। যেখানে সমাজে সবারই প্রচুর অর্থ উপার্জনের ইচ্ছা থাকলেও সুযোগ সবার সমান থাকে না। ফলে এই তীব্র সামাজিক বৈষম্য থেকে মনে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়। সেটা তাকে একসময় অপরাধে প্ররোচিত করে।

    এখন আসা যাক আজকের লেখার মূল বিষয়ে। এই অপরাধীদের মনস্তত্ত্ব এভাবে গড়ে ওঠার বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ কী? বৈজ্ঞানিক ও গবেষণাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, কিছু ফ্যাক্টর বা ইতিহাস এর সাথে জড়িত।

    পূর্ববর্তী ট্রমা ও সহিংসতার ইতিহাস

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর চাইল্ড ম্যালট্রিটমেন্ট সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যারা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় শিশুদের ওপর সহিংসতা বা যৌন নির্যাতন চালায়, তাদের একটা বড় অংশ শৈশবে নিজেরাও চরম অবহেলা, শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শৈশবকালীন ট্রমা তাদের মস্তিষ্কের গঠন ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যার ফলে তারাও একই সহিংসতার পুনরাবৃত্তি করে। এই ধরনের ক্রমাগত মানসিক আঘাত ব্যক্তির কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে সমাজবিরোধী মানসিকতা গঠনেও সরাসরি প্রভাব ফেলে (Chopin et al., 2022)

    নিউরোবায়োলজিক্যাল কারণ (জৈবিক):

    আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও নিউরোক্রিমিনোলজি ব্রেন স্ক্যানের মাধ্যমে দেখিয়েছে যে, যারা চরম হিংস্র অপরাধী হয়, তাদের মস্তিষ্কে কিছু সুনিদিষ্ট সমস্যা থাকে। যেমন: আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ Prefrontal Cortex-এর দুর্বলতা। মস্তিষ্কের সামনের এই অংশটা আমাদের রাগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে। অপরাধীদের ক্ষেত্রে এটা অনেক সময় ঠিকমতো কাজ করে না, ফলে তারা হুট করে চরম হিংস্র সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। আবার মস্তিষ্কের Amygdala নামক অংশ মানুষের ভয় ও সহানুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। সাইকোপ্যাথ বা চরম অপরাধীদের এটা প্রায় নিষ্ক্রিয় থাকে। ফলে তারা যখন কাউকে কষ্ট দেয় বা হত্যা করে, তাদের মনে বিন্দুমাত্র দয়া বা অনুশোচনা কাজ করে না।

    ব্যক্তিত্বের বিকৃতি ও অন্যান্য অস্বাভাবিক মানসিক অবস্থা:

    জার্মান ফরেনসিক সাইকিয়াট্রি জার্নাল এবং পাবমেড (PubMed)-এ প্রকাশিত গবেষণায় (২০১০) দেখা গেছে, এদের কিছু মানসিক বিকৃতি থাকতে পারে। যেমন-পেডোফিলিয়া (Pedophilia), যেটা এমন এক মানসিক অবস্থা যেখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শিশুদের প্রতি তীব্র যৌন আকর্ষণ বোধ করে। দ্বিতীয়ত, অ্যান্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (ASPD) বা সাইকোপ্যাথ। এই ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি সমাজ ও আইনের কোনো তোয়াক্কা করে না। এদের কোনো নৈতিকতাবোধ থাকে না। এরা চরম মিথ্যাবাদী ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির হয়। এরা ভিকটিমকে মানুষ হিসেবে দেখে না, ফলে তাদের ভেতরে থাকা মানবিক বাধা ভেঙে যায়, এবং চরম নৃশংসতা চালায়। এই অপরাধীরা সাধারণত হুট করে অপরাধ করে না। তারা অপরাধের স্থান ও ভিকটিমকে আগে থেকে নির্ধারণ করে এবং অপরাধের পর প্রমাণ লুকানোর জন্য অত্যন্ত সচেতনভাবে ভিকটিমের শরীর বা মৃতদেহ আড়াল করার চেষ্টা করে। এরা এক ধরনের অবদমিত এবং বিকৃত যৌন কামনার জগতে বাস করে, যা প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদী পর্নোগ্রাফি আসক্তি বা অস্বাভাবিক যৌন কল্পনার দ্বারা চালিত হয়।

    মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার (Substance Use):

    মাদকদব্য সরাসরি মানুষের চিন্তা-ভাবনা ও আচরণের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশটা সিদ্ধান্ত নেয় যে কী ভালো আর কোনটা মন্দ, মাদকদ্রব্য সেই অংশকে সাময়িকভাবে অচল করে দেয়। ফলে একজন সাধারণ মানুষ সুস্থ অবস্থায় যে অপরাধ করার কথা কল্পনাও করতে পারে না, মাদকের প্রভাবে মগজের নৈতিক ব্রেক বা বাধা ভেঙে যাওয়ায় সে খুব সহজেই সেই জঘন্য অপরাধ (যেমন- ধর্ষণ বা খুন) করে ফেলে। কিছু সুনিদিষ্ট মাদক (যেমন অ্যালকোহল, ক্রিস্টাল মেথ, ইয়াবা, অন্যান্য) আসক্ত ব্যক্তির রাগ, উত্তেজনা ও হিংস্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এগুলো ব্যবহারে বাস্তবতাবোধ লোপ পায়; স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি, ভয় বা অন্যের প্রতি সহানুভূতি পুরোপুরি শূন্য হয়ে যায়।

    ক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষা:

    অপরাধবিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময় এই ধরনের অপরাধের মূল চালিকাশক্তি কেবল যৌন আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং থাকে চরম ক্ষমতা প্রদর্শন ও নিয়ন্ত্রণ। শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে সবচেয়ে

    অসহায় এবং নিরীহ লক্ষ্য। অপরাধী নিজের জীবনের কোনো ব্যর্থতা, হীনম্মন্যতা বা ক্ষোভ মেটাতে এমন একজনকে বেছে নেয়, যাকে সে সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে।

    তাহলে প্রশ্ন উঠে এই ধরনের নৃশংস অপরাধীরা কেন আইনের চোখে মানসিক রোগী হিসেবে গ্রহণযোগ্য না? এর পেছনে কিছু যৌক্তিক কারণ ও ব্যাখ্যা আছে।

    বাস্তবতাবোধ ও অপরাধের সচেতনতা:

    তীব্র মানসিক রোগে আক্রান্তরা (যেমন- সিজোফ্রেনিয়া) বাস্তব জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন। কিন্তু এই অপরাধীরা খুব ভালো করেই জানে তাদের কাজটা বেআইনি ও চরম অন্যায়। তাই তারা অত্যন্ত সচেতনভাবে নির্জন স্থান বেছে নেয়, পরিচয় গোপন করে এবং অপরাধ শেষে ঠান্ডা মাথায় প্রমাণ লুকায়।

    ব্যক্তিত্বের বিকৃতি বনাম মানসিক রোগ:

    মনোচিকিৎসাবিজ্ঞান এদের সাইকোপ্যাথ বা অ্যান্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার নামে অভিহিত করে, যা সহজে চিকিৎসাযোগ্য মানসিক রোগ নয়; বরং তাদের চরিত্রের স্থায়ী ব্যক্তিত্বের বিকৃতি (Personality Disorder)।

    আইনের চোখে ইনস্যানিটি ডিফেন্স (বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৮৪ ধারা) অনুসারে, বৈশ্বিক ‘ম্যাকনটন রুল’ (McNaghten Rule) বলে, আইনি ছাড় পেতে হলে অপরাধ করার মুহূর্তে ব্যক্তির কাজের ধরণ/প্রকৃতি বা ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা সম্পূর্ণ লোপ পেতে হয়। যেহেতু এই অপরাধীরা পরিকল্পিতভাবে অপরাধ করে এবং ধরা পড়ার ভয়ে পালায়, তাই প্রমাণিত হয় যে তারা সম্পূর্ণ সজ্ঞান; সচেতন ছিল।

    পরিকল্পিত ইচ্ছাশক্তি ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা:

    এই অপরাধীরা মানসিক ভারসাম্যহীনদের মতো হিতাহিত জ্ঞান হারায় না। বরং এরা নিজেদের বিকৃত ফ্যান্টাসি পূরণ করতে চরম ধৈর্য দেখায়, সুযোগের অপেক্ষা করে এবং সুনিদিষ্ট অভিপ্রায় (Intent) নিয়ে সঠিক সময়ে নিখুঁত পরিকল্পনা অনুযায়ী আঘাত হানে।

    এখন আপাত সমাধান ও প্রতিরোধের জন্য কী করা যেতে পারে?

    শিশু ধর্ষণ ও পরবর্তীকালে হত্যার মতো চরম ও নৃশংস অপরাধ সমাজ থেকে রাতারাতি উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক এবং কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে এই অপরাধের গ্রাফ নামিয়ে আনার জন্য কিছু আপাত বা জরুরি সমাধান গ্রহণ করা আবশ্যক।

    এক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কী করণীয়?

    অপরাধ প্রতিরোধ করা: যাদের মধ্যে শিশুদের প্রতি অস্বাভাবিক আকর্ষণ বা বিকৃত মানসিকতা আছে, তাদের চিহ্নিত করে ওষুধ ও থেরাপির মাধ্যমে সেই বিপজ্জনক ইচ্ছা বা তাড়নাকে নিয়ন্ত্রণ করা। যেসব কিশোরদের মধ্যে চরম উগ্রতা, নিষ্ঠুরতা বা সমাজবিরোধী লক্ষণ দেখা যায়, শুরুতেই কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাদের আচরণ সংশোধন করা। সেই সাথে মাদকাসক্তি নিরাময়ের মাধ্যমে অপরাধের ঝুঁকি কমানো।

    বিচারিক সহায়তা প্রদান করা: অপরাধী যেন মানসিক রোগী সেজে আদালত থেকে পার পেয়ে না যায়, সেজন্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে তার সুস্থতা বা অপরাধের উদ্দেশ্য যাচাই করা। অপরাধের সময় অপরাধীর বাস্তবতাবোধ ঠিক ছিল কিনা, তা নিশ্চিত করে আদালতে নিরপেক্ষ মেডিকেলীয় ব্যাখ্যা ও সাক্ষ্য দেওয়া।

    ভিকটিমের ট্রমা ও অন্যান্য মানসিক সমস্যার চিকিৎসা নিশ্চিত করা: এই জঘন্য অপরাধের শিকার হওয়া শিশু এবং তার পরিবারের তীব্র মানসিক ট্রমা, ভয় ও হতাশা দূর করতে থেরাপী ও ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা। জীবিত ভিকটিমকে মানসিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসনে সহায়তা করা।

    সামাজিক সচেতনতা: সন্তানকে বডি সেফটি বা ‘গুড টাচ-ব্যাড টাচ” (ভালো ও মন্দ স্পর্শ) কিভাবে শেখাতে হবে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা। ডার্ক কনটেন্ট ও চাইল্ড পর্নোগ্রাফি আসক্তি রোধে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সাথে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করা।

    তবে শুধু মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের ভূমিকাই নয়, এগুলোর পাশাপাশি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়াও খুব গুরুত্বপূর্ন। শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড রুখতে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা হিসেবে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে স্বল্পতম সময়ে বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড) নিশ্চিত করতে হবে। যেন কোনো রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবে কেউ পার না পায়। পাশাপাশি, অপরাধের সুযোগ কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ ও অন্ধকার এলাকায় সিসিটিভি-ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন এবং নিম্নআয়ের এলাকায় সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী পাহারা জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও পরিচিতদের অস্বাভাবিক আচরণে অসতর্ক থেকে সন্তানকে কখনোই একা ছাড়লে চলবে না।

    আজকের শিশুরাই আমাদের আগামী, আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের জন্য নিরাপদ ও শঙ্কাহীন একটা পৃথিবী গড়ে তোলা আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নৈতিক দায়িত্ব। একজন মানসিক রোগীর প্রতি আমাদের সহানুভূতি আছে, কিন্তু অপরাধীদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর সুযোগ নেই। কারণ এরা অসুস্থ নয়। শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো চরম নৃশংসতা কেবল আইনি সংকটই না, এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিকৃতি ও সামাজিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। এই অন্ধকার মনস্তত্ত্বের বিরুদ্ধে জয়ী হতে হলে একদিকে যেমন আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন, অন্যদিকে মাদকের করাল গ্রাস নির্মূল করা এবং শৈশবের ট্রমা প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশীদারিত্ব বাড়ানো সময়ের দাবি। আজ যদি আমরা প্রতিটা শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারি, তবে পুরো প্রজন্মের মানসিক পঙ্গুত্বের দায় আমাদেরই নিতে হবে; কারণ সুস্থ ও সুরক্ষিত শৈশবের মাঝেই লুকিয়ে আছে আমাদের আগামীর সভ্যতার অস্তিত্ব।

     

    • ডা. এ বি চোধুরী অমি
    • মনোরোগ বিশেষজ্ঞ

    শিশু নিগ্রহ শিশু নির্যাতন
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Reddit WhatsApp Telegram Email
    Previous Articleএকজন মানুষ কীভাবে শিশু-ধর্ষক হয়ে ওঠে? একটি মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান
    Next Article শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: মানবমনের অন্ধকারতম স্তরের নির্মম বহিঃপ্রকাশ
    Moner Khabor

    Related Posts

    ধর্ষণ, হত্যা এসব কেমন মানসিকতার কাজ!

    May 24, 2026

    শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: মানবমনের অন্ধকারতম স্তরের নির্মম বহিঃপ্রকাশ

    May 24, 2026

    একজন মানুষ কীভাবে শিশু-ধর্ষক হয়ে ওঠে? একটি মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান

    May 23, 2026
    Leave A Reply Cancel Reply

    Top Posts

    অতিরিক্তি হস্তমৈথুন থেকে মুক্তির উপায়

    July 25, 2021316 Views

    অভিভাবকত্ব শুধুমাত্র লালন-পালনের নাম নয়, এটি একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া

    June 30, 2025300 Views

    বাংলাদেশি মনোরোগ চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

    July 2, 2025209 Views

    পর্নোগ্রাফি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখবেন যেভাবে

    March 13, 2022118 Views
    Don't Miss
    ফিচার November 5, 2026

    জীবন সঙ্গীর মৃত্যু

    স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা। মানুষের যতগুলো স্ট্রেস আছে তাঁর মধ্য সবথেকে…

    আমাদের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দিচ্ছে চীন-পাকিস্তান।

    মানসিক স্বাস্থ্যে সচেতনতা এবং সেবায় সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

    কাজে মন নেই, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, মাঝে মাঝে আত্মহত্যার চিন্তা—কী করব?

    Stay In Touch
    • Facebook
    • Twitter
    • Pinterest
    • Instagram
    • YouTube
    • Vimeo
    আমাদের সম্পর্কে
    আমাদের সম্পর্কে

    প্রকাশক ও সম্পাদক:
    অধ্যাপক ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
    মোবাইল : (+88) 018-65466594, (+88) 014-07497696
    ইমেইল : info@monerkhabor.com

    লিংক
    • মাসিক ম্যাগাজিন প্রাপ্তিস্থান
    • কনফারেন্স-সেমিনার-ওয়ার্কশপ
    • প্রেজেন্টেশন
    • জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট
    রিসোর্স
    • পরিচালনা পর্ষদ
    • মানসিক বিষয়ে সংগঠন
    • বিশেষজ্ঞ লোকবল
    • নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
    সোশ্যাল মিডিয়া
    • Facebook
    • YouTube
    • LinkedIn
    • WhatsApp
    © 2026 মনেরখবর সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
    • আমাদের সম্পর্কে
    • যোগাযোগ
    • গোপনীয়তা নীতি

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    Ad Blocker Enabled!
    Ad Blocker Enabled!
    Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors. Please support us by disabling your Ad Blocker.