গর্ত দেখলেই আমার মনে হয় আমি এর নিচে চলে যাবো

সমস্যা:
আমার বয়স ৩৪ বছর। আমার সমস্যা হলো আমি একা বাইরে যেতে পারি না, মনে হয় আমার কিছু একটা হয়ে যাবে। সব থেকে বড় সমস্যা হলো যে কোনো সাইজের গর্ত দেখলেই আমার মনে হয় আমি এর নিচে চলে যাবো, গর্তগুলো যদি অনেক ছোট থাকে তাহলেও একই রকম মনে হয়, আর সেজন্য বাথরুমেও যেতে পারি না। আমার হাজব্যান্ড বাসায় থাকলে তাকে দরজার পাশে দাঁড় করিয়ে কোনো রকম বাথরুমের কাজ সম্পন্ন করি। এসব কারণে আমি কারো বাসায় যেতে পারি না, কোনো কিছুতেই অংশ নেই না। সারাক্ষণ নিজের ঘরের মধ্যে থাকি। আমি আর সবার মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চাই। আমার এমন কেন হয়? এর থেকে উত্তরণের উপায় কী? দয়াকরে আমাকে সাহায্য করেন।

পরামর্শ:
প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার সমস্যাগুলি কতদিন যাবৎ কিংবা কি প্রেক্ষিতে শুরু হয়েছে তা  উ্লেখ করেননি। মানুষ হঠাৎ করে বিশেষ কোনো চাপের মধ্যে পড়ে গেলেও এমন সমস্যা হতে পারে। আপনার সমস্যা সম্পর্কে আরো কিছু গুরুত্বপূ্র্ণ তথ্য জানা প্রয়োজন। যেমন আপনার মনে গর্ত সংক্রান্ত ভয় আসলে আপনি তা মন থেকে সরানোর চেষ্টা করেন কিনা কিংবা তা সরানোর জন্য বিশেষ কোনো আচরণ করেন কিনা, আপনার ঘুমের সমস্যা অথবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কিনা ইত্যাদি। তবে আপনার ইতিহাস থেকে এটা বলা যায় যে, আপনি Obsessive Disorder এ ভুগছেন এবং পাশাপাশি উদ্বেগজনিত রোগের লক্ষণও আছে।

সেজন্য আপনার সমস্যা সম্পর্কে পুরোপুরি জানতে এবং এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে অবশ্যই একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। হয়তো বা আপনার ওষুধের পাশাপাশি বিহেভিয়ার থেরাপীরও প্রয়োজন হতে পারে। পুরোপুরি সুস্থতার জন্যে আপনার দীর্ঘমেয়াদী  চিকিৎসার প্রয়োজন আছে। সাময়িকভাবে এখন আপনি Cap Modipran 20mg  সকালে একটা এবং যদি রক্তের চাপ স্বাভাবিক থাকে ও শ্বাসকষষ্টজনিত কোনো সমস্যা না থাকে তাহলে Tab Indever 10 mg সকালে একটা ও রাতে একটা খেতে পারেন। তবে অবশ্যই এই চিকিৎসা মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শব্যতীত বেশি দিন চালানো ঠিক হবে না।

আপনার মনের ভয়কে পাত্তা না দিয়ে নিজেকে সবসময় কাজের মধ্যে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করুন। নিয়মিত ব্যয়াম করুন। আপনার শীঘ্রতম সুস্থতা কামনা করছি।

পরামর্শ দিচ্ছেন,
ডা. সুস্মিতা রায়


দৃষ্টি আকর্ষণ- মনেরখবর.কম এর প্রশ্ন-উত্তর বিভাগে, মানসিক স্বাস্থ্য, যৌন স্বাস্থ্য, মাদকাসক্তি সহ মন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আপনার কোনো জানার থাকলে বা প্রশ্ন থাকলে বা বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দরকার হলে question@www.monerkhabor.com এই ইমেলের মাধ্যমে প্রশ্ন পাঠাতে পারেন।

Previous articleমাঝে মাঝেই সে অজ্ঞান হয়ে যায়
Next articleশিশুর বিকাশ পর্ব ৭- আট থেকে এগারো বছর
অধ্যাপক ডা. সুস্মিতা রায়
অধ্যাপক, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ, সিলেট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here