ক্রীড়া মনোবিদ্যার উৎপত্তি ও ইতিহাস

0
134
অ্যামেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, ক্রীড়া মনোবিদ্যা, মনোবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা,
শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

ক্রীড়া মনোবিদ্যা বা স্পোর্টস সাইকোলজি’র এর ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। । প্রথম নরমান ট্রিপলেট নামক একজন মনোবিদ এই বিষয় নিয়ে কাজ করেন । তিনি ১৮৯৮ সালে গবেষণা করে সোশ্যাল‘ social facilitation’ নামের একটি তত্ত্ব দেন।

তিনি দেখান, একজন সাইক্লিস্ট একা যখন সাইক্লিং (সাইকেল চালান) তখন যে গতিতে সাইক্লিং করেন তার চেয়ে যখন সে অন্য সাইক্লিস্টের সঙ্গে যখন প্রতিযোগিতায় নামেন তখন তার গতি বেড়ে যায়। অর্থাৎ কাজের সময় মানুষের উপস্থিতি আমাদের কাজের গতিকে প্রভাবিত করে ।

ট্রিপলেট-এর গবেষণা আর বেশিদুর প্রসারিত হয়নি। এরপর Coleman Grifith ১৯২৫ সালে University of Illinois এ প্রতিষ্ঠা করেন Athletic Research Laboratory। স্পোর্টস সাইকোলজির সর্ব প্রথম গবেষণা কেন্দ্র এটি। তিনি শুধু গবেষণা কেন্দ্রই স্থাপন করেন নি, লিখেছিলেন ২টি পাঠ্যবই এবং স্পোর্টস সাইকোলজিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর উপযোগী একটি কোর্স তিনি প্রণয়ন করেন। এতসব কাজের জন্য Coleman Grifith কে বলা হয় স্পোর্টস সাইকোলজি’র জনক। তবে এতসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই গবেষণা কেন্দ্রটির কার্যক্রম ১৯৩২ সালে অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় ।

১৯৩০ থেকে ১৯৬০ এই দীর্ঘ সময়ে এর কার্যক্রম একটু স্তিমিত হয়ে পড়ে । ১৯৬০ সালে সর্বপ্রথম মেলবোর্ন অলিম্পিকে Melbourne Olympics এ পূর্ব ইউরোপ এর কিছু দেশ তাদের দলে ক্রীড়া মনোবিদ (স্পোর্টস সাইকোলজিস্ট) অন্তর্ভুক্ত করে । ধীরে ধীরে সেসময়ের সোভিয়েত দেশগুলো ইউনিয়ন ও জার্মানিতে এর প্রচলন ব্যাপকভাবে হয় । ১৯৭০ সালের পর থেকে স্পোর্টস সাইকোলজি ব্যাপকভাবে সমাদৃত এবং জনপ্রিয় বিদ্যা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে । সেই থেকে আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি । ধীরে ধীরে এর কার্যক্রম এবং প্রসার শুধুই বিস্তার লাভ করেছে পৃথিবীর সকল ক্রীড়াপ্রেমী দেশ গুলোয় ।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৬ সালে অ্যামেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (American Psychological Association) ও ১৯৯৩ সালে ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল সোসাইটি (British Psychological Society) স্পোর্টস সাইকোলজিকে মনোবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
আমাদের দেশে কাজের প্রচুর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মনোবিজ্ঞানের এই গুরুত্বপূর্ণ শাখাটি এখনো তেমন জনপ্রিয় হতে পারেনি । তাই দেশের বাইরে থেকে আমাদের নিয়ে আসতে হয় ভালমানের স্পোর্টস সাইকোলজিসট।
সেদিন নিশ্চয়ই দূরে নয় যেদিন এদেশেও আন্তরজিক মানের স্পোর্টস সাইকোলজিসট তৈরি হবে এবং দেশে বিদেশে তাদের কজের পরিধি ছড়িয়ে যাবে ।

মন ও ক্রীড়া ডেস্ক
মনের খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here