আপনি বিষণ্ণতা রোগে ভুগছেন

আপনি বিষণ্ণতা রোগে ভুগছেন

সমস্যা: আমার বয়স ২২ বছর। নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। আমি ঢাকা শহরের অনেক জায়গায় ডাক্তার দেখিয়েছি কিন্তু তেমন কোনো উপকার পাইনি। ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ নিচ্ছি ৬ মাস। ঔষধের নাম এস সিটাপ্রাম 10mg আর টেলাজিন 1mg। ঔষধ নিচ্ছি ১বেলা করে। আমার প্রচুর ঘুম হয়, অলস লাগে এবং মন খারাপ থাকে। কোনো কাজে তেমন আগ্রহ পাই না। তাই মনেরখবরে প্রশ্ন পাঠালাম। আমার আরো কিছু বিষয়ে জানার আছে। যেমন-
১। মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো যায় কীভাবে?
২। মানুষের মানসিক শক্তি বাড়ে কী করলে?
৩। অস্থিরতা কমানোর উপায় কী কী?
৪। দুশ্চিন্তা দূরে রাখা যায় কী করে?
আশা করি সাহায্য করবেন ।
পরামর্শ: ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর প্রশ্নটির জন্য। আপনার সমস্যাটি আরেকটু বিস্তারিতভাবে জানালে সুবিধা হতো। তবে যতটুকু জানিয়েছেন, তাতে ধারণা করছি আপনি বিষণ্ণতা রোগে ভুগছেন। লক্ষ করবেন, আমি রোগ শব্দটি ব্যবহার করেছি। কারণ এটা আর দশটা মানুষের মন খারাপের চেয়েও বেশি কিছু। আর এই  বিষণ্ণতা রোগের চিকিৎসায় একই সাথে ঔষধ এবং সাইকোথেরাপির ভূমিকা রয়েছে। সেক্ষেত্রে সমস্যার মাত্রা আগে বুঝতে হবে, যে কারণে বিস্তারিত জানাটা জরুরি। যা-ই হোক, আপনার দেয়া তথ্য অনুসারে আপনার প্রশ্নের উত্তর এবং করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করছি।
ঔষধের ক্ষেত্রে বলা যায়, আপনি টেলাজিনটা আপাতত বন্ধ রাখতে পারেন, ঘুম বেশি হবার সমস্যাটা থাকবে না। আর ঔষধের পাশাপাশি আপনার প্রয়োজন সাইকোথেরাপি। বিষণ্ণতার নির্দিষ্ট ধরণের সাইকোথেরাপি আছে, যেটার মাধ্যমে আপনি যেই প্রশ্নগুলো করেছেন তার উত্তর পেয়ে যাবেন।
অল্প কথায় বলি, আত্মবিশ্বাস-মানসিক শক্তি কমা, অস্থিরতা-দুশ্চিন্তা বেড়ে যাওয়া অনেক কারণেই হতে পারে। যেহেতু আপনার বিষণ্ণতা রোগ থাকার সম্ভাবনা, তাই এই রোগের যথাযথ চিকিৎসা করলেই আপনার কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাওয়া সম্ভব। তাই ইতোমধ্যে যদি আপনি ঔষধের পাশাপাশি সাইকোথেরাপি না নিয়ে থাকেন, তবে সে ব্যাপারে কারো সহায়তা নিন। সাইকোথেরাপি অনেকেই দেন, অনেক কেন্দ্রে দেওয়া হয়। আপনার সুবিধা ও আর্থিক সামর্থ্য অনুসারে আপনি এসব জায়গা থেকে সাইকোথেরাপি নিতে পারেন। কম খরচের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাসিরউল্লাহ সাইকোথেরাপি ইনস্টিটিউট, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতলের মনোরোগবিদ্যা বিভাগে যোগাযোগ করতে পারেন।
এদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১নং বহির্বিভাগের ৫১৩ নং কক্ষে প্রতি সোমবার সকাল ৯টা থেকে সাইকোথেরাপির জন্য রেজিস্ট্রেশন করা হয়, যার জন্য ৩০ টাকার একটি বহির্বিভাগের টিকেট কিনতে হয়। পরবর্তী সময়ে প্রতি সেশনে সাধারণত ৩০০ টাকা করে ফি দিতে হয়।
সেবা নিন, ভালো থাকুন। আবারো ধন্যবাদ।

শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।
Previous article নিজেকে ৫ শতাংশ ভালো রাখার ৬ টি উপায়
Next article মাসিক মনের খবর-এর এপ্রিল সংখ্যা বাজারে
ডা. পঞ্চানন আচার্য্য। স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রাম। তবে, কলেজ শিক্ষক মায়ের চাকুরিসূত্রে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কেটেছে শৈশব। মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবং উচ্চ-মাধ্যমিক চট্টগ্রাম কলেজ থেকে। সিলেট এম. এ. জি. ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এম.বি.বি.এস পাসের পর সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। মেডিক্যালে পড়ার সময় থেকেই মনোরোগ নিয়ে পড়ার প্রতি আগ্রহ। তাই, ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্ধারিত সময়ের চাকুরি শেষে ভর্তি হন মনোরোগবিদ্যায় এম.ডি(রেসিডেন্সি) কোর্সে। বর্তমানে তিনি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত শিক্ষকতার ধারা বজায় রেখে চিকিৎসক ও শিক্ষক হওয়াটাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। বই, সঙ্গীত আর লেখালেখিতেই কাটে অবসর সময়ের বেশির ভাগ। স্বপ্ন দেখেন - মেধা ও মননশীলতার চর্চায় অগ্রগামী একটা বাংলাদেশের।

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here