প্রশ্ন– আমার নাম বিথি। আমি খুব ছোটোবেলায় বেশ কয়েকবার হ্যারাসমেন্টের শিকার হয়েছি। ছোট্ট মেয়ে বলে কাছে ডেকে আদর করার বাহানায় দাদার বয়সি, বাবার বয়সি লোক আমার প্রাইভেট পার্টে হাত দিয়েছে। এরপর রাস্তার ভিড়ে, বাসে অচেনা লোকজন ঠিক কতবার গায়ে হাত দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মাঝে মাঝে মনে হয় এটাই কি জীবন? নিজের পরিবার ছাড়া অন্য কোনো পুরুষ মানুষকে আমি সহ্য করতে পারি না। কেউ আমার দিকে তাকালে অসম্ভব ভয় হয়। মনে হয় আবার হ্যারাস হবো। এসব ভাবতে ভাবতে আমি প্রচণ্ড পরিমাণে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছি। আমি এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চাই।
আরও পড়ুন…
পরামর্শ– প্রশ্নটি করার জন্য ধন্যবাদ। প্রথমেই বলি-আপনার অভিজ্ঞতা যেমন হৃদয়বিদারক, তেমনি সাহসিকতার সাথেই আপনি তা প্রকাশ করেছেন। আপনার প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা জানাচ্ছি। ছোটোবেলায় যৌন নিপীড়নের মতো ট্রমা একজন মানুষের মনোজগতে গভীরভাবে দাগ কাটে। এর ফলে যে আতঙ্ক, সংশয় ও অবিশ্বাস তৈরি হয়, তা একেবারেই স্বাভাবিক। আপনি যে প্রতিক্রিয়াগুলো অনুভব করছেন-ভয়, আতঙ্ক, পুরুষদের প্রতি অবিশ্বাস, সামাজিক পরিবেশে অস্বস্তি-এসবই Post-Traumatic Stress Disorder (PTSD) এর লক্ষণ হতে পারে। আপনি আপাতত ‘Serolux 50mg’ নামক একটি ওষুধ প্রতিদিন সকালে খাবেন। নিয়মিত এই ওষুধ সেবনের মাধ্যমে মানসিক ভারসাম্য ধীরে ধীরে উন্নতি পাবে। তবে মনে রাখতে হবে, এই ওষুধটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে এবং যেকোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে জানাবেন।
আপনার EMDR থেরাপি (Eye Movement Desensitization and Reprocessing) প্রয়োজন। এটি একটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত মনোরোগ চিকিৎসা পদ্ধতি, যা মূলত ট্রমা বা মানসিক আঘাতের স্মৃতি প্রসেস করে আপনাকে সেগুলোর প্রভাব থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করে। একজন প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের সহায়তায় এই থেরাপিতে চোখের নড়াচড়া বা অন্য ধরনের সংবেদনশীল উদ্দীপনার মাধ্যমে ব্রেইনে সেই কষ্টদায়ক স্মৃতিগুলো পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করা হয়, যাতে সেগুলোর ভয়াবহতা হ্রাস পায় এবং সেগুলোর প্রতি আপনার প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক হয়। এর পাশাপাশি আপনি অবশ্য একজন প্রফেশনাল সাইকিয়াট্রিস্ট এবং থেরাপিস্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। থেরাপি শুরু করলে তা ধৈর্যসহকারে চালিয়ে যান-প্রথম কয়েক সেশনেই বড়ো পরিবর্তন আশা করবেন না, কিন্তু ধীরে ধীরে আপনি স্বস্তি পেতে শুরু করবেন। নিজেকে দোষ দেবেন না-এই সহিংসতার জন্য আপনি দায়ী নন। পরিবার বা কাছের বন্ধুদের সঙ্গে নিজের অনুভূতির কথা ভাগ করে নিন। সহানুভূতিশীল সাপোর্ট সিস্টেম মানসিক সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখে।
- অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শফিউল হাসান
- এমবিবিএস, ডিপিএম
- অধ্যাপক, মানসিক ও স্নায়ু রোগ বিভাগ
- ইউএসটিসি, চট্টগ্রাম।
আরও পড়ুন…


