ঢাকা গাজার শিশুদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং তাদের কল্যাণে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে এক ব্যতিক্রমী শিল্প প্রদর্শনী— ‘ইকোস অফ হোপ: চিলড্রেন ফর চিলড্রেন’। উখিয়ার শরণার্থী, আদিবাসী এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আঁকা ছবি ও তাদের হাতে লেখা চিঠির এই প্রদর্শনীটি আয়োজন করেছে মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সংহতি নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘হোপওয়েভ ফাউন্ডেশন’।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় ধানমন্ডিস্থ আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা-র ‘লা গ্যালারি’-তে এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। প্রদর্শনীটি ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে উখিয়াতে শিশুদের জন্য পরিচালিত তিন দিনব্যাপী একটি মনোসামাজিক আর্ট ক্যাম্পেইনের শিল্পকর্ম, হাতে লেখা চিঠি, আলোকচিত্র এবং প্রামাণ্য দলিল। উখিয়ার শিশুরা, যারা নিজেরাও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে উঠছে, তারা গাজার শিশুদের জন্য তাদের যত্ন, সহনশীলতা এবং অভিন্ন মানবতার বার্তা তুলে ধরেছে এই কাজের মাধ্যমে।
প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন হোপওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, কবি ও সমাজকর্মী মুনিমা মাহরিন। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বকে দেখাতে চাই যে, যেসব শিশু নিজেরাও অদৃশ্য ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছে, তারা কীভাবে নিস্তব্ধতার বদলে সহানুভূতি এবং হতাশার বদলে আশাকে বেছে নেয়”।
তহবিল সংগ্রহ ও সহযোগিতা
প্রদর্শনীটি মূলত গাজার শিশুদের জন্য একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ, যা ‘প্যাকসক’ (PACSOC)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত হচ্ছে। এই প্রদর্শনী থেকে প্রাপ্ত সমস্ত অনুদান ‘ওউনেহ ইনিশিয়েটিভ’ (Owneh Initiative)-এর মাধ্যমে সরাসরি গাজার শিশুদের জন্য ব্যয় করা হবে।
চার দিনের বিশেষ কর্মসূচি
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়াও আগামী চার দিন প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও সাংস্কৃতিক সেশন অনুষ্ঠিত হবে:
- ৭ জানুয়ারি: বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ডাঃ ফাবিহা বুশরার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ ‘সাইকো-সোশ্যাল সেশন’।
- ৮ জানুয়ারি: বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ‘আর্ট অ্যান্ড রেজিস্ট্যান্স’ বিষয়ক ডকুমেন্টারি ফিল্ম মেকিং ওয়ার্কশপ এবং সন্ধ্যা ৫:৩০টা থেকে বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।
- ৯ জানুয়ারি: বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সামিন ইয়াসার এবং হাসান মুনহামানহা-র পরিচালনায় মিউজিক কম্পোজিশন ওয়ার্কশপ এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
হোপওয়েভ ফাউন্ডেশন প্রসঙ্গে
২০২৪ সালের জুলাই মাসে যাত্রা শুরু করা হোপওয়েভ ফাউন্ডেশন মূলত শিল্পকলা ও মনোসামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে কাজ করে। জুলাই বিপ্লবে ক্ষতিগ্রস্তদের ট্রমা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। বর্তমানে তারা শিল্পের মাধ্যমে বৈশ্বিক সংহতি এবং মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, এই প্রদর্শনীর সায়েন্টিফিক ও পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, প্যাকসক (PACSOC) এবং ওউনেহ ইনিশিয়েটিভ।
আরও পড়ুন :


