কর্মক্ষেত্রে নারীর মানসিক চাপ কমাতে করণীয়

কর্মক্ষেত্রে নারীর মানসিক চাপ কমাতে করণীয়

জীবনের প্রয়োজনে হোক বা জীবিকার প্রয়োজনেই হোক বেশিরভাগ নারীকেই এখন কিছু না কিছু কাজ করতেই হয়। কর্পোরেট অফিস থেকে সরকারি অফিস সবখানেই নারীরা নিজের যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন পরিপার্শ্বিক কারণে নারীকে কর্মক্ষেত্রে মানসিকভাবে অনেক চাপে থাকতে হয়।

সুস্বাস্থ্যের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য অপরিহার্য। তাই শরীরের মতো মনেরও যত্ন নেয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কর্মক্ষেত্রে নারীর মানসিক চাপ কমাতে নেয়া যেতে পারে কিছু পদক্ষেপ :

কর্মক্ষেত্রে যাতে নারী-পুরুষ বৈষম্য না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেকসময় একই মানের কাজ করেও নারীরা পুরুষের সমান সুযোগ-সুবিধা পান না। তাই নারীদের কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে এবং মূল্যায়ন করতে হবে।

অনেকসময় নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করাকে সমাজে বা তাদের পরিবারে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়। এতে তাদের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং মানসিক চাপ দেখা দেয়। তাই নারীদের কাজে যাওয়ার জন্য ইতিবাচক ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

অফিসে কাজে একঘেয়েমি যাতে না আসে সেজন্য কাজের পাশাপাশি বিনোদনমূলক কার্যক্রম চালু রাখলে কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ পরস্পরের সঙ্গে স্বচ্ছ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।

পুরুষকর্মীদের অসহযোগিতাপূর্ণ এবং অশোভন আচরণ নারীদের মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। তাই তাদের নারীকে একজন নারী হিসেবে না দেখে সহকর্মী হিসেবে ভাবতে হবে।

যেসব নারীকর্মীর শিশুসন্তান রয়েছে, তারা বাচ্চাদের জন্য চিন্তায় থাকেন এবং মানসিক চাপে ভোগেন। তাই তাদের জন্য কর্মক্ষেত্রেই ‘শিশু যতান কেন্দ্র’ থাকলে তারা অনেকটা মানসিক চাপমুক্ত থাকবেন এবং কাজে মনোযোগ দিতে পারেন।

কর্মজীবী হলেও ঘর সামলানোর দায়িত্ব নারীর ওপরই থাকে। দেখা যায় একজন নারী কর্মক্ষেত্র থেকে ফিরে সংসার-সন্তানদের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি ছুটির দিনগুলোতে তার কাজের চাপ থাকে আরো বেশি। সারা সপ্তাহের জমে থাকা কাজ তিনি সেদিন সম্পন্ন করে। তার বিশ্রামের সুযোগ থাকে না।

ঘরের কাজ শুধু নারীর দায়িত্ব এই ধারণা ভেঙে যদি সংসারে স্বামী-স্ত্রী সমানভাবে কাজ করেন তাহলে কর্মক্ষেত্রেও নারীর মানসিক চাপ কম থাকবে, কাজের গুণগত মান আরো বৃদ্ধি পাবে।

মাহজাবিন আরা শান্তা- প্রতিবেদক, মনের খবর

/এসএস

শেয়ার করুন, সাথে থাকুন। সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে।

No posts to display

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here